ভারতের সবচেয়ে বড় মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষা নিট-ইউজি ঘিরে প্রশ্নফাঁসের অভিযোগ এখন দেশজুড়ে বড় রাজনৈতিক ও শিক্ষাগত সংকটে পরিণত হয়েছে। পরীক্ষার স্বচ্ছতা নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন ওঠার পর জাতীয় পরীক্ষা সংস্থা চলতি বছরের পরীক্ষা বাতিল করেছে। এর ফলে প্রায় ২২ লাখ শিক্ষার্থী নতুন করে অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে।
গত ৩ মে অনুষ্ঠিত পরীক্ষার পর বিভিন্ন রাজ্যে প্রশ্নপত্র আগেই ছড়িয়ে পড়ার অভিযোগ সামনে আসে। তদন্তকারীরা বলছেন, এটি ছিল সুসংগঠিত আন্তঃরাজ্য চক্রের কাজ। প্রশ্নপত্র বিভিন্ন কোচিং সেন্টার, ছাত্র, হোস্টেল পরিচালনাকারী এবং দালালদের মাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়া হয়েছিল বলে অভিযোগ উঠেছে। পরে সেই প্রশ্ন টেলিগ্রাম ও হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপের মাধ্যমেও ছড়িয়ে পড়ে।
তদন্তে কেন্দ্রীয় সংস্থা

ঘটনার গুরুত্ব বিবেচনায় তদন্তভার কেন্দ্রীয় তদন্ত সংস্থার হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে। তদন্তকারীরা ইতোমধ্যে একাধিক রাজ্যে অভিযান চালিয়ে মোবাইল ফোন, ল্যাপটপসহ বিভিন্ন ডিজিটাল ডিভাইস জব্দ করেছে। এখন পর্যন্ত কয়েকজনকে গ্রেপ্তারও করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, প্রশ্নপত্র বিক্রি করে কোটি টাকার লেনদেন হয়েছে।
তদন্তে উঠে এসেছে, প্রথমে সীমিত কয়েকজনের হাতে প্রশ্ন পৌঁছালেও পরে তা ধাপে ধাপে আরও বড় চক্রের কাছে চলে যায়। বিভিন্ন পর্যায়ে প্রশ্নপত্র বিক্রির দামও বেড়েছে বলে দাবি তদন্তকারীদের।
কোচিং চক্রের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন
ভারতের কোচিংনির্ভর শিক্ষা ব্যবস্থাও এবার বড় প্রশ্নের মুখে পড়েছে। বিশেষ করে রাজস্থানের কোচিং হাব এলাকাগুলোতে আগেই ‘গেস পেপার’ নামে প্রশ্ন বিতরণের অভিযোগ এসেছে। সেই প্রশ্নপত্রের মধ্যেই আসল পরীক্ষার বহু প্রশ্ন ছিল বলে দাবি তদন্ত কর্মকর্তাদের।
এ ঘটনায় অভিভাবক ও শিক্ষার্থীদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ তৈরি হয়েছে। অনেকেই বলছেন, দীর্ঘ প্রস্তুতি ও মানসিক চাপের পর এমন ঘটনা মেধাবী শিক্ষার্থীদের প্রতি অন্যায়। পুনরায় পরীক্ষা নেওয়ার সিদ্ধান্তে নতুন করে উদ্বেগ ও হতাশা তৈরি হয়েছে।

রাজনৈতিক উত্তাপ বাড়ছে
প্রশ্নফাঁস কাণ্ড এখন রাজনৈতিক লড়াইয়েও রূপ নিয়েছে। বিরোধী দলগুলো কেন্দ্রীয় সরকারের জবাবদিহি দাবি করেছে। শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ চাওয়ার পাশাপাশি পরীক্ষাব্যবস্থার বড় ধরনের সংস্কারের দাবিও উঠেছে। অন্যদিকে কয়েকটি রাজ্যের নেতা পুরো নিট পদ্ধতি বাতিলের দাবি পুনরায় সামনে এনেছেন।
বিশেষজ্ঞদের মতে, শুধুমাত্র পুনরায় পরীক্ষা নিলেই সমস্যার সমাধান হবে না। প্রশ্নপত্র সংরক্ষণ, ডিজিটাল নিরাপত্তা এবং পরীক্ষার প্রযুক্তিগত ব্যবস্থায় বড় পরিবর্তন আনা জরুরি। আদালতেও এ নিয়ে একাধিক আবেদন জমা পড়েছে।
শিক্ষার্থীদের দুশ্চিন্তা বাড়ছে
সবচেয়ে বেশি চাপের মধ্যে রয়েছে পরীক্ষার্থীরা। অনেক শিক্ষার্থী বলছে, কয়েক মাসের কঠোর পরিশ্রমের পর আবার নতুন করে পরীক্ষার প্রস্তুতি নেওয়া মানসিকভাবে অত্যন্ত কঠিন। বিশেষ করে গ্রামাঞ্চল ও স্বল্প আয়ের পরিবারের শিক্ষার্থীরা সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।
ভারতের মেডিকেল ভর্তি ব্যবস্থার বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে এই ঘটনায় নতুন করে বড় প্রশ্ন তৈরি হয়েছে। এখন সবার নজর তদন্তের ফলাফল এবং ভবিষ্যতে এমন ঘটনা ঠেকাতে কী ব্যবস্থা নেওয়া হয় সেদিকেই।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















