ভারতের ব্যবসায়ী সঞ্জয় কপুরের মৃত্যুর পর তাঁর বিপুল সম্পত্তি ও উইল ঘিরে চলমান পারিবারিক বিরোধ নতুন মোড় নিয়েছে। এবার কপুর পরিবারকে নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আপত্তিকর মন্তব্য করার অভিযোগে দিল্লি পুলিশ গ্রেপ্তার করেছে পরিচিত সামাজিকমাধ্যম ব্যক্তিত্ব ‘দ্য স্কিন ডক্টর’ নামে পরিচিত চিকিৎসক নীলম সিংকে।
বুধবার দিল্লির বসন্ত কুঞ্জ থানায় কপুর পরিবারের পক্ষ থেকে অভিযোগ দায়ের করা হলে পুলিশ দ্রুত ব্যবস্থা নেয়। অভিযোগের ভিত্তিতে নীলম সিংকে জিজ্ঞাসাবাদ শেষে আটক করা হয়। পরে কয়েক ঘণ্টা পর তিনি জামিন পান।
সামাজিকমাধ্যমে বিতর্কিত পোস্ট

নীলম সিং নিজেকে সামাজিক ও রাজনৈতিক বিষয়ে সরব একজন চর্মরোগ বিশেষজ্ঞ হিসেবে পরিচয় দেন। সামাজিকমাধ্যমে তাঁর অনুসারীর সংখ্যাও উল্লেখযোগ্য।
ভাইরাল হওয়া কিছু স্ক্রিনশটে দেখা যায়, তিনি সঞ্জয় কপুরের স্ত্রীকে নিয়ে মন্তব্য করেছেন এবং ব্যবসায়ীর মৃত্যুর আগে দ্রুত উইল করার বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। যদিও পোস্টগুলো পরে মুছে ফেলা হয় এবং সেগুলোর সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
এই ঘটনাকে ঘিরে সামাজিকমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে। কেউ মতপ্রকাশের স্বাধীনতার প্রশ্ন তুলছেন, আবার কেউ বলছেন ব্যক্তিগত ও পারিবারিক বিষয়ে সীমা লঙ্ঘন করা হয়েছে।
৩০ হাজার কোটি রুপির সম্পত্তি নিয়ে বিরোধ
সঞ্জয় কপুরের মৃত্যুর পর তাঁর প্রায় ৩০ হাজার কোটি রুপির সম্পত্তি নিয়ে পরিবারে বিরোধ তীব্র আকার নিয়েছে। বিষয়টি এখন ভারতের সর্বোচ্চ আদালত পর্যন্ত গড়িয়েছে।

সাম্প্রতিক শুনানিতে আদালতের বিচারপতি মন্তব্য করেন, এই বিরোধের তুলনায় মহাভারতের যুদ্ধও ছোট মনে হতে পারে। আদালতে পরিবার ট্রাস্ট, কোম্পানির বোর্ড বৈঠক এবং সম্পত্তি ব্যবস্থাপনা নিয়ে একের পর এক অভিযোগ উত্থাপিত হয়েছে।
গত সপ্তাহে আদালত সাবেক প্রধান বিচারপতিকে মধ্যস্থতাকারী হিসেবে নিয়োগ দেয়, যাতে পারিবারিক দ্বন্দ্বের সমাধান সম্ভব হয়।
সঞ্জয় কপুরের মা রানি কপুর আদালতের কাছে আবেদন করেছেন, যাতে মামলার নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত ট্রাস্টের কার্যক্রমে অন্য পক্ষ হস্তক্ষেপ করতে না পারে।
লন্ডনে মৃত্যু
অটো যন্ত্রাংশ নির্মাতা প্রতিষ্ঠানের চেয়ারম্যান সঞ্জয় কপুর ২০২৫ সালের জুনে লন্ডনে পোলো খেলতে গিয়ে মারা যান। পরে প্রকাশিত প্রতিবেদনে জানানো হয়, তাঁর মৃত্যু স্বাভাবিক কারণে হয়েছে। হৃদরোগজনিত জটিলতাকেই মৃত্যুর কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়।
তাঁর মৃত্যুর পর থেকেই পরিবারে সম্পত্তি ও উত্তরাধিকার নিয়ে টানাপোড়েন প্রকাশ্যে আসে। এবার সেই বিরোধ সামাজিকমাধ্যম ও আইনি লড়াইয়ের নতুন অধ্যায়ে পৌঁছেছে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















