ভারতের রাজধানী দিল্লিতে আবারও নারী নিরাপত্তা নিয়ে বড় প্রশ্ন উঠেছে। চলন্ত বাসের ভেতরে এক নারীকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের অভিযোগে বাসের চালক ও সহকারীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। ঘটনাটি ঘিরে রাজধানীজুড়ে তীব্র উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
পুলিশ জানায়, ওই নারী উত্তর-পশ্চিম দিল্লির একটি কারখানায় কাজ করেন। কাজ শেষে সোমবার গভীর রাতে তিনি বাড়ি ফিরছিলেন। পথে কিছুটা দূর ই-রিকশায় যাওয়ার পর বাকি পথ হেঁটে যাচ্ছিলেন তিনি। রাত প্রায় ১২টার দিকে সরস্বতী বিহারের একটি বাসস্ট্যান্ডের কাছে একটি স্লিপার বাস থামে।
অভিযোগ অনুযায়ী, বাসের কাছে দাঁড়িয়ে থাকা এক ব্যক্তির কাছে সময় জানতে চাইলে তাকে বাসের কাছে যেতে ইশারা করা হয়। এরপর বাসে তুলে নিয়ে চালক ও সহকারী মিলে তার ওপর যৌন নির্যাতন চালায়। নারীটির অভিযোগ, চলন্ত বাসটি কয়েক কিলোমিটার পথ অতিক্রম করার সময় তার ওপর নির্যাতন চলে।

পরে বাসটি নাংলোই মেট্রো স্টেশনের কাছে থামানো হয়। সেখানে তাকে ফেলে রেখে পালিয়ে যায় অভিযুক্তরা। পরে ভুক্তভোগী পুলিশে অভিযোগ দায়ের করলে তদন্ত শুরু হয়।
গ্রেপ্তার দুই অভিযুক্ত
ঘটনার পরপরই তদন্তে নামে দিল্লি পুলিশ। বাসটি শনাক্ত করার পর চালক ও সহকারীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে জানানো হয়েছে। পুলিশ বলছে, ঘটনার বিভিন্ন দিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে এবং বাসটির গতিবিধিও পরীক্ষা করা হচ্ছে।
এই ঘটনায় রাজধানীতে নারী নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে সমালোচনা শুরু হয়েছে। বিশেষ করে গভীর রাতে গণপরিবহনে নারীদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ আরও বেড়েছে।

আরেক নির্যাতনের ঘটনায় রাজনৈতিক উত্তেজনা
এদিকে দিল্লিতে আরেকটি যৌন নির্যাতনের ঘটনাকে ঘিরেও রাজনৈতিক উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। জনকপুরীর একটি স্কুলে তিন বছরের এক শিশুকে যৌন নির্যাতনের অভিযোগে বিরোধী দল আম আদমি পার্টি বিক্ষোভ করে।
দলটির নেতারা রাজ নিবাসের সামনে অবস্থান নিয়ে প্রশাসনের সঙ্গে বৈঠকের দাবি জানান। পরে পুলিশ কয়েকজন নেতাকে আটক করে। এ ঘটনায় রাজনৈতিক মহলে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে।
বিরোধী নেতারা অভিযোগ করেছেন, নির্যাতনের শিকার পরিবারের ওপর চাপ সৃষ্টি করা হচ্ছে। তারা বলছেন, দোষীদের বিচারের দাবিতে আন্দোলন চালিয়ে যাবেন।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















