০৩:৫৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৪ মে ২০২৬
চীনের জনসংখ্যা সংকট: আতঙ্কের আড়ালে অন্য এক বাস্তবতা স্টারমার সংকটে ব্রিটিশ রাজনীতির গভীর অসুখ ২৫ বছরের রেকর্ড ভাঙল হাম, দেশে আক্রান্ত ৫০ হাজার ছাড়াল ঢাকার শিশুদের দিনে প্রায় ৫ ঘণ্টা স্ক্রিনে আসক্তি, বাড়ছে ঘুমের সমস্যা ও মানসিক ঝুঁকি জেলবন্দী  অবস্থায়  গুরুতর অসুস্থ হওয়া  আওয়ামী লীগ নেতা সাবেক মন্ত্রী ও বীর মুক্তিযোদ্ধা ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেনের প্রথম জানাজায় মানুষের ঢল  চট্টগ্রামে গুলিবিদ্ধ শিশু রেশমির মৃত্যু, আইসিইউতে শেষ নিঃশ্বাস সীমান্তে বিএসএফের গুলিতে বাংলাদেশি যুবকের মৃত্যু, বিজিবি-বিএসএফ বৈঠকের আলোচনা ওমানে রহস্যজনক মৃত্যু: চট্টগ্রামের চার প্রবাসী ভাইয়ের মরদেহ উদ্ধার মায়ের দুধ কম হওয়ার পেছনে মিলল নতুন কারণ, বদলাচ্ছে চিকিৎসাবিজ্ঞানের ধারণা ফিলিপাইনের রাজনীতিতে নতুন ঝড়, ভাইস প্রেসিডেন্ট সারা দুতার্তের বিরুদ্ধে অভিশংসন

শি-ট্রাম্প বৈঠকে নতুন বার্তা, বাণিজ্য থেকে তাইওয়ান—চীন-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্কে ‘স্থিতিশীলতা’ খুঁজছেন দুই নেতা

বেইজিংয়ে চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং ও যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বহুল আলোচিত বৈঠক ঘিরে নতুন করে আলোচনায় এসেছে চীন-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্কের ভবিষ্যৎ। দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য, তাইওয়ান, প্রযুক্তি ও বৈশ্বিক নিরাপত্তা নিয়ে দীর্ঘ আলোচনার পর উভয় পক্ষই সম্পর্ককে আরও “গঠনমূলক ও কৌশলগত স্থিতিশীল” পর্যায়ে নেওয়ার কথা বলেছে।

বেইজিংয়ের গ্রেট হল অব দ্য পিপলে আনুষ্ঠানিক অভ্যর্থনার মধ্য দিয়ে শুরু হয় এই শীর্ষ বৈঠক। পরে দুই নেতা ঐতিহাসিক টেম্পল অব হেভেন পরিদর্শনও করেন। বৈঠকের শুরুতেই শি জিনপিং বলেন, চীন ও যুক্তরাষ্ট্রকে তথাকথিত “থুসিডিডিস ট্র্যাপ” এড়িয়ে নতুন ধরনের সম্পর্ক গড়ে তুলতে হবে, যেখানে প্রতিযোগিতা থাকবে কিন্তু সংঘাত নয়। তিনি জোর দিয়ে বলেন, দুই দেশের সহযোগিতাই বিশ্ব স্থিতিশীলতার জন্য গুরুত্বপূর্ণ।

সম্পর্কে নতুন অবস্থান

চীনা রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, দুই নেতা দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ককে “গঠনমূলক কৌশলগত স্থিতিশীলতা” হিসেবে নতুনভাবে সংজ্ঞায়িত করার বিষয়ে একমত হয়েছেন। শি বলেন, এই ধারণা শুধু রাজনৈতিক স্লোগান নয়, বরং বাস্তব পদক্ষেপের মাধ্যমে তা কার্যকর করতে হবে। তিনি অর্থনীতি, কৃষি, স্বাস্থ্য, সংস্কৃতি, পর্যটন ও আইনশৃঙ্খলা সহযোগিতা বাড়ানোর কথাও উল্লেখ করেন।

Xi warns Trump that Taiwan issue could lead to 'conflict' at bilateral  talks in Beijing | Euronews

অন্যদিকে ট্রাম্প বৈঠকে শি জিনপিংকে “দারুণ নেতা” বলে প্রশংসা করেন এবং বলেন, দুই দেশের সম্পর্ক “আগের চেয়ে আরও ভালো” হতে পারে। তিনি জানান, অতীতের মতবিরোধেও দুই নেতা সরাসরি যোগাযোগের মাধ্যমে দ্রুত সমাধান খুঁজেছেন।

বাণিজ্য ও অর্থনীতিতে ইতিবাচক বার্তা

বৈঠকে বাণিজ্য নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতির কথাও উঠে আসে। শি জিনপিং বলেন, চীন-যুক্তরাষ্ট্র অর্থনৈতিক সম্পর্কের মূল ভিত্তি হলো “পারস্পরিক লাভ ও যৌথ সাফল্য”। সাম্প্রতিক বাণিজ্য আলোচনায় ইতিবাচক ফল এসেছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন। একই সঙ্গে তিনি জানান, চীনের বাজার আরও উন্মুক্ত হবে এবং মার্কিন প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য সুযোগ বাড়বে।

এদিকে সফরে ট্রাম্পের সঙ্গে যোগ দেন একাধিক শীর্ষ মার্কিন ব্যবসায়ী ও প্রযুক্তি খাতের নেতা। তাদের মধ্যে ছিলেন ইলন মাস্ক, জেনসেন হুয়াং ও টিম কুক। বৈঠক শেষে তারা আলোচনাকে ইতিবাচক বলে মন্তব্য করেন।

তাইওয়ান ইস্যুতে সতর্ক বার্তা

Xi, Trump Discuss Transcending Thucydides Trap in U.S.-China Talks

বৈঠকের সবচেয়ে স্পর্শকাতর বিষয় ছিল তাইওয়ান। শি জিনপিং স্পষ্টভাবে বলেন, তাইওয়ান প্রশ্নই চীন-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্কের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। এটি ভুলভাবে পরিচালিত হলে দুই দেশের মধ্যে সংঘাত তৈরি হতে পারে বলেও সতর্ক করেন তিনি। একই সঙ্গে তিনি যুক্তরাষ্ট্রকে “চরম সতর্কতা” অবলম্বনের আহ্বান জানান।

যুক্তরাষ্ট্র দীর্ঘদিন ধরে তাইওয়ানকে সামরিক সহায়তা দিয়ে আসছে, যা নিয়ে বেইজিংয়ের আপত্তি রয়েছে। তবে ট্রাম্প এ বিষয়ে প্রকাশ্যে বিস্তারিত মন্তব্য করেননি।

বিশ্ব রাজনীতি ও ভবিষ্যৎ বার্তা

বৈঠকে মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি, ইউক্রেন যুদ্ধ এবং কোরীয় উপদ্বীপের নিরাপত্তা নিয়েও আলোচনা হয়েছে। উভয় নেতা চলতি বছর এপেক ও জি-২০ সম্মেলন আয়োজনের ক্ষেত্রেও একে অপরকে সমর্থনের আশ্বাস দেন।

বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে উত্তেজনাপূর্ণ সম্পর্কের পর এই বৈঠক দুই দেশের মধ্যে নতুন কূটনৈতিক ভারসাম্যের ইঙ্গিত দিচ্ছে। যদিও তাইওয়ান, প্রযুক্তি ও নিরাপত্তা ইস্যুতে মতপার্থক্য রয়ে গেছে, তবু উভয় পক্ষ আপাতত সংঘাতের বদলে নিয়ন্ত্রিত প্রতিযোগিতার পথেই এগোতে চাইছে।

 

 

 

জনপ্রিয় সংবাদ

চীনের জনসংখ্যা সংকট: আতঙ্কের আড়ালে অন্য এক বাস্তবতা

শি-ট্রাম্প বৈঠকে নতুন বার্তা, বাণিজ্য থেকে তাইওয়ান—চীন-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্কে ‘স্থিতিশীলতা’ খুঁজছেন দুই নেতা

০২:০৯:৪০ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৪ মে ২০২৬

বেইজিংয়ে চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং ও যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বহুল আলোচিত বৈঠক ঘিরে নতুন করে আলোচনায় এসেছে চীন-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্কের ভবিষ্যৎ। দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য, তাইওয়ান, প্রযুক্তি ও বৈশ্বিক নিরাপত্তা নিয়ে দীর্ঘ আলোচনার পর উভয় পক্ষই সম্পর্ককে আরও “গঠনমূলক ও কৌশলগত স্থিতিশীল” পর্যায়ে নেওয়ার কথা বলেছে।

বেইজিংয়ের গ্রেট হল অব দ্য পিপলে আনুষ্ঠানিক অভ্যর্থনার মধ্য দিয়ে শুরু হয় এই শীর্ষ বৈঠক। পরে দুই নেতা ঐতিহাসিক টেম্পল অব হেভেন পরিদর্শনও করেন। বৈঠকের শুরুতেই শি জিনপিং বলেন, চীন ও যুক্তরাষ্ট্রকে তথাকথিত “থুসিডিডিস ট্র্যাপ” এড়িয়ে নতুন ধরনের সম্পর্ক গড়ে তুলতে হবে, যেখানে প্রতিযোগিতা থাকবে কিন্তু সংঘাত নয়। তিনি জোর দিয়ে বলেন, দুই দেশের সহযোগিতাই বিশ্ব স্থিতিশীলতার জন্য গুরুত্বপূর্ণ।

সম্পর্কে নতুন অবস্থান

চীনা রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, দুই নেতা দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ককে “গঠনমূলক কৌশলগত স্থিতিশীলতা” হিসেবে নতুনভাবে সংজ্ঞায়িত করার বিষয়ে একমত হয়েছেন। শি বলেন, এই ধারণা শুধু রাজনৈতিক স্লোগান নয়, বরং বাস্তব পদক্ষেপের মাধ্যমে তা কার্যকর করতে হবে। তিনি অর্থনীতি, কৃষি, স্বাস্থ্য, সংস্কৃতি, পর্যটন ও আইনশৃঙ্খলা সহযোগিতা বাড়ানোর কথাও উল্লেখ করেন।

Xi warns Trump that Taiwan issue could lead to 'conflict' at bilateral  talks in Beijing | Euronews

অন্যদিকে ট্রাম্প বৈঠকে শি জিনপিংকে “দারুণ নেতা” বলে প্রশংসা করেন এবং বলেন, দুই দেশের সম্পর্ক “আগের চেয়ে আরও ভালো” হতে পারে। তিনি জানান, অতীতের মতবিরোধেও দুই নেতা সরাসরি যোগাযোগের মাধ্যমে দ্রুত সমাধান খুঁজেছেন।

বাণিজ্য ও অর্থনীতিতে ইতিবাচক বার্তা

বৈঠকে বাণিজ্য নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতির কথাও উঠে আসে। শি জিনপিং বলেন, চীন-যুক্তরাষ্ট্র অর্থনৈতিক সম্পর্কের মূল ভিত্তি হলো “পারস্পরিক লাভ ও যৌথ সাফল্য”। সাম্প্রতিক বাণিজ্য আলোচনায় ইতিবাচক ফল এসেছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন। একই সঙ্গে তিনি জানান, চীনের বাজার আরও উন্মুক্ত হবে এবং মার্কিন প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য সুযোগ বাড়বে।

এদিকে সফরে ট্রাম্পের সঙ্গে যোগ দেন একাধিক শীর্ষ মার্কিন ব্যবসায়ী ও প্রযুক্তি খাতের নেতা। তাদের মধ্যে ছিলেন ইলন মাস্ক, জেনসেন হুয়াং ও টিম কুক। বৈঠক শেষে তারা আলোচনাকে ইতিবাচক বলে মন্তব্য করেন।

তাইওয়ান ইস্যুতে সতর্ক বার্তা

Xi, Trump Discuss Transcending Thucydides Trap in U.S.-China Talks

বৈঠকের সবচেয়ে স্পর্শকাতর বিষয় ছিল তাইওয়ান। শি জিনপিং স্পষ্টভাবে বলেন, তাইওয়ান প্রশ্নই চীন-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্কের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। এটি ভুলভাবে পরিচালিত হলে দুই দেশের মধ্যে সংঘাত তৈরি হতে পারে বলেও সতর্ক করেন তিনি। একই সঙ্গে তিনি যুক্তরাষ্ট্রকে “চরম সতর্কতা” অবলম্বনের আহ্বান জানান।

যুক্তরাষ্ট্র দীর্ঘদিন ধরে তাইওয়ানকে সামরিক সহায়তা দিয়ে আসছে, যা নিয়ে বেইজিংয়ের আপত্তি রয়েছে। তবে ট্রাম্প এ বিষয়ে প্রকাশ্যে বিস্তারিত মন্তব্য করেননি।

বিশ্ব রাজনীতি ও ভবিষ্যৎ বার্তা

বৈঠকে মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি, ইউক্রেন যুদ্ধ এবং কোরীয় উপদ্বীপের নিরাপত্তা নিয়েও আলোচনা হয়েছে। উভয় নেতা চলতি বছর এপেক ও জি-২০ সম্মেলন আয়োজনের ক্ষেত্রেও একে অপরকে সমর্থনের আশ্বাস দেন।

বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে উত্তেজনাপূর্ণ সম্পর্কের পর এই বৈঠক দুই দেশের মধ্যে নতুন কূটনৈতিক ভারসাম্যের ইঙ্গিত দিচ্ছে। যদিও তাইওয়ান, প্রযুক্তি ও নিরাপত্তা ইস্যুতে মতপার্থক্য রয়ে গেছে, তবু উভয় পক্ষ আপাতত সংঘাতের বদলে নিয়ন্ত্রিত প্রতিযোগিতার পথেই এগোতে চাইছে।