ইরানকে ঘিরে চলমান উত্তেজনা ও যুদ্ধ পরিস্থিতি নিরসনে চীনের আরও সক্রিয় ভূমিকা চায় যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও বলেছেন, ওয়াশিংটন আশা করছে বেইজিংকে এমন একটি অবস্থানে আনা যাবে, যেখানে তারা ইরানকে বর্তমান পদক্ষেপ থেকে সরে আসতে চাপ দেবে এবং পারস্য উপসাগরে উত্তেজনা কমাতে কার্যকর ভূমিকা রাখবে।
মার্কিন সংবাদমাধ্যম ফক্স নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে রুবিও বলেন, ইরান যুদ্ধ এখন বৈশ্বিক স্থিতিশীলতার জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিশেষ করে এশিয়ার জন্য এর প্রভাব সবচেয়ে বেশি হতে পারে, কারণ অঞ্চলটি জ্বালানি সরবরাহের জন্য গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রপথের ওপর নির্ভরশীল।
তিনি বলেন, চীনেরও এই সংকট সমাধানে স্বার্থ রয়েছে। কারণ পারস্য উপসাগর ও হরমুজ প্রণালিতে অস্থিতিশীলতা তৈরি হলে তা সরাসরি এশিয়ার জ্বালানি নিরাপত্তাকে ঝুঁকির মধ্যে ফেলবে।

শি-ট্রাম্প বৈঠকে গুরুত্ব পাচ্ছে ইরান ইস্যু
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বর্তমানে চীন সফরে রয়েছেন। প্রায় এক দশকের মধ্যে এটিই কোনো মার্কিন প্রেসিডেন্টের প্রথম চীন সফর। বুধবার রাতে তিনি বেইজিং পৌঁছান এবং বৃহস্পতিবার সকালে চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে বৈঠকে বসার কথা রয়েছে।
ওয়াশিংটনের ধারণা, এই বৈঠকে ইরান যুদ্ধ অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ আলোচ্য বিষয় হয়ে উঠবে। সফরে ট্রাম্পের সঙ্গে রয়েছেন শক্তিশালী মার্কিন প্রতিনিধিদল, যার সদস্য রুবিওও।
চীন সফরে যাওয়ার আগে ট্রাম্প সাংবাদিকদের বলেন, তিনি শি জিনপিংয়ের সঙ্গে ইরান পরিস্থিতি নিয়ে দীর্ঘ আলোচনা করবেন। একই সঙ্গে তিনি দাবি করেন, পরিস্থিতি যেভাবেই এগোক না কেন, যুক্তরাষ্ট্র শেষ পর্যন্ত সফল হবে—তা শান্তিপূর্ণ উপায়ে হোক বা অন্যভাবে।
তবে ট্রাম্প এও বলেন, ইরান ইস্যুতে তিনি চীনের সহায়তার ওপর নির্ভর করছেন না।
চীনের কূটনৈতিক তৎপরতা
এদিকে চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে ফোনালাপে ইসলামাবাদকে মধ্যস্থতার প্রচেষ্টা জোরদার করার আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বলেন, হরমুজ প্রণালি সচল রাখা এবং দ্রুত আঞ্চলিক শান্তি ফিরিয়ে আনতে সক্রিয় ভূমিকা প্রয়োজন।

বিশ্লেষকদের মতে, ইরান সংকট এখন শুধু মধ্যপ্রাচ্যের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই; এটি বৈশ্বিক অর্থনীতি, জ্বালানি সরবরাহ এবং আন্তর্জাতিক কূটনীতির ওপরও বড় প্রভাব ফেলছে। ফলে চীন-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্কের নতুন সমীকরণেও এই ইস্যু গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
চীনকে ঘিরে ওয়াশিংটনের অবস্থান
সাক্ষাৎকারে রুবিও চীনকে যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে বড় রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জ হিসেবে উল্লেখ করেন। তবে একই সঙ্গে তিনি বলেন, দুই দেশের সম্পর্ক পরিচালনা করাও ওয়াশিংটনের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
তার ভাষায়, যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের স্বার্থ অনেক ক্ষেত্রেই পরস্পরের সঙ্গে সংঘাতে জড়াবে। কিন্তু বিশ্বে স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে দুই পক্ষকেই সেই সম্পর্ক নিয়ন্ত্রণের মধ্যে রাখতে হবে।
রুবিও আরও বলেন, যুক্তরাষ্ট্র চীনের উত্থান ঠেকাতে চায় না। তবে সেই উত্থান যেন আমেরিকার ক্ষতির বিনিময়ে না হয়, সেটিই ওয়াশিংটনের প্রধান লক্ষ্য।
ইরান যুদ্ধ নিয়ে চীন-যুক্তরাষ্ট্রের এই কূটনৈতিক অবস্থান এখন আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নতুন করে নজর কাড়ছে। বিশেষ করে ট্রাম্প-শি বৈঠকের ফলাফলকে কেন্দ্র করে বিশ্ব রাজনীতিতে নতুন বার্তা আসতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















