ভারতে স্বর্ণের বাজারে দেখা দিয়েছে অস্বাভাবিক পরিস্থিতি। আমদানি শুল্ক বাড়ানোর পর দেশটির বাজারে স্বর্ণের দামে বড় উল্লম্ফন হলেও সেই সুযোগে বিনিয়োগকারীরা ব্যাপক হারে স্বর্ণ বিক্রি শুরু করেছেন। এর ফলে আন্তর্জাতিক দামের তুলনায় ভারতে স্বর্ণে রেকর্ড পরিমাণ ছাড় দিতে বাধ্য হচ্ছেন ব্যবসায়ীরা।
বুধবার দেশটির বাজারে প্রতি আউন্স স্বর্ণে ২০০ ডলারের বেশি ছাড় দেওয়ার ঘটনা নতুন রেকর্ড তৈরি করেছে। বাজার সংশ্লিষ্টদের মতে, দুর্বল চাহিদা ও অতিরিক্ত বিক্রির চাপ একসঙ্গে কাজ করায় এই পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।
আমদানি শুল্ক বাড়তেই দামে আগুন
ভারত সরকার স্বর্ণ ও রুপার ওপর আমদানি শুল্ক ৬ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ১৫ শতাংশ করেছে। বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের ওপর চাপ কমানো এবং বিদেশি কেনাকাটা নিয়ন্ত্রণে রাখতেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
![]()
শুল্ক বৃদ্ধির ঘোষণার পরই স্থানীয় বাজারে স্বর্ণের দাম হঠাৎ বেড়ে যায়। বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম স্বর্ণ ব্যবহারকারী দেশ ভারতে বুধবার ১০ গ্রাম স্বর্ণের ফিউচার দাম ৭ দশমিক ২ শতাংশ বেড়ে দাঁড়ায় ১ লাখ ৬৪ হাজার ৪৯৭ রুপিতে। এটি দুই মাসেরও বেশি সময়ের মধ্যে সর্বোচ্চ।
বিনিয়োগকারীদের মুনাফা তুলে নেওয়ার হিড়িক
দাম বাড়তেই অনেক বিনিয়োগকারী দ্রুত মুনাফা তুলে নিতে বাজারে স্বর্ণ বিক্রি শুরু করেন। ফলে বাজারে সরবরাহ বেড়ে যায়। এমনকি বড় অঙ্কের ছাড় দিয়েও বিক্রি করতে হচ্ছে স্বর্ণ।
মুম্বাইয়ের এক স্বর্ণ ব্যবসায়ীর ভাষায়, বাজারে ছাড়ের পরিমাণ এতটাই বেড়ে গিয়েছিল যে অনেক ক্ষেত্রে লেনদেনের আগে আবার দাম যাচাই করতে হয়েছে।
মঙ্গলবার যেখানে প্রতি আউন্সে ১৭ ডলার ছাড় ছিল, বুধবার তা বেড়ে ২০৭ ডলারে পৌঁছে যায়। এর মধ্যে আমদানি শুল্ক ও বিক্রয় করও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
ক্রেতা ও জুয়েলারিরা দূরে

বাজারে খুচরা ক্রেতা ও গয়নার ব্যবসায়ীরা আপাতত অপেক্ষার অবস্থানে রয়েছেন। দাম দ্রুত বেড়ে যাওয়ায় অনেকেই নতুন করে কেনাকাটা করছেন না। এতে বিক্রির চাপ আরও বেড়েছে।
স্বর্ণের বিনিয়োগ তহবিল থেকেও মুনাফা তুলে নেওয়ার প্রবণতা বাড়ছে। ফলে বাজারে অতিরিক্ত সরবরাহ তৈরি হয়েছে, যা ছাড়ের পরিমাণ আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।
চোরাচালানের আশঙ্কা বাড়ছে
স্বর্ণ ব্যবসায়ীদের মধ্যে নতুন উদ্বেগ তৈরি হয়েছে চোরাচালান নিয়ে। শুল্ক বাড়ানোর ফলে অবৈধ বাজারে মুনাফার সুযোগও বেড়ে গেছে।
ব্যবসায়ীদের মতে, আগে যেখানে অবৈধ বাজারে লাভের পরিমাণ ছিল প্রায় ৯ শতাংশ, এখন তা বেড়ে ১৮ শতাংশের কাছাকাছি পৌঁছেছে। এতে বিদেশ থেকে অবৈধভাবে স্বর্ণ এনে নগদ টাকায় বিক্রির প্রবণতা বাড়তে পারে।
বিশ্লেষকদের ধারণা, বাজারে এই অস্থিরতা কিছুদিন চলতে পারে। বিশেষ করে চাহিদা দুর্বল থাকলে এবং বিনিয়োগকারীরা মুনাফা তুলতে থাকলে স্বর্ণের দামে আরও চাপ তৈরি হতে পারে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















