ইরানের সঙ্গে সাম্প্রতিক সংঘাতের সময় গোপনে সংযুক্ত আরব আমিরাত সফর করেছিলেন বলে দাবি করেছেন ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু। তার এই বক্তব্য প্রকাশ্যে আসতেই মধ্যপ্রাচ্যের কূটনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। একই সঙ্গে ইরান, যুক্তরাষ্ট্র ও উপসাগরীয় দেশগুলোর মধ্যে উত্তেজনাও আরও স্পষ্ট হয়ে উঠছে।
নেতানিয়াহুর এই মন্তব্য এমন এক সময়ে সামনে এলো, যখন ইরানের সঙ্গে যুদ্ধবিরতি কার্যকর থাকলেও পরিস্থিতি এখনও অস্থিতিশীল। হরমুজ প্রণালি ঘিরে টানাপোড়েন, তেলের বাজারে অস্থিরতা এবং সামরিক প্রস্তুতি অঞ্চলজুড়ে উদ্বেগ বাড়াচ্ছে।
মধ্যপ্রাচ্যে গোপন যোগাযোগ নিয়ে আলোচনা
ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রীর দাবি অনুযায়ী, যুদ্ধ চলাকালে তিনি গোপনে আমিরাত সফর করেন। যদিও এ বিষয়ে সংযুক্ত আরব আমিরাত আনুষ্ঠানিকভাবে বিস্তারিত কিছু জানায়নি। তবে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক প্রতিবেদনে বলা হচ্ছে, ইরানের বিরুদ্ধে কিছু সামরিক অভিযানে আমিরাতও যুক্ত ছিল বলে অভিযোগ উঠেছে।
![]()
বিশেষ করে ইরানের লাভান দ্বীপের একটি তেল শোধনাগারে হামলার ঘটনায় আমিরাতের সম্পৃক্ততার খবর সামনে এসেছে। যদিও এ বিষয়ে এখন পর্যন্ত প্রকাশ্যে কোনো স্বীকৃতি দেয়নি দেশটি।
আমিরাতের কূটনৈতিক অবস্থান
আমিরাতের প্রেসিডেন্ট উপদেষ্টা আনোয়ার গারগাশ বলেছেন, তাদের দেশ এখনো কূটনৈতিক সমাধানেই বিশ্বাস করে। তবে নিজেদের নিরাপত্তা রক্ষার অধিকারও তাদের রয়েছে।
তিনি আরও বলেন, উপসাগরীয় অঞ্চলে আরব ও ইরানের সম্পর্ক সংঘাতের ভিত্তিতে গড়ে উঠতে পারে না। তার এই বক্তব্য থেকে বোঝা যাচ্ছে, যুদ্ধ এড়িয়ে স্থিতিশীলতা বজায় রাখার চেষ্টা করছে আবুধাবি।
হরমুজ প্রণালি নিয়ে বাড়ছে চাপ
যুদ্ধবিরতি কার্যকর থাকলেও ইরান এখনো হরমুজ প্রণালি অবরুদ্ধ করে রেখেছে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার জবাব হিসেবেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে তেহরান।

বিশ্বের প্রায় ২০ শতাংশ তেল ও তরলীকৃত গ্যাস এই প্রণালি দিয়ে পরিবহন হয়। ফলে এই রুটে অচলাবস্থা তৈরি হওয়ায় আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম বেড়েছে।
অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রও ইরানের বন্দরগুলোর ওপর অবরোধ জোরদার করেছে। ওয়াশিংটনের লক্ষ্য, তেহরানকে নতুন শর্তে সমঝোতায় বাধ্য করা।
ইরান-যুক্তরাষ্ট্র উত্তেজনা অব্যাহত
ইরান সম্প্রতি যুদ্ধ বন্ধ এবং হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়ার বিষয়ে নিজেদের প্রস্তাব যুক্তরাষ্ট্রের কাছে পাঠায়। তবে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সেই প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেন।
তিনি প্রস্তাবটিকে “সম্পূর্ণ অগ্রহণযোগ্য” বলে মন্তব্য করেন। একই সঙ্গে যুদ্ধবিরতি এখন খুবই নাজুক অবস্থায় রয়েছে বলেও সতর্ক করেন।
এর জবাবে ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ গালিবাফ বলেন, যেকোনো আগ্রাসনের জবাব দিতে ইরানের সশস্ত্র বাহিনী প্রস্তুত রয়েছে।
মধ্যপ্রাচ্যের চলমান এই উত্তেজনা আগামী দিনে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজার, কূটনীতি এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তায় বড় প্রভাব ফেলতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















