০১:৫৫ অপরাহ্ন, বুধবার, ০৫ অগাস্ট ২০২৬
ব্রিটিশ ওপেনে ঐতিহাসিক জয়ের আনন্দ এখনো ধীরে ধীরে উপলব্ধি করছেন কুওয়াকি এআই নিরাপত্তা নিয়ে নতুন উদ্বেগ, পরীক্ষায় বাস্তব ওয়েবসাইটে অননুমোদিত কর্মকাণ্ডের অভিযোগ গাজা পরিকল্পনায় সম্মতি দেয়নি ইসরায়েল, জানালেন নেতানিয়াহু ট্রাম্প প্রশাসনের ব্যয় কমানোর পরিকল্পনা: আফ্রিকা, এশিয়া ও আমেরিকার পাঁচ মার্কিন কূটনৈতিক মিশন বন্ধ হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রের প্যাসিফিক ফ্লিট কমান্ডারের শ্রদ্ধা শিখা অনির্বাণে, প্রতিরক্ষা সহযোগিতা জোরদারে ঢাকায় বৈঠক সিলেটে হামে আরও ২ শিশুর মৃত্যু, মৃতের সংখ্যা বেড়ে ১১৮ হুথিরা কারা? লোহিত সাগরে ভারতীয় পতাকাবাহী জাহাজে হামলার পর আবারও আলোচনায় ইয়েমেনের সশস্ত্র গোষ্ঠী উত্তর কোরিয়ার ক্ষেপণাস্ত্র ইউনিট রাশিয়ায় মোতায়েনের দাবি ইউক্রেনের, শীতের আগে নতুন উদ্বেগ পাকিস্তানের সামনে সিরিজ সমতায় ফেরার হাতছানি, স্পিন ঘূর্ণিতে চাপে ওয়েস্ট ইন্ডিজ যুক্তরাষ্ট্রের দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্রের মজুত দ্রুত কমছে, দীর্ঘ যুদ্ধের সক্ষমতা নিয়ে নতুন উদ্বেগ

সৌদি যুদ্ধবিমান থেকে ইরাকে হামলা, মধ্যপ্রাচ্যে নতুন উত্তেজনা

ইরানকে ঘিরে চলমান আঞ্চলিক সংঘাতের মধ্যেই এবার ইরাকের ভেতরে ইরানপন্থি মিলিশিয়া ঘাঁটিতে হামলা চালিয়েছে সৌদি আরব। একই সময়ে কুয়েত থেকেও ইরাকের ভেতরে পাল্টা রকেট হামলার ঘটনা ঘটেছে বলে বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে। এতে মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছে।

ইরান যুদ্ধকে ঘিরে গত কয়েক সপ্তাহে যে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে, তার বড় অংশই এতদিন আড়ালে ছিল। তবে সাম্প্রতিক ঘটনাগুলো প্রকাশ্যে আসার পর স্পষ্ট হয়েছে, সংঘাত এখন শুধু ইরান বা ইসরায়েলের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই; এর প্রভাব পুরো উপসাগরীয় অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়েছে।

ইরাক সীমান্তে লক্ষ্যবস্তুতে হামলা

বিভিন্ন নিরাপত্তা সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, সৌদি যুদ্ধবিমান ইরাকের উত্তর সীমান্তঘেঁষা এলাকায় ইরানসমর্থিত শিয়া মিলিশিয়াদের ঘাঁটিতে হামলা চালায়। এসব ঘাঁটি থেকে সৌদি আরব ও উপসাগরীয় দেশগুলোর দিকে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানো হচ্ছিল বলে অভিযোগ রয়েছে।

Saudi warplanes struck militias in Iraq during war - sources - anews

একাধিক হামলায় মিলিশিয়া সদস্য নিহত হওয়ার পাশাপাশি যোগাযোগ ও ড্রোন পরিচালনার কিছু কেন্দ্র ধ্বংস হয়েছে বলেও জানা গেছে। বিশেষ করে কাতাইব হিজবুল্লাহর একটি ঘাঁটি বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়েছে।

কুয়েত থেকেও পাল্টা হামলা

ইরাকি নিরাপত্তা কর্মকর্তাদের দাবি, কুয়েতের ভূখণ্ড থেকেও অন্তত দুই দফা রকেট হামলা চালানো হয়েছে। তবে হামলাগুলো কুয়েতের বাহিনী নাকি সেখানে অবস্থানরত মার্কিন সেনাদের মাধ্যমে হয়েছে, তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

যুদ্ধ চলাকালে সৌদি আরব ও কুয়েতে একের পর এক ড্রোন ও রকেট হামলার ঘটনা ঘটায় উপসাগরীয় দেশগুলো ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠে। এরপরই তারা ইরাক সরকারের ওপর চাপ বাড়াতে শুরু করে যাতে ইরানপন্থি গোষ্ঠীগুলোকে নিয়ন্ত্রণে আনা হয়।

ইরাক-উপসাগর সম্পর্কের পুরোনো উত্তেজনা

ইরাক ও উপসাগরীয় দেশগুলোর সম্পর্ক দীর্ঘদিন ধরেই অবিশ্বাস ও উত্তেজনায় ভরা। ১৯৯০ সালে কুয়েত আক্রমণ এবং সৌদি আরবের দিকে ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপের পর সেই সম্পর্ক আরও খারাপ হয়ে যায়।

Saudi jets bomb militia positions in Iraq, sources reveal | The Jerusalem  Post

পরবর্তীতে ২০০৩ সালে যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বে ইরাক আক্রমণের পর দেশটিতে ইরানঘনিষ্ঠ শিয়া গোষ্ঠীগুলোর প্রভাব দ্রুত বাড়তে থাকে। এসব গোষ্ঠী এখন ইরাকের নিরাপত্তা ও রাজনীতিতে শক্তিশালী অবস্থান তৈরি করেছে।

কূটনৈতিক সমঝোতাও চাপে

২০২৩ সালে চীনের মধ্যস্থতায় সৌদি আরব ও ইরানের মধ্যে সম্পর্ক স্বাভাবিক করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। এতে মধ্যপ্রাচ্যে স্থিতিশীলতা ফিরবে বলে আশা করা হচ্ছিল। কিন্তু নতুন সংঘাত সেই অগ্রগতিকে বড় চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলেছে।

বিশ্লেষকদের মতে, উপসাগরীয় দেশগুলো এখন সরাসরি নিরাপত্তা ঝুঁকির মুখে পড়ায় তারা আর আগের মতো ধৈর্য দেখাতে রাজি নয়। ফলে পরিস্থিতি আরও বিস্ফোরক হয়ে উঠতে পারে।

এদিকে ইরাকি নিরাপত্তা সূত্রগুলো বলছে, ইরানসমর্থিত গোষ্ঠীগুলো এখনো সৌদি আরব ও কুয়েত সীমান্তজুড়ে নজরদারি ড্রোন উড়াচ্ছে। এসব ড্রোনের মাধ্যমে সামরিক তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে বলেও অভিযোগ উঠেছে।

মধ্যপ্রাচ্যে নতুন উত্তেজনার মধ্যে ইরাকে সৌদি হামলা ও কুয়েত থেকে পাল্টা আক্রমণের ঘটনায় আঞ্চলিক সংঘাত আরও গভীর হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

 

জনপ্রিয় সংবাদ

ব্রিটিশ ওপেনে ঐতিহাসিক জয়ের আনন্দ এখনো ধীরে ধীরে উপলব্ধি করছেন কুওয়াকি

সৌদি যুদ্ধবিমান থেকে ইরাকে হামলা, মধ্যপ্রাচ্যে নতুন উত্তেজনা

০১:০৬:১৩ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৪ মে ২০২৬

ইরানকে ঘিরে চলমান আঞ্চলিক সংঘাতের মধ্যেই এবার ইরাকের ভেতরে ইরানপন্থি মিলিশিয়া ঘাঁটিতে হামলা চালিয়েছে সৌদি আরব। একই সময়ে কুয়েত থেকেও ইরাকের ভেতরে পাল্টা রকেট হামলার ঘটনা ঘটেছে বলে বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে। এতে মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছে।

ইরান যুদ্ধকে ঘিরে গত কয়েক সপ্তাহে যে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে, তার বড় অংশই এতদিন আড়ালে ছিল। তবে সাম্প্রতিক ঘটনাগুলো প্রকাশ্যে আসার পর স্পষ্ট হয়েছে, সংঘাত এখন শুধু ইরান বা ইসরায়েলের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই; এর প্রভাব পুরো উপসাগরীয় অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়েছে।

ইরাক সীমান্তে লক্ষ্যবস্তুতে হামলা

বিভিন্ন নিরাপত্তা সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, সৌদি যুদ্ধবিমান ইরাকের উত্তর সীমান্তঘেঁষা এলাকায় ইরানসমর্থিত শিয়া মিলিশিয়াদের ঘাঁটিতে হামলা চালায়। এসব ঘাঁটি থেকে সৌদি আরব ও উপসাগরীয় দেশগুলোর দিকে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানো হচ্ছিল বলে অভিযোগ রয়েছে।

Saudi warplanes struck militias in Iraq during war - sources - anews

একাধিক হামলায় মিলিশিয়া সদস্য নিহত হওয়ার পাশাপাশি যোগাযোগ ও ড্রোন পরিচালনার কিছু কেন্দ্র ধ্বংস হয়েছে বলেও জানা গেছে। বিশেষ করে কাতাইব হিজবুল্লাহর একটি ঘাঁটি বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়েছে।

কুয়েত থেকেও পাল্টা হামলা

ইরাকি নিরাপত্তা কর্মকর্তাদের দাবি, কুয়েতের ভূখণ্ড থেকেও অন্তত দুই দফা রকেট হামলা চালানো হয়েছে। তবে হামলাগুলো কুয়েতের বাহিনী নাকি সেখানে অবস্থানরত মার্কিন সেনাদের মাধ্যমে হয়েছে, তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

যুদ্ধ চলাকালে সৌদি আরব ও কুয়েতে একের পর এক ড্রোন ও রকেট হামলার ঘটনা ঘটায় উপসাগরীয় দেশগুলো ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠে। এরপরই তারা ইরাক সরকারের ওপর চাপ বাড়াতে শুরু করে যাতে ইরানপন্থি গোষ্ঠীগুলোকে নিয়ন্ত্রণে আনা হয়।

ইরাক-উপসাগর সম্পর্কের পুরোনো উত্তেজনা

ইরাক ও উপসাগরীয় দেশগুলোর সম্পর্ক দীর্ঘদিন ধরেই অবিশ্বাস ও উত্তেজনায় ভরা। ১৯৯০ সালে কুয়েত আক্রমণ এবং সৌদি আরবের দিকে ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপের পর সেই সম্পর্ক আরও খারাপ হয়ে যায়।

Saudi jets bomb militia positions in Iraq, sources reveal | The Jerusalem  Post

পরবর্তীতে ২০০৩ সালে যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বে ইরাক আক্রমণের পর দেশটিতে ইরানঘনিষ্ঠ শিয়া গোষ্ঠীগুলোর প্রভাব দ্রুত বাড়তে থাকে। এসব গোষ্ঠী এখন ইরাকের নিরাপত্তা ও রাজনীতিতে শক্তিশালী অবস্থান তৈরি করেছে।

কূটনৈতিক সমঝোতাও চাপে

২০২৩ সালে চীনের মধ্যস্থতায় সৌদি আরব ও ইরানের মধ্যে সম্পর্ক স্বাভাবিক করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। এতে মধ্যপ্রাচ্যে স্থিতিশীলতা ফিরবে বলে আশা করা হচ্ছিল। কিন্তু নতুন সংঘাত সেই অগ্রগতিকে বড় চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলেছে।

বিশ্লেষকদের মতে, উপসাগরীয় দেশগুলো এখন সরাসরি নিরাপত্তা ঝুঁকির মুখে পড়ায় তারা আর আগের মতো ধৈর্য দেখাতে রাজি নয়। ফলে পরিস্থিতি আরও বিস্ফোরক হয়ে উঠতে পারে।

এদিকে ইরাকি নিরাপত্তা সূত্রগুলো বলছে, ইরানসমর্থিত গোষ্ঠীগুলো এখনো সৌদি আরব ও কুয়েত সীমান্তজুড়ে নজরদারি ড্রোন উড়াচ্ছে। এসব ড্রোনের মাধ্যমে সামরিক তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে বলেও অভিযোগ উঠেছে।

মধ্যপ্রাচ্যে নতুন উত্তেজনার মধ্যে ইরাকে সৌদি হামলা ও কুয়েত থেকে পাল্টা আক্রমণের ঘটনায় আঞ্চলিক সংঘাত আরও গভীর হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।