০৪:১৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৪ মে ২০২৬
চীনের জনসংখ্যা সংকট: আতঙ্কের আড়ালে অন্য এক বাস্তবতা স্টারমার সংকটে ব্রিটিশ রাজনীতির গভীর অসুখ ২৫ বছরের রেকর্ড ভাঙল হাম, দেশে আক্রান্ত ৫০ হাজার ছাড়াল ঢাকার শিশুদের দিনে প্রায় ৫ ঘণ্টা স্ক্রিনে আসক্তি, বাড়ছে ঘুমের সমস্যা ও মানসিক ঝুঁকি জেলবন্দী  অবস্থায়  গুরুতর অসুস্থ হওয়া  আওয়ামী লীগ নেতা সাবেক মন্ত্রী ও বীর মুক্তিযোদ্ধা ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেনের প্রথম জানাজায় মানুষের ঢল  চট্টগ্রামে গুলিবিদ্ধ শিশু রেশমির মৃত্যু, আইসিইউতে শেষ নিঃশ্বাস সীমান্তে বিএসএফের গুলিতে বাংলাদেশি যুবকের মৃত্যু, বিজিবি-বিএসএফ বৈঠকের আলোচনা ওমানে রহস্যজনক মৃত্যু: চট্টগ্রামের চার প্রবাসী ভাইয়ের মরদেহ উদ্ধার মায়ের দুধ কম হওয়ার পেছনে মিলল নতুন কারণ, বদলাচ্ছে চিকিৎসাবিজ্ঞানের ধারণা ফিলিপাইনের রাজনীতিতে নতুন ঝড়, ভাইস প্রেসিডেন্ট সারা দুতার্তের বিরুদ্ধে অভিশংসন

ট্রাম্প-শি বৈঠকে নতুন বাণিজ্য সমঝোতার ইঙ্গিত, কমতে পারে শুল্ক যুদ্ধের চাপ

যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের দীর্ঘদিনের বাণিজ্য উত্তেজনার মধ্যেই নতুন সমঝোতার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। দুই দেশের শীর্ষ পর্যায়ের আলোচনায় এবার এমন একটি কাঠামো নিয়ে আলোচনা চলছে, যার মাধ্যমে নির্দিষ্ট কিছু পণ্যে শুল্ক কমিয়ে বাণিজ্য বাড়ানোর চেষ্টা করা হবে। এতে কয়েক বছর ধরে চলা শুল্ক যুদ্ধের চাপ কিছুটা কমতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

বিশ্ব অর্থনীতির দুই বড় শক্তির এই নতুন উদ্যোগকে ঘিরে আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মহলেও বাড়ছে আগ্রহ। বিশেষ করে এমন সময়ে এই আলোচনা হচ্ছে, যখন দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্যের পরিমাণ আগের তুলনায় অনেকটাই কমে গেছে।

নতুন কাঠামো নিয়ে আলোচনা

প্রস্তাবিত পরিকল্পনায় দুই দেশ প্রায় ৩০ বিলিয়ন ডলারের পণ্যে শুল্ক কমানোর পথ খুঁজছে। মূলত যেসব পণ্যকে জাতীয় নিরাপত্তার জন্য ঝুঁকিপূর্ণ মনে করা হয় না, সেগুলোকে এই তালিকায় রাখা হতে পারে। এর মধ্যে কৃষিপণ্য, জ্বালানি এবং কিছু ভোক্তা পণ্য গুরুত্ব পাচ্ছে।

The big questions hanging over the Trump-Xi meeting in China | China | The  Guardian

বিশ্লেষকদের মতে, আগের মতো এবার আর চীনের অর্থনৈতিক কাঠামো বদলের চাপ দিচ্ছে না ওয়াশিংটন। বরং দুই দেশের অর্থনৈতিক ব্যবস্থার পার্থক্য মেনে নিয়েই বাস্তবভিত্তিক বাণিজ্য ভারসাম্যের দিকে এগোতে চাইছে যুক্তরাষ্ট্র।

বেইজিং বৈঠক ঘিরে কূটনৈতিক তৎপরতা

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের বৈঠককে কেন্দ্র করে দুই দেশের কর্মকর্তাদের মধ্যে একাধিক প্রস্তুতিমূলক আলোচনা হয়েছে। এর অংশ হিসেবে দক্ষিণ কোরিয়ায় বৈঠক করেন মার্কিন অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট ও চীনের উপপ্রধানমন্ত্রী হে লিফেং। সেখানে সম্ভাব্য অর্থনৈতিক প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা হয়েছে বলে জানা গেছে।

যদিও বৈঠকের পর আনুষ্ঠানিকভাবে বিস্তারিত কিছু জানানো হয়নি, তবুও কূটনৈতিক মহল মনে করছে দুই দেশই সম্পর্ক কিছুটা স্থিতিশীল করার চেষ্টা করছে।

কৃষি ও জ্বালানি পণ্যে জোর

মে মাসে জ্বালানি তেলের রপ্তানি বাড়াবে চীন: গন্তব্যের তালিকায় রয়েছে  বাংলাদেশও | The Business Standard

যুক্তরাষ্ট্র বিশেষভাবে চীনে কৃষি ও জ্বালানি পণ্যের রপ্তানি বাড়াতে আগ্রহী। বর্তমানে চীন মার্কিন অপরিশোধিত তেল, তরল প্রাকৃতিক গ্যাস, কয়লা ও গরুর মাংসের ওপর অতিরিক্ত শুল্ক আরোপ করে রেখেছে। নতুন আলোচনায় এসব পণ্যের ওপর শুল্ক কমানোর বিষয়টি গুরুত্ব পাচ্ছে।

অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রও চীনা কিছু ভোক্তা পণ্যের ওপর আরোপিত শুল্ক শিথিল করার সম্ভাবনা বিবেচনা করছে। এর মধ্যে ইলেকট্রনিক পণ্য, স্মার্ট ডিভাইস ও জুতাসহ বিভিন্ন পণ্য রয়েছে।

বিনিয়োগ নিয়ে সতর্ক অবস্থান

দুই দেশের মধ্যে বিনিয়োগ সহযোগিতার বিষয়েও আলোচনা চলছে। তবে যুক্তরাষ্ট্র এখনই বড় ধরনের চীনা বিনিয়োগে আগ্রহী নয় বলে ইঙ্গিত দিয়েছে। বিশেষ করে মার্কিন গাড়ি শিল্পে চীনা বিনিয়োগ নিয়ে দেশটির রাজনৈতিক ও শিল্প মহলে উদ্বেগ রয়েছে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দুই দেশের এই নতুন বাণিজ্য উদ্যোগ পুরো সম্পর্ক পাল্টে দেবে না। তবে এটি দীর্ঘদিনের উত্তেজনার মধ্যে একটি বাস্তবসম্মত সমঝোতার সূচনা হতে পারে।

 

 

জনপ্রিয় সংবাদ

চীনের জনসংখ্যা সংকট: আতঙ্কের আড়ালে অন্য এক বাস্তবতা

ট্রাম্প-শি বৈঠকে নতুন বাণিজ্য সমঝোতার ইঙ্গিত, কমতে পারে শুল্ক যুদ্ধের চাপ

১২:৫৮:৫২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৪ মে ২০২৬

যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের দীর্ঘদিনের বাণিজ্য উত্তেজনার মধ্যেই নতুন সমঝোতার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। দুই দেশের শীর্ষ পর্যায়ের আলোচনায় এবার এমন একটি কাঠামো নিয়ে আলোচনা চলছে, যার মাধ্যমে নির্দিষ্ট কিছু পণ্যে শুল্ক কমিয়ে বাণিজ্য বাড়ানোর চেষ্টা করা হবে। এতে কয়েক বছর ধরে চলা শুল্ক যুদ্ধের চাপ কিছুটা কমতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

বিশ্ব অর্থনীতির দুই বড় শক্তির এই নতুন উদ্যোগকে ঘিরে আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মহলেও বাড়ছে আগ্রহ। বিশেষ করে এমন সময়ে এই আলোচনা হচ্ছে, যখন দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্যের পরিমাণ আগের তুলনায় অনেকটাই কমে গেছে।

নতুন কাঠামো নিয়ে আলোচনা

প্রস্তাবিত পরিকল্পনায় দুই দেশ প্রায় ৩০ বিলিয়ন ডলারের পণ্যে শুল্ক কমানোর পথ খুঁজছে। মূলত যেসব পণ্যকে জাতীয় নিরাপত্তার জন্য ঝুঁকিপূর্ণ মনে করা হয় না, সেগুলোকে এই তালিকায় রাখা হতে পারে। এর মধ্যে কৃষিপণ্য, জ্বালানি এবং কিছু ভোক্তা পণ্য গুরুত্ব পাচ্ছে।

The big questions hanging over the Trump-Xi meeting in China | China | The  Guardian

বিশ্লেষকদের মতে, আগের মতো এবার আর চীনের অর্থনৈতিক কাঠামো বদলের চাপ দিচ্ছে না ওয়াশিংটন। বরং দুই দেশের অর্থনৈতিক ব্যবস্থার পার্থক্য মেনে নিয়েই বাস্তবভিত্তিক বাণিজ্য ভারসাম্যের দিকে এগোতে চাইছে যুক্তরাষ্ট্র।

বেইজিং বৈঠক ঘিরে কূটনৈতিক তৎপরতা

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের বৈঠককে কেন্দ্র করে দুই দেশের কর্মকর্তাদের মধ্যে একাধিক প্রস্তুতিমূলক আলোচনা হয়েছে। এর অংশ হিসেবে দক্ষিণ কোরিয়ায় বৈঠক করেন মার্কিন অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট ও চীনের উপপ্রধানমন্ত্রী হে লিফেং। সেখানে সম্ভাব্য অর্থনৈতিক প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা হয়েছে বলে জানা গেছে।

যদিও বৈঠকের পর আনুষ্ঠানিকভাবে বিস্তারিত কিছু জানানো হয়নি, তবুও কূটনৈতিক মহল মনে করছে দুই দেশই সম্পর্ক কিছুটা স্থিতিশীল করার চেষ্টা করছে।

কৃষি ও জ্বালানি পণ্যে জোর

মে মাসে জ্বালানি তেলের রপ্তানি বাড়াবে চীন: গন্তব্যের তালিকায় রয়েছে  বাংলাদেশও | The Business Standard

যুক্তরাষ্ট্র বিশেষভাবে চীনে কৃষি ও জ্বালানি পণ্যের রপ্তানি বাড়াতে আগ্রহী। বর্তমানে চীন মার্কিন অপরিশোধিত তেল, তরল প্রাকৃতিক গ্যাস, কয়লা ও গরুর মাংসের ওপর অতিরিক্ত শুল্ক আরোপ করে রেখেছে। নতুন আলোচনায় এসব পণ্যের ওপর শুল্ক কমানোর বিষয়টি গুরুত্ব পাচ্ছে।

অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রও চীনা কিছু ভোক্তা পণ্যের ওপর আরোপিত শুল্ক শিথিল করার সম্ভাবনা বিবেচনা করছে। এর মধ্যে ইলেকট্রনিক পণ্য, স্মার্ট ডিভাইস ও জুতাসহ বিভিন্ন পণ্য রয়েছে।

বিনিয়োগ নিয়ে সতর্ক অবস্থান

দুই দেশের মধ্যে বিনিয়োগ সহযোগিতার বিষয়েও আলোচনা চলছে। তবে যুক্তরাষ্ট্র এখনই বড় ধরনের চীনা বিনিয়োগে আগ্রহী নয় বলে ইঙ্গিত দিয়েছে। বিশেষ করে মার্কিন গাড়ি শিল্পে চীনা বিনিয়োগ নিয়ে দেশটির রাজনৈতিক ও শিল্প মহলে উদ্বেগ রয়েছে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দুই দেশের এই নতুন বাণিজ্য উদ্যোগ পুরো সম্পর্ক পাল্টে দেবে না। তবে এটি দীর্ঘদিনের উত্তেজনার মধ্যে একটি বাস্তবসম্মত সমঝোতার সূচনা হতে পারে।