যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের দীর্ঘদিনের বাণিজ্য উত্তেজনার মধ্যেই নতুন সমঝোতার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। দুই দেশের শীর্ষ পর্যায়ের আলোচনায় এবার এমন একটি কাঠামো নিয়ে আলোচনা চলছে, যার মাধ্যমে নির্দিষ্ট কিছু পণ্যে শুল্ক কমিয়ে বাণিজ্য বাড়ানোর চেষ্টা করা হবে। এতে কয়েক বছর ধরে চলা শুল্ক যুদ্ধের চাপ কিছুটা কমতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
বিশ্ব অর্থনীতির দুই বড় শক্তির এই নতুন উদ্যোগকে ঘিরে আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মহলেও বাড়ছে আগ্রহ। বিশেষ করে এমন সময়ে এই আলোচনা হচ্ছে, যখন দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্যের পরিমাণ আগের তুলনায় অনেকটাই কমে গেছে।
নতুন কাঠামো নিয়ে আলোচনা
প্রস্তাবিত পরিকল্পনায় দুই দেশ প্রায় ৩০ বিলিয়ন ডলারের পণ্যে শুল্ক কমানোর পথ খুঁজছে। মূলত যেসব পণ্যকে জাতীয় নিরাপত্তার জন্য ঝুঁকিপূর্ণ মনে করা হয় না, সেগুলোকে এই তালিকায় রাখা হতে পারে। এর মধ্যে কৃষিপণ্য, জ্বালানি এবং কিছু ভোক্তা পণ্য গুরুত্ব পাচ্ছে।

বিশ্লেষকদের মতে, আগের মতো এবার আর চীনের অর্থনৈতিক কাঠামো বদলের চাপ দিচ্ছে না ওয়াশিংটন। বরং দুই দেশের অর্থনৈতিক ব্যবস্থার পার্থক্য মেনে নিয়েই বাস্তবভিত্তিক বাণিজ্য ভারসাম্যের দিকে এগোতে চাইছে যুক্তরাষ্ট্র।
বেইজিং বৈঠক ঘিরে কূটনৈতিক তৎপরতা
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের বৈঠককে কেন্দ্র করে দুই দেশের কর্মকর্তাদের মধ্যে একাধিক প্রস্তুতিমূলক আলোচনা হয়েছে। এর অংশ হিসেবে দক্ষিণ কোরিয়ায় বৈঠক করেন মার্কিন অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট ও চীনের উপপ্রধানমন্ত্রী হে লিফেং। সেখানে সম্ভাব্য অর্থনৈতিক প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা হয়েছে বলে জানা গেছে।
যদিও বৈঠকের পর আনুষ্ঠানিকভাবে বিস্তারিত কিছু জানানো হয়নি, তবুও কূটনৈতিক মহল মনে করছে দুই দেশই সম্পর্ক কিছুটা স্থিতিশীল করার চেষ্টা করছে।
কৃষি ও জ্বালানি পণ্যে জোর

যুক্তরাষ্ট্র বিশেষভাবে চীনে কৃষি ও জ্বালানি পণ্যের রপ্তানি বাড়াতে আগ্রহী। বর্তমানে চীন মার্কিন অপরিশোধিত তেল, তরল প্রাকৃতিক গ্যাস, কয়লা ও গরুর মাংসের ওপর অতিরিক্ত শুল্ক আরোপ করে রেখেছে। নতুন আলোচনায় এসব পণ্যের ওপর শুল্ক কমানোর বিষয়টি গুরুত্ব পাচ্ছে।
অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রও চীনা কিছু ভোক্তা পণ্যের ওপর আরোপিত শুল্ক শিথিল করার সম্ভাবনা বিবেচনা করছে। এর মধ্যে ইলেকট্রনিক পণ্য, স্মার্ট ডিভাইস ও জুতাসহ বিভিন্ন পণ্য রয়েছে।
বিনিয়োগ নিয়ে সতর্ক অবস্থান
দুই দেশের মধ্যে বিনিয়োগ সহযোগিতার বিষয়েও আলোচনা চলছে। তবে যুক্তরাষ্ট্র এখনই বড় ধরনের চীনা বিনিয়োগে আগ্রহী নয় বলে ইঙ্গিত দিয়েছে। বিশেষ করে মার্কিন গাড়ি শিল্পে চীনা বিনিয়োগ নিয়ে দেশটির রাজনৈতিক ও শিল্প মহলে উদ্বেগ রয়েছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দুই দেশের এই নতুন বাণিজ্য উদ্যোগ পুরো সম্পর্ক পাল্টে দেবে না। তবে এটি দীর্ঘদিনের উত্তেজনার মধ্যে একটি বাস্তবসম্মত সমঝোতার সূচনা হতে পারে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















