কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক প্রযুক্তির দ্রুত বিস্তারের প্রভাবে দক্ষিণ কোরিয়ার চিপ নির্মাতা প্রতিষ্ঠান এসকে হাইনিক্স এখন এক ট্রিলিয়ন ডলারের বাজারমূল্যের খুব কাছাকাছি পৌঁছে গেছে। কয়েক সপ্তাহ আগেই স্যামসাং ইলেকট্রনিকস এই মাইলফলক স্পর্শ করেছিল। এখন এসকে হাইনিক্সও একই পথে এগোচ্ছে, যা দক্ষিণ কোরিয়াকে যুক্তরাষ্ট্রের বাইরে একাধিক ট্রিলিয়ন ডলারের প্রযুক্তি কোম্পানির দেশ হিসেবে নতুন অবস্থানে নিয়ে যেতে পারে।
এআই চাহিদায় শেয়ারদরে বিস্ফোরণ
চলতি বছরে এসকে হাইনিক্সের শেয়ারদর ২০০ শতাংশের বেশি বেড়েছে। এর আগে ২০২৫ সালেও প্রতিষ্ঠানটির শেয়ার প্রায় ২৭৪ শতাংশ উল্লম্ফন করেছিল। মূলত এআই সার্ভারে ব্যবহৃত উচ্চগতির মেমোরি চিপ এবং প্রচলিত মেমোরি চিপের ব্যাপক চাহিদা এই উত্থানের প্রধান কারণ।
বিশ্বজুড়ে এআই প্রযুক্তির বিস্তার যত বাড়ছে, ততই বাড়ছে উন্নত মেমোরি চিপের প্রয়োজন। সেই বাজারে এসকে হাইনিক্স নিজেদের অবস্থান আরও শক্ত করেছে। ফলে বিনিয়োগকারীদের আগ্রহও দ্রুত বেড়েছে।

দক্ষিণ কোরিয়ার বাজারে বিদেশি বিনিয়োগের ঢল
দেশটির প্রধান শেয়ার সূচক কোসপি চলতি বছরে ৮৬ শতাংশের বেশি বেড়েছে। এর আগে ২০২৫ সালেও সূচকটি ৭৫ শতাংশ উত্থান দেখেছিল, যা ১৯৯৯ সালের পর সবচেয়ে শক্তিশালী পারফরম্যান্স হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
বিশ্লেষকদের মতে, বিদেশি বিনিয়োগকারীরা এখন দক্ষিণ কোরিয়ার চিপ নির্মাতা প্রতিষ্ঠানগুলোর দিকে ঝুঁকছেন। কারণ বৈশ্বিক এআই সরবরাহ ব্যবস্থায় এই কোম্পানিগুলোর গুরুত্ব দ্রুত বাড়ছে। বাজারে এখন এআইভিত্তিক কোম্পানিগুলোকে ঘিরে এক ধরনের বিনিয়োগ আতঙ্ক ও প্রতিযোগিতা তৈরি হয়েছে।
স্যামসাং, টিএসএমসি ও এসকে হাইনিক্সের প্রতিযোগিতা
দক্ষিণ কোরিয়ার প্রথম ট্রিলিয়ন ডলারের কোম্পানি হিসেবে স্যামসাং ইতোমধ্যে নতুন ইতিহাস গড়েছে। তবে এশিয়ার সবচেয়ে মূল্যবান প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান হিসেবে এখনো শীর্ষে রয়েছে তাইওয়ানের টিএসএমসি।

এসকে হাইনিক্সের বাজারমূল্য এখন প্রায় ৯৪৮ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে। মাত্র ১৬ মাস আগেও যার মূল্য ছিল ১০০ বিলিয়ন ডলারের নিচে। এখন প্রতিষ্ঠানটি বিশ্বের বৃহৎ খুচরা বিক্রেতা ও বিনিয়োগ প্রতিষ্ঠানের বাজারমূল্যের কাছাকাছি পৌঁছে গেছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এআই প্রযুক্তির সম্প্রসারণ অব্যাহত থাকলে আগামী সময়ে চিপ নির্মাতা প্রতিষ্ঠানগুলোর মূল্য আরও বাড়তে পারে। সেই সঙ্গে দক্ষিণ কোরিয়াও বৈশ্বিক প্রযুক্তি অর্থনীতির অন্যতম শক্তিশালী কেন্দ্রে পরিণত হতে পারে।
দক্ষিণ কোরিয়ার প্রযুক্তি খাতের জন্য এটি শুধু আর্থিক সাফল্য নয়, বরং বৈশ্বিক প্রযুক্তি নেতৃত্বের প্রতীক হিসেবেও দেখা হচ্ছে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















