নেপালে ভয়াবহ আকস্মিক বন্যায় প্রায় ৫০০ মানুষের মৃত্যুর পরও বিদেশি অনুসন্ধান ও উদ্ধারদলের সহায়তা আপাতত নিতে রাজি নয় দেশটির সরকার। শুক্রবার নেপালের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, নিজস্ব নিরাপত্তা বাহিনীই উদ্ধার ও অনুসন্ধান কার্যক্রম পরিচালনা করছে এবং এই মুহূর্তে বিদেশি সহায়তার প্রয়োজন নেই।
চীনের সীমান্তবর্তী রাসুয়া জেলায় বন্যার পানির তোড়ে বেশ কয়েকটি জনপদ কার্যত ধ্বংস হয়ে গেছে। ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে জলবিদ্যুৎ প্রকল্পও। দুর্যোগের পর এখনো শত শত বিদেশি নাগরিক নিখোঁজ রয়েছেন।
নিখোঁজ দক্ষিণ কোরীয় নাগরিক
নেপালের বন্যায় দক্ষিণ কোরিয়ার নয়জন নাগরিক নিখোঁজ রয়েছেন। তাঁরা একটি জলবিদ্যুৎ প্রকল্পে কর্মরত ছিলেন। আরও ১০ জন সেখানে আটকা পড়েছেন বলে জানিয়েছে দক্ষিণ কোরিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।
দক্ষিণ কোরিয়া ইতোমধ্যে একটি জরুরি সাড়া দল নেপালে পাঠিয়েছে। পাশাপাশি আরও একটি দুর্যোগ ত্রাণদল পাঠানোর প্রস্তুতি নিয়েছে দেশটি। তবে নেপাল এখনো বিদেশি উদ্ধারদল গ্রহণের পরিকল্পনা করছে না বলে সিউল জানিয়েছে।
দক্ষিণ কোরিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলেছে, নেপালের সঙ্গে এ বিষয়ে আলোচনা অব্যাহত রাখবে তারা। দেশটি আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর মাধ্যমে নেপালকে ১০ লাখ ডলার মানবিক সহায়তার প্রতিশ্রুতিও দিয়েছে।
একাধিক দেশের উদ্ধার সহায়তার প্রস্তাব
নেপালের বন্যায় বিদেশি নাগরিক নিখোঁজ হওয়ার পর ভারত, চীন, যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া, শ্রীলঙ্কা ও বাংলাদেশ নিজেদের অনুসন্ধান ও উদ্ধারদল পাঠানোর আগ্রহ জানিয়েছে।
তবে নেপালের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র লোক বাহাদুর ছেত্রী বলেছেন, দেশটির নিজস্ব নিরাপত্তা সংস্থাগুলোই বর্তমানে উদ্ধার কার্যক্রম চালাচ্ছে।
তিনি বলেন, বিদেশি সহায়তার প্রস্তাব আসা স্বাভাবিক। কিন্তু আপাতত নেপালের এমন সহায়তার প্রয়োজন নেই।
চীনের সীমান্তবর্তী এলাকা নিয়ে প্রশ্ন
নেপালের সাবেক জাতিসংঘ দূত দিনেশ ভট্টরাই মনে করছেন, বিদেশি উদ্ধারদল গ্রহণে সরকারের অনীহার পেছনে রাসুয়া জেলার ভৌগোলিক অবস্থান একটি কারণ হতে পারে। জেলাটি চীনের তিব্বত অঞ্চলের সীমান্তবর্তী হওয়ায় এলাকাটি কৌশলগতভাবে সংবেদনশীল।
তাঁর ধারণা, এই অবস্থানের বিষয়টি বিবেচনা করেই নেপাল বিদেশি উদ্ধারদল না নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়ে থাকতে পারে।
তবে নেপালের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র এ ধরনের ধারণা নাকচ করে বলেছেন, চীনের সংবেদনশীলতার সঙ্গে এই সিদ্ধান্তের কোনো সম্পর্ক নেই। নেপালের নিজস্ব উদ্ধারদল কার্যক্রম সামলাতে পারছে বলেই বিদেশি দল প্রয়োজন হয়নি।
দুর্যোগের পরও বাড়ছে ঝুঁকি
বন্যায় সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোতে উদ্ধারকারীরা ধ্বংসস্তূপের মধ্যে নিখোঁজদের সন্ধান চালিয়ে যাচ্ছেন। বিপুল ক্ষয়ক্ষতির পাশাপাশি সীমান্তবর্তী এলাকায় নতুন করে বন্যা ও ভূমিধসের আশঙ্কাও তৈরি হয়েছে।
নিখোঁজ বিদেশি নাগরিকদের পরিবারের উদ্বেগের মধ্যে দক্ষিণ কোরিয়া নেপালের সঙ্গে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে, যাতে প্রয়োজন হলে দেশটির উদ্ধার ও ত্রাণদল সরাসরি কার্যক্রমে অংশ নিতে পারে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















