নেপালে ভয়াবহ আকস্মিক বন্যা ও হিমবাহ ধসের ঘটনায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৬৭৫ জনে দাঁড়িয়েছে। এখনো নিখোঁজ রয়েছেন ২ হাজার ৪২৬ জন। নিখোঁজদের মধ্যে ৫১৭ জন বিদেশি নাগরিক। উদ্ধার অভিযান অব্যাহত থাকলেও দুর্গম পাহাড়ি এলাকা, বৈরী আবহাওয়া ও যোগাযোগব্যবস্থার কারণে পরিস্থিতি ক্রমেই কঠিন হয়ে উঠছে।
মরদেহ শনাক্তে বড় সংকট
বন্যার তিন দিন পর জীবিত নিখোঁজদের উদ্ধারের সম্ভাবনা দ্রুত কমে আসছে। কমিউনিটি হল, পুলিশ কম্পাউন্ড ও সরকারি বিভিন্ন ভবনকে অস্থায়ী মর্গ হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে। গরম ও আর্দ্র আবহাওয়ায় অধিকাংশ স্থানে মরদেহ সংরক্ষণের জন্য পর্যাপ্ত হিমায়ন ব্যবস্থা নেই। ফলে দ্রুত পচন ধরছে মরদেহে।
চিতওয়ান জেলার প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, বন্যার পানিতে উদ্ধার হওয়া ২৩৩টি মরদেহের মধ্যে মাত্র চারটির পরিচয় শনাক্ত করা সম্ভব হয়েছে। বাকি ২২৯টি মরদেহ সংরক্ষণকেন্দ্রে রাখা হয়েছে এবং ডিএনএ নমুনা সংগ্রহ ও নথিভুক্ত করা হচ্ছে। নেপালের পররাষ্ট্রমন্ত্রী শিশির খানাল মরদেহ সংরক্ষণ ও ডিএনএ পরীক্ষার জন্য আন্তর্জাতিক সহায়তা চেয়েছেন।
নিখোঁজের তালিকায় ৫১৭ বিদেশি
নেপালের দুর্যোগ কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, নিখোঁজ ২ হাজার ৪২৬ জনের মধ্যে ৫১৭ জন বিদেশি নাগরিক। এ তালিকায় জলবিদ্যুৎ প্রকল্পে কর্মরত ৯৩৩ জন শ্রমিক, ৪৫ জন সেনাসদস্য এবং ৪০ জন পুলিশ সদস্যও রয়েছেন।
এদিকে অস্ট্রেলিয়ার ২৬ বছর বয়সী নাগরিক কারা সেভেরিনোকে জীবিত অবস্থায় খুঁজে পাওয়া গেছে। লাংটাং ট্রেকে বন্যার পর যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে আটকা পড়েছিলেন তিনি। পরে বাবা-মায়ের সঙ্গে যোগাযোগ করেন এবং গোসাইকুন্ডায় পৌঁছানোর কথা জানান। তবে এখনো ৪১ জন অস্ট্রেলীয় নিখোঁজ রয়েছেন।
উদ্ধার অভিযানে বাধা পাহাড়ি ভূখণ্ড ও আবহাওয়া
নেপালের পররাষ্ট্রমন্ত্রী শিশির খানাল জানিয়েছেন, নিখোঁজদের খুঁজে বের করাই সরকারের জাতীয় অগ্রাধিকার। তবে পাহাড়ি ভূখণ্ড ও প্রতিকূল আবহাওয়ার কারণে উদ্ধার অভিযান অত্যন্ত চ্যালেঞ্জিং হয়ে উঠেছে। এখন পর্যন্ত ৪ হাজার ৪৫১ জনকে উদ্ধার করা হয়েছে, যাদের মধ্যে ১৮৭ জন বিদেশি। আরও ৪২০ পর্যটকের খোঁজ পাওয়া যায়নি।
রাসুয়ার ত্রিশূলী-৩এ জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের একটি টানেলে এখনো প্রায় ১০০ জন আটকা রয়েছেন। সেনাবাহিনী ড্রিলিং সরঞ্জাম ব্যবহার করে টানেলের প্রবেশপথ পরিষ্কারের চেষ্টা করছে। তবে আবহাওয়ার কারণে অভিযান ব্যাহত হচ্ছে।
দুর্যোগের পরও নতুন ঝুঁকি
নেপাল-চীন সীমান্তের কাছে তৈরি হওয়া একটি ব্যারিয়ার লেক ভেঙে নতুন করে বন্যা ও ভূমিধসের আশঙ্কা তৈরি হয়েছিল। তবে স্যাটেলাইট চিত্রে দেখা গেছে, হ্রদটির আয়তন কমেছে। বৃহস্পতিবারের তুলনায় শনিবার এর পানির পৃষ্ঠ ২১ হাজার বর্গমিটার কমে ৯৯ হাজার বর্গমিটারে নেমেছে। এতে নতুন বন্যার আশঙ্কা কিছুটা কমলেও পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে।
জাতিসংঘ জানিয়েছে, সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত নুয়াকোট ও রাসুয়া জেলায় অন্তত ২০ হাজার পরিবারের খাদ্য সহায়তা প্রয়োজন হতে পারে। জরুরি পানি ও স্যানিটেশন সহায়তা প্রয়োজন প্রায় ৫০ হাজার মানুষের। এছাড়া ১৭ হাজারের বেশি শিশুর জরুরি সহায়তা দরকার। বন্যায় অন্তত ১৮টি স্কুল ধ্বংস এবং আরও ২০টি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত শহর ও অবকাঠামো পুনর্গঠনে নেপালের ৪ থেকে ৫ বিলিয়ন ডলার পর্যন্ত প্রয়োজন হতে পারে বলে জানিয়েছেন দেশটির অর্থমন্ত্রী স্বর্ণিম ওয়াগলে। ধসে সড়ক, সেতু ও গুরুত্বপূর্ণ জলবিদ্যুৎকেন্দ্র ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
Sarakhon Report 


















