১০:২৬ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৯ অগাস্ট ২০২৬
কিশোরদের মানসিক আশ্রয় যখন এআই: সহায়ক প্রযুক্তি নাকি নতুন ঝুঁকি? নেপালের মরদেহ শনাক্ত সংকট: এখনো নিখোঁজ ২,৪২৬ জন; ৫১৭ বিদেশি নাগরিক রাজধানীতে গ্যাস সংকট তীব্র, ৪০-৫০ টাকার গ্যাসের জন্য ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা রংপুরে অটোরিকশাচালককে গলা কেটে হত্যা, নিখোঁজ গাড়ি উদ্ধারে অভিযান ঢাকার যানজট কমাতে ৪ মাসের সময়সীমা, করওয়ান বাজারের কাঁচাবাজার যাবে গাবতলীতে ক্যানসারের ঝুঁকি কমাতে এখন থেকেই মানুন ৫টি সহজ অভ্যাস নিজ দলের কর্মীর সঙ্গে বিরোধ, মারধরের পর যুবদল নেতার মৃত্যু একই দিনে মনপুরার ৩ শিশু নিখোঁজ, উৎকণ্ঠায় পরিবার সেমিফাইনালে বাংলাদেশের প্রতিপক্ষ চূড়ান্ত, লড়াই হবে ভিক্টোরিয়ার সঙ্গে নেপাল-তিব্বত সীমান্তের বন্যায় নিখোঁজ বন্ধু, ভেসে গেল গ্ল্যান্সির পরিচিত গ্রাম

রাজধানীতে গ্যাস সংকট তীব্র, ৪০-৫০ টাকার গ্যাসের জন্য ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা

রাজধানীর সিএনজি ফিলিং স্টেশনগুলোতে আবারও তীব্র গ্যাস সংকট দেখা দিয়েছে। শুক্রবার কিছুটা স্বস্তি মিললেও শনিবার (২৯ আগস্ট) সকাল থেকে গ্যাসের চাপ ফের কমে যায়। এতে সিএনজিচালিত অটোরিকশা, প্রাইভেটকার ও অন্যান্য যানবাহনের চালকদের দীর্ঘ সময় লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে হচ্ছে। ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষার পরও অনেক ক্ষেত্রে মিলছে মাত্র ৪০-৫০ টাকার গ্যাস।

সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, শনিবার একটি সিএনজিতে সর্বোচ্চ ৪০-৫০ টাকার মতো গ্যাস দেওয়া হচ্ছে। প্রাইভেটকারে পাওয়া যাচ্ছে সর্বোচ্চ ১২০ টাকার গ্যাস। অথচ শুক্রবার সিএনজি অটোরিকশায় ১৫০ টাকা পর্যন্ত এবং প্রাইভেটকারে ৩০০ থেকে ৩৫০ টাকা পর্যন্ত গ্যাস পাওয়া গিয়েছিল।

স্বাভাবিক সময়ে একটি সিএনজি অটোরিকশায় আকারভেদে প্রায় ৬০০ টাকার গ্যাস নেওয়া যায়। ৬০ লিটারের সিলিন্ডার থাকা প্রাইভেটকারে প্রায় ৬০০ টাকা এবং ৯০ লিটারের সিলিন্ডারে প্রায় ১ হাজার টাকার গ্যাস নেওয়ার সুযোগ থাকে।

গ্যাসের সঙ্গে বিদ্যুৎ সংকটেও বাড়ছে ভোগান্তি

গ্যাসের চাপ এমনিতেই কম। এর মধ্যে বিদ্যুৎ চলে গেলে ফিলিং স্টেশনে গ্যাস সরবরাহও বন্ধ হয়ে যায়। সংশ্লিষ্টদের ভাষ্য, দিনে কয়েকবার বিদ্যুৎ চলে যাচ্ছে এবং একবার বিদ্যুৎ চলে গেলে তা ফিরতে এক ঘণ্টারও বেশি সময় লাগছে। বিদ্যুৎ আসার পর মেশিন চালু করে গ্যাসের চাপ স্বাভাবিক করতেও আরও প্রায় আধা ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হয়।

ফলে গ্যাসের জন্য লাইনে দাঁড়ানো চালকদের অপেক্ষার সময় আরও দীর্ঘ হচ্ছে। রাজধানীর বিভিন্ন এলাকা ঘুরে ও ভুক্তভোগীদের সঙ্গে কথা বলে এমন চিত্র পাওয়া গেছে।

মিরপুর ও ডেমরায় দীর্ঘ লাইন

গাবতলী, কল্যাণপুর, কালশী, কাজীপাড়া ও শেওড়াপাড়ার সিএনজি স্টেশনগুলোতে শনিবার গাড়ির দীর্ঘ সারি দেখা গেছে। গ্যাসের সরবরাহ কম থাকায় ব্যক্তিগত গাড়ি, মাইক্রোবাস ও অটোরিকশাকে দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হচ্ছে।

গাবতলীর মোহনা ফিলিং স্টেশনে অপেক্ষমাণ প্রাইভেটকার চালক খলিল জানান, দেড় ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে যে পরিমাণ গ্যাস পেয়েছেন, তা দিয়ে মাত্র দুটি ট্রিপ দিতে পেরেছেন। পরে আবার গ্যাসের জন্য লাইনে দাঁড়াতে হয়েছে।

ডেমরাতেও দুই ঘণ্টার বেশি অপেক্ষার কথা জানিয়েছেন চালকেরা। গ্যাসের অভাবে দূরপাল্লার যাত্রী নেওয়া যাচ্ছে না। এতে চালকদের আয় কমে যাওয়ার পাশাপাশি ফিলিং স্টেশন মালিকদেরও লোকসান হচ্ছে।

সবুজবাগে সংকট আরও তীব্র

মুগদা, মানিকনগর, সবুজবাগ, খিলগাঁও, বনশ্রী ও হাজীপাড়া এলাকায় গ্যাসের চাপ অন্যদিনের তুলনায় আরও কম ছিল। কয়েকটি ফিলিং স্টেশনে ‘গ্যাস নেই’ লেখা সাইনবোর্ডও দেখা গেছে।

শান্ত ফিলিং স্টেশনে থাকা চালক কবির হোসেন জানান, সকাল ৯টায় লাইনে দাঁড়িয়েও দুপুর ২টা পর্যন্ত সিরিয়াল পাননি। তার অভিযোগ, গ্যাস না পেলেও প্রতিদিন মালিককে ১ হাজার ২০০ টাকা জমা দিতে হয়।

উত্তরায় কোথাও বন্ধ সরবরাহ, কোথাও দীর্ঘ সারি

উত্তরা এলাকাতেও গ্যাস সংকট ছিল তীব্র। গ্যাসের অভাবে বেশ কয়েকটি সিএনজি ফিলিং স্টেশনে সরবরাহ বন্ধ ছিল। চালু থাকা স্টেশনগুলোতে চাপ কম থাকায় তৈরি হয় দীর্ঘ লাইন।

খন্দকার ফিলিং স্টেশনের ম্যানেজার কামাল আহমেদ বলেন, পরিবহনের বড় একটি অংশ গ্যাসের ওপর নির্ভরশীল। ফলে গ্যাসের চাপ কম থাকলে স্বাভাবিকভাবেই স্টেশনগুলোতে গাড়ির দীর্ঘ সারি তৈরি হয়।

বাসাবাড়িতেও চরম গ্যাস সংকট

সিএনজি স্টেশনের পাশাপাশি রাজধানীর বিভিন্ন আবাসিক এলাকাতেও গ্যাস সংকট তীব্র হয়েছে। অনেক বাসায় ঘণ্টার পর ঘণ্টা চুলা জ্বলছে না। বাধ্য হয়ে পরিবারগুলো সিলিন্ডার, ইনডাকশন ও বৈদ্যুতিক চুলায় রান্না করছে। কেউ কেউ হোটেল থেকে খাবার কিনে খাচ্ছেন।

উত্তরার জাহানারা বেগম জানান, গত তিন দিন ধরে তাদের বাসায় প্রায় গ্যাস নেই। বনশ্রীর চম্পা খাতুন বলেন, গ্যাসের বিকল্প হিসেবে বৈদ্যুতিক চুলায় রান্না করতে হচ্ছে। তবে বিদ্যুৎ চলে গেলে সেই ব্যবস্থাও অচল হয়ে পড়ে।

এদিকে গ্যাস সংকটের প্রভাব শিল্পপ্রতিষ্ঠান ও ব্যবসা-বাণিজ্যেও পড়ছে। রাজধানীর হাজার হাজার পরিবার বিকল্প উপায়ে রান্না করায় ইনডাকশন চুলা ও রাইস কুকারের দামও বেড়েছে বলে জানা গেছে।

জনপ্রিয় সংবাদ

কিশোরদের মানসিক আশ্রয় যখন এআই: সহায়ক প্রযুক্তি নাকি নতুন ঝুঁকি?

রাজধানীতে গ্যাস সংকট তীব্র, ৪০-৫০ টাকার গ্যাসের জন্য ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা

০৯:২৩:৩৩ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৯ অগাস্ট ২০২৬

রাজধানীর সিএনজি ফিলিং স্টেশনগুলোতে আবারও তীব্র গ্যাস সংকট দেখা দিয়েছে। শুক্রবার কিছুটা স্বস্তি মিললেও শনিবার (২৯ আগস্ট) সকাল থেকে গ্যাসের চাপ ফের কমে যায়। এতে সিএনজিচালিত অটোরিকশা, প্রাইভেটকার ও অন্যান্য যানবাহনের চালকদের দীর্ঘ সময় লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে হচ্ছে। ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষার পরও অনেক ক্ষেত্রে মিলছে মাত্র ৪০-৫০ টাকার গ্যাস।

সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, শনিবার একটি সিএনজিতে সর্বোচ্চ ৪০-৫০ টাকার মতো গ্যাস দেওয়া হচ্ছে। প্রাইভেটকারে পাওয়া যাচ্ছে সর্বোচ্চ ১২০ টাকার গ্যাস। অথচ শুক্রবার সিএনজি অটোরিকশায় ১৫০ টাকা পর্যন্ত এবং প্রাইভেটকারে ৩০০ থেকে ৩৫০ টাকা পর্যন্ত গ্যাস পাওয়া গিয়েছিল।

স্বাভাবিক সময়ে একটি সিএনজি অটোরিকশায় আকারভেদে প্রায় ৬০০ টাকার গ্যাস নেওয়া যায়। ৬০ লিটারের সিলিন্ডার থাকা প্রাইভেটকারে প্রায় ৬০০ টাকা এবং ৯০ লিটারের সিলিন্ডারে প্রায় ১ হাজার টাকার গ্যাস নেওয়ার সুযোগ থাকে।

গ্যাসের সঙ্গে বিদ্যুৎ সংকটেও বাড়ছে ভোগান্তি

গ্যাসের চাপ এমনিতেই কম। এর মধ্যে বিদ্যুৎ চলে গেলে ফিলিং স্টেশনে গ্যাস সরবরাহও বন্ধ হয়ে যায়। সংশ্লিষ্টদের ভাষ্য, দিনে কয়েকবার বিদ্যুৎ চলে যাচ্ছে এবং একবার বিদ্যুৎ চলে গেলে তা ফিরতে এক ঘণ্টারও বেশি সময় লাগছে। বিদ্যুৎ আসার পর মেশিন চালু করে গ্যাসের চাপ স্বাভাবিক করতেও আরও প্রায় আধা ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হয়।

ফলে গ্যাসের জন্য লাইনে দাঁড়ানো চালকদের অপেক্ষার সময় আরও দীর্ঘ হচ্ছে। রাজধানীর বিভিন্ন এলাকা ঘুরে ও ভুক্তভোগীদের সঙ্গে কথা বলে এমন চিত্র পাওয়া গেছে।

মিরপুর ও ডেমরায় দীর্ঘ লাইন

গাবতলী, কল্যাণপুর, কালশী, কাজীপাড়া ও শেওড়াপাড়ার সিএনজি স্টেশনগুলোতে শনিবার গাড়ির দীর্ঘ সারি দেখা গেছে। গ্যাসের সরবরাহ কম থাকায় ব্যক্তিগত গাড়ি, মাইক্রোবাস ও অটোরিকশাকে দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হচ্ছে।

গাবতলীর মোহনা ফিলিং স্টেশনে অপেক্ষমাণ প্রাইভেটকার চালক খলিল জানান, দেড় ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে যে পরিমাণ গ্যাস পেয়েছেন, তা দিয়ে মাত্র দুটি ট্রিপ দিতে পেরেছেন। পরে আবার গ্যাসের জন্য লাইনে দাঁড়াতে হয়েছে।

ডেমরাতেও দুই ঘণ্টার বেশি অপেক্ষার কথা জানিয়েছেন চালকেরা। গ্যাসের অভাবে দূরপাল্লার যাত্রী নেওয়া যাচ্ছে না। এতে চালকদের আয় কমে যাওয়ার পাশাপাশি ফিলিং স্টেশন মালিকদেরও লোকসান হচ্ছে।

সবুজবাগে সংকট আরও তীব্র

মুগদা, মানিকনগর, সবুজবাগ, খিলগাঁও, বনশ্রী ও হাজীপাড়া এলাকায় গ্যাসের চাপ অন্যদিনের তুলনায় আরও কম ছিল। কয়েকটি ফিলিং স্টেশনে ‘গ্যাস নেই’ লেখা সাইনবোর্ডও দেখা গেছে।

শান্ত ফিলিং স্টেশনে থাকা চালক কবির হোসেন জানান, সকাল ৯টায় লাইনে দাঁড়িয়েও দুপুর ২টা পর্যন্ত সিরিয়াল পাননি। তার অভিযোগ, গ্যাস না পেলেও প্রতিদিন মালিককে ১ হাজার ২০০ টাকা জমা দিতে হয়।

উত্তরায় কোথাও বন্ধ সরবরাহ, কোথাও দীর্ঘ সারি

উত্তরা এলাকাতেও গ্যাস সংকট ছিল তীব্র। গ্যাসের অভাবে বেশ কয়েকটি সিএনজি ফিলিং স্টেশনে সরবরাহ বন্ধ ছিল। চালু থাকা স্টেশনগুলোতে চাপ কম থাকায় তৈরি হয় দীর্ঘ লাইন।

খন্দকার ফিলিং স্টেশনের ম্যানেজার কামাল আহমেদ বলেন, পরিবহনের বড় একটি অংশ গ্যাসের ওপর নির্ভরশীল। ফলে গ্যাসের চাপ কম থাকলে স্বাভাবিকভাবেই স্টেশনগুলোতে গাড়ির দীর্ঘ সারি তৈরি হয়।

বাসাবাড়িতেও চরম গ্যাস সংকট

সিএনজি স্টেশনের পাশাপাশি রাজধানীর বিভিন্ন আবাসিক এলাকাতেও গ্যাস সংকট তীব্র হয়েছে। অনেক বাসায় ঘণ্টার পর ঘণ্টা চুলা জ্বলছে না। বাধ্য হয়ে পরিবারগুলো সিলিন্ডার, ইনডাকশন ও বৈদ্যুতিক চুলায় রান্না করছে। কেউ কেউ হোটেল থেকে খাবার কিনে খাচ্ছেন।

উত্তরার জাহানারা বেগম জানান, গত তিন দিন ধরে তাদের বাসায় প্রায় গ্যাস নেই। বনশ্রীর চম্পা খাতুন বলেন, গ্যাসের বিকল্প হিসেবে বৈদ্যুতিক চুলায় রান্না করতে হচ্ছে। তবে বিদ্যুৎ চলে গেলে সেই ব্যবস্থাও অচল হয়ে পড়ে।

এদিকে গ্যাস সংকটের প্রভাব শিল্পপ্রতিষ্ঠান ও ব্যবসা-বাণিজ্যেও পড়ছে। রাজধানীর হাজার হাজার পরিবার বিকল্প উপায়ে রান্না করায় ইনডাকশন চুলা ও রাইস কুকারের দামও বেড়েছে বলে জানা গেছে।