রংপুরের গঙ্গাচড়া উপজেলায় মোখলেছুর রহমান (৬০) নামে এক অটোরিকশাচালককে গলা কেটে হত্যা করা হয়েছে। শুক্রবার রাতে উপজেলার একটি নির্জন মাঠ থেকে তাঁর মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এ ঘটনায় এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দা ও পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, গজঘণ্টা শান্তিপাড়া এলাকায় একটি বটগাছের নিচে রাত সাড়ে ১১টার দিকে মোখলেছুরের মরদেহ পড়ে থাকতে দেখেন স্থানীয় এক যুবক। পরে খবর পেয়ে পুলিশ ও অপরাধ তদন্তকারী দলের সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করেন।
নিখোঁজ অটোরিকশা
পুলিশ জানায়, মোখলেছুরের অটোরিকশাটির কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি। সেটি ছিনতাই হয়ে থাকতে পারে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। নিহতের ভাতিজা আবদুল কুদ্দুস জানান, প্রায় ২০ থেকে ২৫ বছর ধরে অটোরিকশা চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করতেন মোখলেছুর।
আবদুল কুদ্দুসের ধারণা, ছিনতাইকারীদের সঙ্গে ধস্তাধস্তির একপর্যায়ে মোখলেছুরকে হত্যা করা হয়ে থাকতে পারে। তবে হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত কারণ ও এর সঙ্গে কারা জড়িত, তা তদন্তের মাধ্যমে নিশ্চিত হবে।
পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি
নিহত মোখলেছুর রহমান নবানিদাস গ্রামের বাসিন্দা ছিলেন। তিনি ছিলেন পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি। তাঁর আয়ের ওপর স্ত্রী, এক ছেলে ও দুই মেয়ে নির্ভরশীল ছিলেন।
হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় পরিবার ও স্থানীয়দের মধ্যে শোকের পাশাপাশি নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে রংপুরজুড়ে একের পর এক সহিংস অপরাধের ঘটনায় এই উদ্বেগ আরও বেড়েছে।
১৪ দিনে ১১ হত্যাকাণ্ড
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রের বরাত দিয়ে জানা গেছে, গত ১৪ দিনে রংপুর জেলায় ১১টি হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। এর মধ্যে একটি পরিবারের চার সদস্যকে হত্যার ঘটনাও রয়েছে, যার রহস্য এখনো উদ্ঘাটিত হয়নি। ধারাবাহিক এসব ঘটনায় জেলার বিভিন্ন এলাকায় আতঙ্ক তৈরি হয়েছে।
গঙ্গাচড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবদুর সবুর জানান, নিখোঁজ অটোরিকশাটি উদ্ধারে অভিযান চলছে। একই সঙ্গে হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে পুলিশ কাজ করছে।
মোখলেছুর রহমানের মরদেহ উদ্ধারের পর ঘটনাটি নতুন করে রংপুরের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ তৈরি করেছে। তবে হত্যার পেছনে ঠিক কী কারণ ছিল এবং অটোরিকশাটি ছিনতাই করা হয়েছে কি না, তা তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 


















