১০:১৫ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৯ অগাস্ট ২০২৬
কিশোরদের মানসিক আশ্রয় যখন এআই: সহায়ক প্রযুক্তি নাকি নতুন ঝুঁকি? নেপালের মরদেহ শনাক্ত সংকট: এখনো নিখোঁজ ২,৪২৬ জন; ৫১৭ বিদেশি নাগরিক রাজধানীতে গ্যাস সংকট তীব্র, ৪০-৫০ টাকার গ্যাসের জন্য ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা রংপুরে অটোরিকশাচালককে গলা কেটে হত্যা, নিখোঁজ গাড়ি উদ্ধারে অভিযান ঢাকার যানজট কমাতে ৪ মাসের সময়সীমা, করওয়ান বাজারের কাঁচাবাজার যাবে গাবতলীতে ক্যানসারের ঝুঁকি কমাতে এখন থেকেই মানুন ৫টি সহজ অভ্যাস নিজ দলের কর্মীর সঙ্গে বিরোধ, মারধরের পর যুবদল নেতার মৃত্যু একই দিনে মনপুরার ৩ শিশু নিখোঁজ, উৎকণ্ঠায় পরিবার সেমিফাইনালে বাংলাদেশের প্রতিপক্ষ চূড়ান্ত, লড়াই হবে ভিক্টোরিয়ার সঙ্গে নেপাল-তিব্বত সীমান্তের বন্যায় নিখোঁজ বন্ধু, ভেসে গেল গ্ল্যান্সির পরিচিত গ্রাম

নিজ দলের কর্মীর সঙ্গে বিরোধ, মারধরের পর যুবদল নেতার মৃত্যু

চট্টগ্রাম নগরীর চান্দগাঁওয়ে ভাসমান ভ্যান বসানো ও চাঁদা আদায়কে কেন্দ্র করে বিরোধের জেরে ফজলুল আমিন নামে এক যুবদল নেতাকে মারধরের পর হত্যার অভিযোগ উঠেছে। শুক্রবার (২৮ আগস্ট) সকালে ওমর আলী মাতব্বর বাড়ি এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

ভ্যান বসানো নিয়ে বিরোধ

স্বজনদের অভিযোগ, সড়কে ভ্যান বসিয়ে চাঁদা নেওয়ার প্রতিবাদ করেছিলেন ফজলুল আমিন। এ নিয়ে নিজ দলের কর্মী হিসেবে পরিচিত শাহজাহান ও তার ছেলে সিফাতের সঙ্গে তার বিরোধ তৈরি হয়।

একপর্যায়ে তাদের মধ্যে কথা কাটাকাটি হয়। পরে ফজলুল আমিনকে ধাক্কা ও ঘুষি মারা হলে তিনি অসুস্থ হয়ে মাটিতে পড়ে যান। স্থানীয়রা তাকে দ্রুত হাসপাতালে নেওয়ার চেষ্টা করেন। তবে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পথেই তার মৃত্যু হয় বলে স্বজনদের দাবি।

স্থানীয়দের ভাষ্য

স্থানীয় সূত্র জানায়, ওই এলাকায় ভাসমান ভ্যান বসানো নিয়ে আগে থেকেই বিরোধ চলছিল। স্থানীয়দের বৈঠকে নির্দিষ্ট জায়গা ছাড়া ভ্যান না বসানোর সিদ্ধান্ত হয়েছিল। কিন্তু শুক্রবার আবার সেখানে ভ্যান বসানো হলে ফজলুল আমিন বাধা দেন।

এ সময় শাহজাহানের সঙ্গে তার কথা কাটাকাটি হয়। এর আগের দিন ভ্যান সরিয়ে দেওয়া হলেও পরে আবার সেটি বসানো হয়েছিল বলে জানা গেছে। ভ্যান বসানোর পেছনে প্রভাবশালী এক নেতার নির্দেশ ছিল বলেও অভিযোগ রয়েছে।

এক প্রত্যক্ষদর্শীর ভাষ্য, চলাচলের রাস্তায় ভ্যান না বসাতে বলায় ফজলুল আমিনের সঙ্গে তর্ক শুরু হয়। একপর্যায়ে তাকে ঘুষি মারা হলে তিনি মাটিতে পড়ে যান। পরে হাসপাতালে নেওয়ার পথেই তার মৃত্যুর খবর পাওয়া যায়।

মামলায় বাবা-ছেলে আসামি

নিহত ফজলুল আমিন ৬ নম্বর পূর্ব ষোলশহর ওয়ার্ড যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক ছিলেন। অভিযুক্ত শাহজাহান চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির এক সদস্যের অনুসারী এবং কৃষক রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত বলে স্থানীয়ভাবে জানা গেছে।

ফজলুল আমিনের পরিবারের পক্ষ থেকে শাহজাহান ও তার ছেলে সিফাতকে আসামি করে চান্দগাঁও থানায় মামলা করা হয়েছে। মামলায় আরও কয়েকজনকে অজ্ঞাত আসামি করা হয়েছে।

তদন্ত চলছে

চান্দগাঁও থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জসিম উদ্দিন জানিয়েছেন, হত্যার অভিযোগে দণ্ডবিধির ৩০২ ধারায় মামলা নেওয়া হয়েছে। ঘটনার সঙ্গে কারা জড়িত এবং বিরোধের প্রকৃত কারণ কী ছিল, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।

ফজলুল আমিনের মরদেহ এলাকায় পৌঁছানোর পর স্বজন ও স্থানীয়দের মধ্যে শোকের পরিবেশ সৃষ্টি হয়। নিজ দলের কর্মীর সঙ্গে বিরোধের জেরে তার মৃত্যুর ঘটনায় এলাকায় ক্ষোভও দেখা দিয়েছে। স্বজন ও স্থানীয়রা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।

জনপ্রিয় সংবাদ

কিশোরদের মানসিক আশ্রয় যখন এআই: সহায়ক প্রযুক্তি নাকি নতুন ঝুঁকি?

নিজ দলের কর্মীর সঙ্গে বিরোধ, মারধরের পর যুবদল নেতার মৃত্যু

০৯:০৬:২৮ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৯ অগাস্ট ২০২৬

চট্টগ্রাম নগরীর চান্দগাঁওয়ে ভাসমান ভ্যান বসানো ও চাঁদা আদায়কে কেন্দ্র করে বিরোধের জেরে ফজলুল আমিন নামে এক যুবদল নেতাকে মারধরের পর হত্যার অভিযোগ উঠেছে। শুক্রবার (২৮ আগস্ট) সকালে ওমর আলী মাতব্বর বাড়ি এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

ভ্যান বসানো নিয়ে বিরোধ

স্বজনদের অভিযোগ, সড়কে ভ্যান বসিয়ে চাঁদা নেওয়ার প্রতিবাদ করেছিলেন ফজলুল আমিন। এ নিয়ে নিজ দলের কর্মী হিসেবে পরিচিত শাহজাহান ও তার ছেলে সিফাতের সঙ্গে তার বিরোধ তৈরি হয়।

একপর্যায়ে তাদের মধ্যে কথা কাটাকাটি হয়। পরে ফজলুল আমিনকে ধাক্কা ও ঘুষি মারা হলে তিনি অসুস্থ হয়ে মাটিতে পড়ে যান। স্থানীয়রা তাকে দ্রুত হাসপাতালে নেওয়ার চেষ্টা করেন। তবে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পথেই তার মৃত্যু হয় বলে স্বজনদের দাবি।

স্থানীয়দের ভাষ্য

স্থানীয় সূত্র জানায়, ওই এলাকায় ভাসমান ভ্যান বসানো নিয়ে আগে থেকেই বিরোধ চলছিল। স্থানীয়দের বৈঠকে নির্দিষ্ট জায়গা ছাড়া ভ্যান না বসানোর সিদ্ধান্ত হয়েছিল। কিন্তু শুক্রবার আবার সেখানে ভ্যান বসানো হলে ফজলুল আমিন বাধা দেন।

এ সময় শাহজাহানের সঙ্গে তার কথা কাটাকাটি হয়। এর আগের দিন ভ্যান সরিয়ে দেওয়া হলেও পরে আবার সেটি বসানো হয়েছিল বলে জানা গেছে। ভ্যান বসানোর পেছনে প্রভাবশালী এক নেতার নির্দেশ ছিল বলেও অভিযোগ রয়েছে।

এক প্রত্যক্ষদর্শীর ভাষ্য, চলাচলের রাস্তায় ভ্যান না বসাতে বলায় ফজলুল আমিনের সঙ্গে তর্ক শুরু হয়। একপর্যায়ে তাকে ঘুষি মারা হলে তিনি মাটিতে পড়ে যান। পরে হাসপাতালে নেওয়ার পথেই তার মৃত্যুর খবর পাওয়া যায়।

মামলায় বাবা-ছেলে আসামি

নিহত ফজলুল আমিন ৬ নম্বর পূর্ব ষোলশহর ওয়ার্ড যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক ছিলেন। অভিযুক্ত শাহজাহান চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির এক সদস্যের অনুসারী এবং কৃষক রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত বলে স্থানীয়ভাবে জানা গেছে।

ফজলুল আমিনের পরিবারের পক্ষ থেকে শাহজাহান ও তার ছেলে সিফাতকে আসামি করে চান্দগাঁও থানায় মামলা করা হয়েছে। মামলায় আরও কয়েকজনকে অজ্ঞাত আসামি করা হয়েছে।

তদন্ত চলছে

চান্দগাঁও থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জসিম উদ্দিন জানিয়েছেন, হত্যার অভিযোগে দণ্ডবিধির ৩০২ ধারায় মামলা নেওয়া হয়েছে। ঘটনার সঙ্গে কারা জড়িত এবং বিরোধের প্রকৃত কারণ কী ছিল, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।

ফজলুল আমিনের মরদেহ এলাকায় পৌঁছানোর পর স্বজন ও স্থানীয়দের মধ্যে শোকের পরিবেশ সৃষ্টি হয়। নিজ দলের কর্মীর সঙ্গে বিরোধের জেরে তার মৃত্যুর ঘটনায় এলাকায় ক্ষোভও দেখা দিয়েছে। স্বজন ও স্থানীয়রা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।