ক্যানসার শব্দটি শুনলেই আতঙ্ক তৈরি হয়। তবে জীবনযাপন ও দৈনন্দিন কিছু অভ্যাসে পরিবর্তন এনে ক্যানসারের ঝুঁকি কমানো সম্ভব। স্বাস্থ্যকর খাবার, নিয়মিত শরীরচর্চা, পর্যাপ্ত ঘুম এবং মানসিক চাপ নিয়ন্ত্রণ—এসব অভ্যাস শরীর সুস্থ রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ক্যানসারের ঝুঁকি কমানোর জন্য একক কোনো উপায় নেই। বরং দীর্ঘদিনের স্বাস্থ্যকর জীবনযাপনই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। এ ক্ষেত্রে পাঁচটি অভ্যাস বিশেষভাবে কাজে আসতে পারে।
পরিশোধিত খাবার কমান
খাদ্যতালিকায় অতিরিক্ত পরিশোধিত চিনি, অতিরিক্ত প্রক্রিয়াজাত খাবার এবং অস্বাস্থ্যকর চর্বিযুক্ত খাবার যতটা সম্ভব কমানো ভালো। এর পরিবর্তে শাকসবজি, ফল, ডাল, পূর্ণ শস্য এবং পুষ্টিকর প্রাকৃতিক খাবারকে গুরুত্ব দেওয়া উচিত।
পর্যাপ্ত সূর্যালোক নিন
সূর্যের আলো শরীরে ভিটামিন ডি তৈরিতে সহায়তা করে। ভিটামিন ডি শরীরের বিভিন্ন স্বাভাবিক কার্যক্রম ও রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থার জন্য গুরুত্বপূর্ণ। তবে অতিরিক্ত রোদে থাকা ত্বকের ক্ষতি করতে পারে। তাই নিরাপদ সময় ও পরিমাণে সূর্যালোক নেওয়া উচিত। ভিটামিন ডির ঘাটতি থাকলে চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া ভালো।
খাবারের মাঝে বিরতি রাখুন
নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে খাবার খাওয়া এবং খাবারের মাঝে পর্যাপ্ত বিরতি রাখা অনেকের জন্য স্বাস্থ্যকর অভ্যাস হতে পারে। তবে দীর্ঘ সময় না খেয়ে থাকা সবার জন্য নিরাপদ নয়। বিশেষ করে কোনো রোগ থাকলে, নিয়মিত ওষুধ সেবন করলে, গর্ভাবস্থায় বা শারীরিক দুর্বলতা থাকলে চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া দীর্ঘ উপবাস করা উচিত নয়।
নিয়মিত শরীরচর্চা করুন
শরীরকে সক্রিয় রাখা ক্যানসারসহ বিভিন্ন দীর্ঘমেয়াদি রোগের ঝুঁকি কমাতে সহায়ক। প্রতিদিন নিয়মিত হাঁটা, সাইকেল চালানো, সাঁতার বা বয়স ও শারীরিক সক্ষমতা অনুযায়ী অন্য কোনো ব্যায়াম করা যেতে পারে।
নিয়মিত শরীরচর্চা ওজন নিয়ন্ত্রণ, হৃদ্স্বাস্থ্য এবং সামগ্রিক শারীরিক সক্ষমতা ভালো রাখতেও সাহায্য করে।
মানসিক চাপ নিয়ন্ত্রণে রাখুন
দীর্ঘদিনের অতিরিক্ত মানসিক চাপ শরীর ও মনের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। তাই পর্যাপ্ত ঘুম, নিয়মিত হাঁটাহাঁটি, প্রিয়জনের সঙ্গে সময় কাটানো এবং নিজের পছন্দের কাজে সময় দেওয়া উপকারী হতে পারে।
সবশেষে মনে রাখতে হবে, এসব অভ্যাস ক্যানসার পুরোপুরি ঠেকানোর নিশ্চয়তা দেয় না। ধূমপান ও তামাক এড়িয়ে চলা, স্বাস্থ্যকর ওজন বজায় রাখা, প্রয়োজনীয় টিকা নেওয়া এবং বয়স ও ঝুঁকি অনুযায়ী নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা করাও ক্যানসারের ঝুঁকি কমাতে গুরুত্বপূর্ণ।
ক্যানসার প্রতিরোধে সবচেয়ে কার্যকর পথ হলো আতঙ্কিত না হয়ে দীর্ঘমেয়াদে স্বাস্থ্যকর জীবনযাপন করা এবং কোনো অস্বাভাবিক উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া।
ক্যানসারের ঝুঁকি কমাতে স্বাস্থ্যকর জীবনযাপন, পরিমিত খাবার, নিয়মিত ব্যায়াম ও মানসিক চাপ নিয়ন্ত্রণে রাখার অভ্যাস গড়ে তুলুন।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 


















