একসময় ফ্যাশনের জগতে আকর্ষণীয় জুতা বলতে বোঝানো হতো চিকন হিল, চকচকে ডিজাইন কিংবা অভিজাত ব্র্যান্ডের পরিপাটি স্টাইল। কিন্তু এখন সেই ধারণা দ্রুত বদলে যাচ্ছে। ফ্যাশনপ্রেমীদের পায়ে দেখা যাচ্ছে অদ্ভুত আকৃতির, চওড়া, ভারী কিংবা অস্বাভাবিক ডিজাইনের জুতা। অনেকের কাছে এগুলো কুৎসিত মনে হলেও বিশ্বজুড়ে এগুলোর জনপ্রিয়তা বাড়ছে দ্রুত।
ফ্যাশন দুনিয়ায় নতুন ধারা
বর্তমানে এমন সব জুতা জনপ্রিয় হচ্ছে যেগুলো আগে কল্পনাও করা যেত না। পাঁচ আঙুল আলাদা করা দৌড়ানোর জুতা, বাগানের ক্লগস, স্নিকার আর লোফারের মিশ্রণ কিংবা মোজার মতো বুট—সবই এখন আধুনিক ফ্যাশনের অংশ। অনেক ডিজাইনার ইচ্ছাকৃতভাবেই এমন জুতা তৈরি করছেন যা দেখতে কিছুটা অদ্ভুত বা অসম্পূর্ণ লাগে।
বিশেষ করে তরুণদের মধ্যে এই ধারা বেশি জনপ্রিয়। কারণ তারা এখন নিখুঁত বা অতিরিক্ত সাজানো স্টাইলের বদলে আলাদা পরিচয় তৈরি করতে চাইছেন। ফলে প্রচলিত সৌন্দর্যের ধারণা ভেঙে নতুন ধরনের জুতার প্রতি আগ্রহ বাড়ছে।

অস্বাভাবিকতাই এখন আকর্ষণ
ফ্যাশন বিশ্লেষকদের মতে, এই ধরনের জুতা শুধু পোশাকের অংশ নয়, বরং ব্যক্তিত্ব প্রকাশের মাধ্যম হয়ে উঠেছে। সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়ার প্রবণতাও এর পেছনে বড় কারণ। এমন জুতা সহজেই মানুষের নজর কাড়ে এবং আলোচনা তৈরি করে।
বিশেষ করে বিভক্ত আঙুলের জুতা কিংবা অদ্ভুত আকৃতির ভারী বুট এখন ফ্যাশন সচেতনদের কাছে এক ধরনের সাংস্কৃতিক সংকেত। এগুলো দেখিয়ে অনেকে বোঝাতে চান যে তারা মূলধারার বাইরে গিয়ে নতুন কিছু অনুসরণ করছেন।
আরামও বড় কারণ
শুধু স্টাইল নয়, আরামও এই প্রবণতার অন্যতম কারণ। অনেক ‘কুৎসিত’ জুতাই অত্যন্ত আরামদায়ক। হাঁটা, ভ্রমণ বা দীর্ঘ সময় ব্যবহারের জন্য এগুলো বেশ সুবিধাজনক। ফলে ফ্যাশন ও ব্যবহারিক সুবিধার মিশ্রণ তৈরি হয়েছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, কাজের পোশাক, খেলাধুলার পোশাক এবং দৈনন্দিন স্টাইলের সীমারেখা এখন ধীরে ধীরে মিলিয়ে যাচ্ছে। তাই আরামদায়ক অথচ ভিন্নধর্মী জুতার চাহিদা বাড়ছে দ্রুত।

সামাজিক মাধ্যমের প্রভাব
সামাজিক মাধ্যমেও এই প্রবণতা বড় ভূমিকা রাখছে। অনেক ফ্যাশন নির্মাতা ইচ্ছাকৃতভাবে পোশাকের সঙ্গে ‘বেমানান’ জুতা ব্যবহার করছেন, যাতে পুরো স্টাইলে আলাদা বৈচিত্র্য আসে। এই ধারণা থেকেই নতুন নতুন মিশ্রধর্মী জুতার জনপ্রিয়তা তৈরি হয়েছে।
ফ্যাশন পর্যবেক্ষকদের মতে, কৃত্রিমভাবে নিখুঁত সাজের বিপরীতে মানুষ এখন এমন কিছু খুঁজছে যা স্বাভাবিক, মজার এবং ব্যতিক্রমী। আর সেই জায়গাতেই ‘কুৎসিত জুতা’ জায়গা করে নিয়েছে।
ফ্যাশনের ভবিষ্যৎ কোন পথে
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, আগামী দিনেও এই ধারা আরও বিস্তৃত হতে পারে। কারণ এখনকার ফ্যাশনে সৌন্দর্যের চেয়ে স্বাতন্ত্র্য, আরাম এবং ব্যক্তিগত প্রকাশ বেশি গুরুত্ব পাচ্ছে। ফলে অদ্ভুত বা অসম্ভব মনে হওয়া ডিজাইনও দ্রুত জনপ্রিয় হয়ে উঠছে।


সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















