স্মার্ট প্রযুক্তির দুনিয়ায় নতুন আলোচনার কেন্দ্রে উঠে এসেছে মেটার স্মার্ট চশমা। দেখতে সাধারণ সানগ্লাসের মতো হলেও এই চশমার ভেতরে থাকা ক্যামেরা ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক প্রযুক্তি এখন ব্যক্তিগত গোপনীয়তা নিয়ে বড় ধরনের বিতর্ক তৈরি করেছে। বিশেষ করে নারীদের গোপনে ভিডিও ধারণ ও পরে তা সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার অভিযোগে নতুন করে সমালোচনার মুখে পড়েছে প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানটি।
সম্প্রতি বিভিন্ন ঘটনায় দেখা গেছে, সৈকত, দোকান কিংবা রাস্তায় দাঁড়িয়ে থাকা নারীদের কাছে কিছু ব্যক্তি সাধারণ আলাপ বা কথোপকথনের অজুহাতে এগিয়ে যাচ্ছেন। পরে জানা যাচ্ছে, তারা মেটার স্মার্ট চশমা ব্যবহার করে গোপনে ভিডিও ধারণ করেছেন। অনেক নারী ভিডিও ভাইরাল হওয়ার পরই বিষয়টি জানতে পারছেন। সেই ভিডিওর নিচে কটূক্তি ও অনলাইন হয়রানির ঘটনাও বাড়ছে।
গোপনে ধারণ করা ভিডিও নিয়ে ক্ষোভ
ভুক্তভোগীদের একজন জানান, তিনি পরে জানতে পারেন যে তার ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। ভিডিও সরানোর অনুরোধ করলে তাকে বলা হয়, সেটি সরাতে অর্থ দিতে হবে। এই ধরনের ঘটনা অনলাইনে ব্যক্তিগত নিরাপত্তা ও সম্মান নিয়ে নতুন উদ্বেগ তৈরি করেছে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, প্রকাশ্য স্থানে ছবি বা ভিডিও ধারণ অনেক দেশে বৈধ হওয়ায় আইনি ব্যবস্থা নেওয়া কঠিন হয়ে পড়ে। ফলে গোপনে ধারণ করা ভিডিওর শিকার ব্যক্তিরা অনেক সময় কার্যকর প্রতিকার পাচ্ছেন না।
কেন এত জনপ্রিয় মেটার স্মার্ট চশমা
মেটার এই চশমা বাজারে সবচেয়ে বেশি বিক্রি হওয়া স্মার্ট চশমাগুলোর একটি। প্রযুক্তি বিশ্লেষকদের ধারণা, বর্তমানে বিশ্বব্যাপী বিক্রি হওয়া স্মার্ট চশমার বড় অংশই মেটার দখলে। জনপ্রিয় রে-ব্যান নকশার মতো দেখতে হওয়ায় অনেকেই সহজে বুঝতে পারেন না যে এটি আসলে ক্যামেরাসহ উন্নত প্রযুক্তির ডিভাইস।
চশমার ফ্রেমের ভেতরে প্রায় অদৃশ্য ক্যামেরা, ছোট স্পিকার এবং তথ্য প্রদর্শনের সুবিধা রয়েছে। ব্যবহারকারী শুধু ফ্রেমে স্পর্শ করেই ছবি বা ভিডিও ধারণ করতে পারেন। এ কারণেই আশপাশের মানুষ অনেক সময় বুঝতেই পারেন না যে তাদের ভিডিও ধারণ করা হচ্ছে।
মামলা ও বিতর্ক বাড়ছে

এই স্মার্ট চশমা নিয়ে ইতোমধ্যে একাধিক আইনি জটিলতাও তৈরি হয়েছে। অভিযোগ উঠেছে, কিছু ভিডিও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার প্রশিক্ষণ ডেটা তৈরির কাজে ব্যবহার করা হয়েছে। এ নিয়ে ব্যবহারকারীদের পক্ষ থেকে মামলা দায়ের করা হয়েছে।
কিছু ব্যবহারকারী দাবি করেছেন, তারা জানতেনই না যে তাদের ধারণ করা ভিডিও অন্যদের পর্যালোচনার জন্য ব্যবহৃত হচ্ছে। আবার কেউ কেউ বলেছেন, তাদের অজান্তেই ব্যক্তিগত মুহূর্তের ভিডিও সংরক্ষণ বা শেয়ার করা হয়েছে।
প্রযুক্তির সুবিধা নাকি গোপন নজরদারি
বিশ্লেষকদের মতে, স্মার্ট চশমা প্রযুক্তি ভবিষ্যতের বড় বাজার তৈরি করতে পারে। তবে এর সঙ্গে ব্যক্তিগত গোপনীয়তা, নিরাপত্তা ও নৈতিকতার প্রশ্নও আরও জোরালো হচ্ছে। অনেকেই আশঙ্কা করছেন, ছোট ও অদৃশ্য ক্যামেরাযুক্ত ডিভাইস মানুষের ব্যক্তিগত জীবনকে আরও অনিরাপদ করে তুলতে পারে।
প্রযুক্তির অগ্রগতির সঙ্গে সঙ্গে এখন প্রশ্ন উঠছে—সুবিধা ও ব্যক্তিগত স্বাধীনতার সীমারেখা কোথায় টানা হবে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















