রাজধানী ঢাকার বায়ুদূষণ আবারও উদ্বেগজনক পর্যায়ে পৌঁছেছে। বৃহস্পতিবার সকালে বিশ্বের সবচেয়ে দূষিত শহরের তালিকায় প্রথম স্থানে উঠে এসেছে ঢাকা। সকাল সাড়ে ৮টার দিকে শহরটির বায়ুমানের সূচক ছিল ১৬৬, যা ‘অস্বাস্থ্যকর’ হিসেবে বিবেচিত হয়।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই মাত্রার দূষিত বাতাস সাধারণ মানুষের জন্যও ক্ষতিকর। বিশেষ করে শিশু, বয়স্ক ব্যক্তি এবং শ্বাসকষ্ট বা হৃদরোগে আক্রান্তদের জন্য পরিস্থিতি আরও ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে ওঠে।
দূষণের তালিকায় শীর্ষে এশিয়ার শহরগুলো
বৈশ্বিক বায়ুমান সূচকে ঢাকার পরেই ছিল চীনের চেংদু ও বেইজিং। এই দুই শহরের স্কোর ছিল ১৫৮। এরপর তালিকায় ছিল মিশরের কায়রো, যার স্কোর ১৫৭।

বায়ুমান সূচক অনুযায়ী, ১০১ থেকে ১৫০ পর্যন্ত মাত্রা সংবেদনশীল মানুষের জন্য অস্বাস্থ্যকর ধরা হয়। আর ১৫১ থেকে ২০০ পর্যন্ত হলে তা সাধারণ মানুষের জন্যও ক্ষতিকর হয়ে দাঁড়ায়। সূচক ২০০ ছাড়িয়ে গেলে পরিস্থিতি আরও বিপজ্জনক রূপ নেয়।
কেন বাড়ছে ঢাকার বায়ুদূষণ
দীর্ঘদিন ধরেই বায়ুদূষণের সমস্যায় ভুগছে ঢাকা। শুষ্ক মৌসুমে ধুলাবালি, নির্মাণকাজ, যানবাহনের ধোঁয়া এবং শিল্পকারখানার নির্গমন পরিস্থিতিকে আরও খারাপ করে তোলে। বিশেষ করে শীতকালে দূষণের মাত্রা বেড়ে যায়। বর্ষা মৌসুমে কিছুটা স্বস্তি মিললেও বছরের বড় সময়জুড়েই দূষিত বাতাসে বসবাস করতে হয় নগরবাসীকে।
বিশ্ব স্বাস্থ্য পরিস্থিতিতেও উদ্বেগ
বিশ্বজুড়ে বায়ুদূষণ এখন বড় স্বাস্থ্যঝুঁকি হিসেবে দেখা হচ্ছে। দূষিত বাতাসের কারণে প্রতি বছর লাখ লাখ মানুষ স্ট্রোক, হৃদরোগ, ফুসফুসের ক্যানসার এবং শ্বাসতন্ত্রের নানা জটিল রোগে আক্রান্ত হচ্ছেন। চিকিৎসকরা বলছেন, দীর্ঘ সময় দূষিত বাতাসে থাকলে শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাও দুর্বল হয়ে পড়ে।
বাংলাদেশে বায়ুমানের সূচক নির্ধারণ করা হয় কয়েকটি প্রধান দূষণ উপাদানের ভিত্তিতে। এর মধ্যে রয়েছে ক্ষুদ্র বস্তুকণা, নাইট্রোজেন ডাই-অক্সাইড, কার্বন মনোক্সাইড, সালফার ডাই-অক্সাইড এবং ওজোন।

সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















