০৫:৩০ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৯ মে ২০২৬
মুশফিকের দুর্দান্ত সেঞ্চুরিতে পাকিস্তানের সামনে ৪৩৭ রানের পাহাড় হাম চিকিৎসা কেন জরুরি ঘোষণা করা হচ্ছে না র‌্যাবকে জনবান্ধব বাহিনী হিসেবে গড়ে তোলার ঘোষণা, আসছে নতুন আইন ও নাম পরিবর্তনের ভাবনা ফার্নেস অয়েলের দাম আবার বাড়ল, লিটারপ্রতি এখন ১১৩ টাকা ৫৪ পয়সা ঈদে টানা ৭ দিন বন্ধ থাকবে ব্যাংক, বিশেষ এলাকায় সীমিত সেবা চালু মৃগীরোগে অচেতন চালক, সেই সুযোগে ভ্যান চুরি: ঝিনাইদহে মানবিকতা নিয়ে প্রশ্ন জাবিতে ধর্ষণচেষ্টা মামলার আসামি গ্রেপ্তারের দাবিতে ঢাকা-আরিচা মহাসড়ক অবরোধ কোরবানির ঈদ ২৮ মে, বাংলাদেশে জিলহজ মাস শুরু তনু হত্যা মামলায় চাঞ্চল্যকর নতুন তথ্য, ডিএনএ পরীক্ষায় মিলল চতুর্থ পুরুষের রক্ত বাংলাদেশে প্রথম ‘অরেঞ্জ বন্ড’ আসছে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে, ডিএসই-ব্র্যাক ইপিএলের চুক্তি

সোশ্যাল মিডিয়া নিষেধাজ্ঞা নিয়ে ব্রিটিশ কিশোরদের দ্বিধা: ঝুঁকি জানলেও ‘না’ বলছে তরুণ প্রজন্ম

সোশ্যাল মিডিয়ার ক্ষতিকর দিক সম্পর্কে সচেতন হলেও তা পুরোপুরি নিষিদ্ধ করার পক্ষে নয় ব্রিটেনের কিশোররা। অস্ট্রেলিয়ার মতো ১৬ বছরের নিচে ব্যবহার বন্ধ করার প্রস্তাব ঘিরে দেশটিতে যখন আলোচনা চলছে, তখন তরুণদের বড় একটি অংশ বলছে—এটি সরকারের কাজ নয়।

জীবনের অংশ হয়ে ওঠা সোশ্যাল মিডিয়া

লন্ডনের এক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা জানায়, সোশ্যাল মিডিয়া তাদের সামাজিক যোগাযোগ, নতুন সম্পর্ক তৈরি এবং বিশ্ব সম্পর্কে জানার একটি গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম। দৈনন্দিন জীবনে এটি এতটাই গভীরভাবে যুক্ত যে একে হঠাৎ নিষিদ্ধ করা বাস্তবসম্মত নয় বলে মনে করছে তারা।

তবে তারা এটাও স্বীকার করেছে, অনেক সময় এসব প্ল্যাটফর্মে সময় কাটানো নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়। দীর্ঘ সময় ধরে অবিরাম স্ক্রল করা, অর্থহীন কনটেন্ট দেখা এবং সময় নষ্ট করার অভ্যাস তাদের মধ্যেই উদ্বেগ তৈরি করছে।

ফ্লোরিডায় শিশুদের সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহার নিষিদ্ধ

মানসিক চাপ, বিরক্তি ও ঝুঁকির মুখ

কিশোরদের অভিজ্ঞতায় উঠে এসেছে সোশ্যাল মিডিয়ার অন্ধকার দিকও। অনেকেই বলছে, এসব প্ল্যাটফর্মে নেতিবাচক কনটেন্ট, হয়রানি এবং মানসিক চাপের মুখে পড়তে হয়। কিছু ক্ষেত্রে আত্মবিশ্বাস কমে যায়, বিশেষ করে শরীর নিয়ে তুলনামূলক কনটেন্ট দেখলে।

আবার কেউ কেউ মনে করে, পরীক্ষার চাপ বা দৈনন্দিন ক্লান্তি থেকে সাময়িক মুক্তি দিতেও সোশ্যাল মিডিয়া ভূমিকা রাখে। ফলে এর প্রভাব একমাত্রিক নয়, বরং জটিল এবং ব্যক্তি ভেদে ভিন্ন।

কিশোর–কিশোরীদের অলস সময় বাড়াচ্ছে সোশ্যাল মিডিয়া, ঝুঁকিতে বাংলাদেশও

নিয়ন্ত্রণ ভাঙার বাস্তবতা

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমগুলো কিশোরদের জন্য নানা নিরাপত্তা ব্যবস্থা চালু করলেও বাস্তবে অনেকেই তা পাশ কাটাতে সক্ষম হচ্ছে। বয়সভিত্তিক সীমা, সময় নিয়ন্ত্রণ কিংবা অভিভাবক তদারকি—সবকিছুই অনেক ক্ষেত্রে কার্যকরভাবে প্রয়োগ করা যাচ্ছে না।

এমন পরিস্থিতিতে অনেক কিশোরের আশঙ্কা, নিষেধাজ্ঞা দিলে তারা আরও ঝুঁকিপূর্ণ বিকল্প প্ল্যাটফর্মে চলে যেতে পারে, যা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলবে।

বিশেষজ্ঞদের সতর্ক বার্তা

গবেষকদের মতে, সোশ্যাল মিডিয়ার প্রভাব একরকম নয়। কারও জন্য এটি ঝুঁকিপূর্ণ হলেও অন্যদের জন্য এটি গুরুত্বপূর্ণ যোগাযোগের মাধ্যম। তাই সরাসরি নিষেধাজ্ঞা সমস্যার সমাধান নাও হতে পারে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বরং প্ল্যাটফর্মগুলোর নকশা ও অ্যালগরিদমকে নিরাপদ করা জরুরি। কারণ এসব মাধ্যম ব্যবহারকারীর মনোযোগ ধরে রাখতে তৈরি, যা অনেক সময় আসক্তির মতো আচরণ তৈরি করে।

অস্ট্রেলিয়ায় কিশোরদের সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা

নিষেধাজ্ঞা কি কার্যকর হবে?

অস্ট্রেলিয়ার অভিজ্ঞতায় দেখা গেছে, নিষেধাজ্ঞার পরও উল্লেখযোগ্য সংখ্যক কিশোর সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহার চালিয়ে যাচ্ছে। এতে করে প্রশ্ন উঠছে—এ ধরনের পদক্ষেপ কতটা কার্যকর।

নীতিনির্ধারকদের জন্য চ্যালেঞ্জ হচ্ছে এমন একটি সমাধান খুঁজে বের করা, যা একদিকে শিশুদের নিরাপদ রাখবে, অন্যদিকে তাদের ডিজিটাল জগতে অংশগ্রহণের অধিকারও বজায় রাখবে।

জনপ্রিয় সংবাদ

মুশফিকের দুর্দান্ত সেঞ্চুরিতে পাকিস্তানের সামনে ৪৩৭ রানের পাহাড়

সোশ্যাল মিডিয়া নিষেধাজ্ঞা নিয়ে ব্রিটিশ কিশোরদের দ্বিধা: ঝুঁকি জানলেও ‘না’ বলছে তরুণ প্রজন্ম

১২:৫৭:১২ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৭ মার্চ ২০২৬

সোশ্যাল মিডিয়ার ক্ষতিকর দিক সম্পর্কে সচেতন হলেও তা পুরোপুরি নিষিদ্ধ করার পক্ষে নয় ব্রিটেনের কিশোররা। অস্ট্রেলিয়ার মতো ১৬ বছরের নিচে ব্যবহার বন্ধ করার প্রস্তাব ঘিরে দেশটিতে যখন আলোচনা চলছে, তখন তরুণদের বড় একটি অংশ বলছে—এটি সরকারের কাজ নয়।

জীবনের অংশ হয়ে ওঠা সোশ্যাল মিডিয়া

লন্ডনের এক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা জানায়, সোশ্যাল মিডিয়া তাদের সামাজিক যোগাযোগ, নতুন সম্পর্ক তৈরি এবং বিশ্ব সম্পর্কে জানার একটি গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম। দৈনন্দিন জীবনে এটি এতটাই গভীরভাবে যুক্ত যে একে হঠাৎ নিষিদ্ধ করা বাস্তবসম্মত নয় বলে মনে করছে তারা।

তবে তারা এটাও স্বীকার করেছে, অনেক সময় এসব প্ল্যাটফর্মে সময় কাটানো নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়। দীর্ঘ সময় ধরে অবিরাম স্ক্রল করা, অর্থহীন কনটেন্ট দেখা এবং সময় নষ্ট করার অভ্যাস তাদের মধ্যেই উদ্বেগ তৈরি করছে।

ফ্লোরিডায় শিশুদের সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহার নিষিদ্ধ

মানসিক চাপ, বিরক্তি ও ঝুঁকির মুখ

কিশোরদের অভিজ্ঞতায় উঠে এসেছে সোশ্যাল মিডিয়ার অন্ধকার দিকও। অনেকেই বলছে, এসব প্ল্যাটফর্মে নেতিবাচক কনটেন্ট, হয়রানি এবং মানসিক চাপের মুখে পড়তে হয়। কিছু ক্ষেত্রে আত্মবিশ্বাস কমে যায়, বিশেষ করে শরীর নিয়ে তুলনামূলক কনটেন্ট দেখলে।

আবার কেউ কেউ মনে করে, পরীক্ষার চাপ বা দৈনন্দিন ক্লান্তি থেকে সাময়িক মুক্তি দিতেও সোশ্যাল মিডিয়া ভূমিকা রাখে। ফলে এর প্রভাব একমাত্রিক নয়, বরং জটিল এবং ব্যক্তি ভেদে ভিন্ন।

কিশোর–কিশোরীদের অলস সময় বাড়াচ্ছে সোশ্যাল মিডিয়া, ঝুঁকিতে বাংলাদেশও

নিয়ন্ত্রণ ভাঙার বাস্তবতা

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমগুলো কিশোরদের জন্য নানা নিরাপত্তা ব্যবস্থা চালু করলেও বাস্তবে অনেকেই তা পাশ কাটাতে সক্ষম হচ্ছে। বয়সভিত্তিক সীমা, সময় নিয়ন্ত্রণ কিংবা অভিভাবক তদারকি—সবকিছুই অনেক ক্ষেত্রে কার্যকরভাবে প্রয়োগ করা যাচ্ছে না।

এমন পরিস্থিতিতে অনেক কিশোরের আশঙ্কা, নিষেধাজ্ঞা দিলে তারা আরও ঝুঁকিপূর্ণ বিকল্প প্ল্যাটফর্মে চলে যেতে পারে, যা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলবে।

বিশেষজ্ঞদের সতর্ক বার্তা

গবেষকদের মতে, সোশ্যাল মিডিয়ার প্রভাব একরকম নয়। কারও জন্য এটি ঝুঁকিপূর্ণ হলেও অন্যদের জন্য এটি গুরুত্বপূর্ণ যোগাযোগের মাধ্যম। তাই সরাসরি নিষেধাজ্ঞা সমস্যার সমাধান নাও হতে পারে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বরং প্ল্যাটফর্মগুলোর নকশা ও অ্যালগরিদমকে নিরাপদ করা জরুরি। কারণ এসব মাধ্যম ব্যবহারকারীর মনোযোগ ধরে রাখতে তৈরি, যা অনেক সময় আসক্তির মতো আচরণ তৈরি করে।

অস্ট্রেলিয়ায় কিশোরদের সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা

নিষেধাজ্ঞা কি কার্যকর হবে?

অস্ট্রেলিয়ার অভিজ্ঞতায় দেখা গেছে, নিষেধাজ্ঞার পরও উল্লেখযোগ্য সংখ্যক কিশোর সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহার চালিয়ে যাচ্ছে। এতে করে প্রশ্ন উঠছে—এ ধরনের পদক্ষেপ কতটা কার্যকর।

নীতিনির্ধারকদের জন্য চ্যালেঞ্জ হচ্ছে এমন একটি সমাধান খুঁজে বের করা, যা একদিকে শিশুদের নিরাপদ রাখবে, অন্যদিকে তাদের ডিজিটাল জগতে অংশগ্রহণের অধিকারও বজায় রাখবে।