হরমুজ প্রণালীতে হামলার শিকার হওয়া একটি পণ্যবাহী জাহাজের ২০ জন থাই নাবিক অবশেষে দেশে ফিরেছেন। তবে একই জাহাজের আরও তিনজন নাবিক এখনও নিখোঁজ থাকায় উদ্বেগ কাটছে না পরিবারগুলোর। যুদ্ধ পরিস্থিতির মধ্যে সমুদ্রপথে কাজ করা নাবিকদের নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে।
হামলার পর ফেরত, তবুও আতঙ্ক কাটেনি
গত সপ্তাহে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালী দিয়ে যাওয়ার সময় থাই নিবন্ধিত জাহাজ ‘মায়ুরী নারি’ দুটি প্রজেক্টাইলের আঘাতে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এই হামলার পর জাহাজে থাকা নাবিকদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। সোমবার ভোরে ২০ জন নাবিক দেশে পৌঁছালেও তাদেরকে সরাসরি বিমানবন্দর থেকে সরিয়ে নেওয়া হয়, ফলে গণমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলার সুযোগ পাননি তারা।
পরিবারের অপেক্ষা, অনিশ্চয়তার দীর্ঘ ছায়া
ফেরত আসা নাবিকদের পরিবারের সদস্যরা বিমানবন্দরে অপেক্ষা করছিলেন। একজন নাবিকের স্ত্রী জানান, তিনি এখনও তার স্বামীর সঙ্গে দেখা করতে পারেননি। পুরো ঘটনার পর থেকে তাদের মনে ভয় কাজ করছে। তিনি বলেন, চাকরির কারণে সমুদ্রে যেতে হয়, না গেলে আয় বন্ধ হয়ে যাবে। কিন্তু কোথায় গেছেন, কবে ফিরবেন—এসব বিষয়ে কোম্পানি থেকে কোনো স্পষ্ট তথ্য পাননি তিনি।
তিনি আরও জানান, স্বামীর সঙ্গে শুধুমাত্র সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে কথা হয়েছে। স্বামীর অনুরোধে এক বছরের সন্তানকে নিয়েও বিমানবন্দরে এসেছিলেন তিনি। হামলার সময় স্বামী তাড়াহুড়ো করে পালানোর সময় শুধু মোবাইল ফোনটি নিতে পেরেছিলেন, সন্তানের একটি ছোট বালিশ জাহাজেই রেখে আসতে হয়েছে বলে পরে দুঃখ প্রকাশ করেছেন।

নিখোঁজ তিন নাবিক, বাড়ছে উদ্বেগ
জাহাজটির মালিক প্রতিষ্ঠান জানিয়েছে, এখনও নিখোঁজ থাকা তিনজন নাবিককে খুঁজে বের করাই তাদের প্রধান অগ্রাধিকার। ধারণা করা হচ্ছে, হামলার সময় ক্ষতিগ্রস্ত ইঞ্জিন কক্ষে তারা আটকা পড়েছিলেন। তবে এ বিষয়ে বিস্তারিত কোনো তথ্য এখনও প্রকাশ করা হয়নি।

নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন, মানবিক দৃষ্টিভঙ্গির দাবি
নাবিকের স্ত্রী ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, যুদ্ধ পরিস্থিতিতে জাহাজের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা জরুরি। তিনি চান, কোম্পানিগুলো যেন কর্মীদের নিজেদের পরিবারের সদস্যের মতো বিবেচনা করে সিদ্ধান্ত নেয়। এই ঘটনার পর আন্তর্জাতিক বাণিজ্যিক নৌপথে কর্মরত নাবিকদের নিরাপত্তা ও মানসিক স্বাস্থ্যের বিষয়টি নতুন করে সামনে এসেছে।
সহায়তার আশ্বাস
জাহাজের মালিকপক্ষ জানিয়েছে, ফেরত আসা নাবিকদের জন্য চিকিৎসা পরীক্ষা ও মানসিক সহায়তা প্রদান করা হবে। তবে নিখোঁজদের খোঁজ না মেলা পর্যন্ত পরিস্থিতি স্বাভাবিক হচ্ছে না।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 


















