ভারতের আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনের সূচি ঘোষণার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই পশ্চিমবঙ্গের প্রশাসনে বড় ধরনের রদবদল করেছে নির্বাচন কমিশন। রাজ্যের প্রধান সচিব ও স্বরাষ্ট্র সচিবকে সরিয়ে দিয়ে নতুন কর্মকর্তাদের আনার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, যা নির্বাচনের আগে প্রশাসনিক নিরপেক্ষতা নিশ্চিত করার অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
সহিংসতামুক্ত ভোটে কমিশনের কঠোর বার্তা
নির্বাচন কমিশনের এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, পশ্চিমবঙ্গে সহিংসতামুক্ত নির্বাচন নিশ্চিত করতে তারা যেকোনো পর্যায়ে যেতে প্রস্তুত। শুধু শীর্ষ কর্মকর্তাই নয়, নিচু স্তরের পুলিশ ও প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের ভূমিকাও গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছে কমিশন। তাই প্রয়োজনে আরও অনেক কর্মকর্তাকে বদলি করা হবে এবং স্বচ্ছ ও কঠোর কর্মকর্তাদের দায়িত্বে আনা হবে।
একই সঙ্গে রাজ্যে ফেব্রুয়ারির শেষের পর যেসব কর্মকর্তার বদলি হয়েছে, তাদের সম্পর্কেও বিস্তারিত তথ্য চেয়েছে নির্বাচন কমিশন। এর মাধ্যমে পুরো প্রশাসনিক কাঠামোকে নজরদারির আওতায় আনা হচ্ছে।
![]()
রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়া ও প্রতিবাদ
এই পদক্ষেপের প্রতিবাদ জানিয়েছে ক্ষমতাসীন তৃণমূল কংগ্রেস। দলের সংসদ সদস্য ডেরেক ও’ব্রায়েন রাজ্যসভার অধিবেশন থেকে ওয়াকআউট করেন। তার সঙ্গে দলের আরও সদস্যও প্রতিবাদে অংশ নেন। এই ঘটনার মধ্য দিয়ে নির্বাচনের আগে রাজনৈতিক উত্তেজনা আরও বাড়ার ইঙ্গিত মিলছে।
ভোটের সূচি ও পরিসংখ্যান
পশ্চিমবঙ্গে এবার ভোট হবে দুই দফায়, ২৩ এপ্রিল ও ২৯ এপ্রিল। আগের নির্বাচনে আট দফায় ভোট হয়েছিল। একই সময়ে কেরল, তামিলনাড়ু, আসাম ও পুদুচেরিতেও নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। মোট প্রায় ১৭ কোটি ৪০ লাখ ভোটার ৮২৪টি আসনে ভোটাধিকার প্রয়োগ করবেন। ভোট গ্রহণের জন্য দেশজুড়ে প্রায় ২ লাখ ১৯ হাজার কেন্দ্রে ২৫ লাখের বেশি কর্মকর্তা দায়িত্ব পালন করবেন।
বিভিন্ন রাজ্যে রাজনৈতিক লড়াই
কেরলে বামফ্রন্ট টানা তৃতীয়বার ক্ষমতায় ফেরার লক্ষ্যে মাঠে নেমেছে, নেতৃত্বে রয়েছেন পিনারাই বিজয়ন। তামিলনাড়ুতে মুখ্যমন্ত্রী এম কে স্টালিন দ্বিতীয় মেয়াদ চাচ্ছেন, যেখানে বিজেপি ও এআইএডিএমকে জোটবদ্ধ হয়েছে এবং অভিনেতা বিজয়ের দল নতুন সমীকরণ তৈরি করছে।
পশ্চিমবঙ্গে মূল লড়াই আবারও তৃণমূল কংগ্রেস ও বিজেপির মধ্যে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে তৃণমূল টানা চতুর্থবার ক্ষমতায় আসতে চায়, অন্যদিকে বিজেপি সরকার গঠনের লক্ষ্য নিয়ে মাঠে নেমেছে। আগের নির্বাচনে তৃণমূল বড় ব্যবধানে জয় পেলেও এবার প্রতিদ্বন্দ্বিতা আরও তীব্র হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

নির্বাচনের আগে বাড়ছে চাপ
নির্বাচন কমিশনের এই প্রশাসনিক রদবদল স্পষ্টভাবে ইঙ্গিত দিচ্ছে যে, এবার ভোটকে কেন্দ্র করে কোনো ধরনের ঝুঁকি নিতে চায় না তারা। ফলে নির্বাচনের আগে প্রশাসন ও রাজনীতির টানাপোড়েন আরও বাড়তে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 


















