০৬:৪৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ৩০ অগাস্ট ২০২৬
ফিফার ক্ষমতার নেপথ্যে আলোচিত ‘ফিক্সার’ মারিও গাল্লাভোত্তি নাইজারে বিদ্রোহী সেনাদের হামলার পর বিমানঘাঁটির নিয়ন্ত্রণ পুনরুদ্ধার তিন লাখ টাকা নিয়ে গরু কিনতে গিয়ে হামলার শিকার আ.লীগ নেতা, বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ পশ্চিমা প্রভাবের পাল্টা শক্তি হিসেবে মধ্য এশিয়ায় বড় সমাবেশ, একই মঞ্চে পুতিন-শি-মোদি-শেহবাজ শিশু-কিশোরীকে আত্মঘাতী হামলায় ঠেলে দেওয়ার অভিযোগ, বেলুচিস্তানে উদ্ধার দুই বোনঝি দুর্যোগে যখন সব যোগাযোগ বন্ধ, পাকিস্তানে ভরসা হয়ে উঠছে পুরোনো রেডিও সন্ত্রাস মামলায় ‘মুখহীন গোপন বিচার’ চায় পাঞ্জাব, সংবিধান নিয়ে উঠছে বড় প্রশ্ন জন্মের চেয়ে মৃত্যু বেশি, জনসংখ্যা কমছে হাঙ্গেরিতে জুলাইয়ে বিদেশি সহায়তা কমেছে ১৩.৪ শতাংশ, ঋণ পরিশোধে বেড়েছে চাপ তিব্বতের বন্যায় ২৩ দেশের ২৬১ বিদেশি নিখোঁজ, নেপালে মৃত ৭৩৪

কিউবায় বিদ্যুৎ সংকট ও জ্বালানি সংকটে বিক্ষোভ: পুড়িয়ে দেওয়া হলো কমিউনিস্ট পার্টির দফতর

একদশকের ক্ষোভ উপচে পড়ল মোরোনে

কিউবার উত্তর উপকূলের শহর মোরোনে গত শনিবার ভোররাতে স্থানীয় কিউবান কমিউনিস্ট পার্টির সদর দফতরে হামলা চালায় বিক্ষুব্ধ জনতা। বিক্ষোভকারীরা ভবনের আসবাব ও দলিলপত্র রাস্তায় টেনে এনে আগুন লাগিয়ে দেয় এবং ভবন লক্ষ্য করে পাথর ছুড়তে থাকে। সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যায়, জনতা “স্বাধীনতা স্বাধীনতা” বলে স্লোগান দিচ্ছে। কিউবান কর্তৃপক্ষ পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করেছে এবং ঘটনাটিকে “ভাংচুর” হিসেবে বর্ণনা করেছে। রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম পুলিশের গুলি চালানোর খবর অস্বীকার করলেও স্বাধীন প্রত্যক্ষদর্শী এবং ভিডিওচিত্রে একজন তরুণকে পড়ে যেতে দেখা যায়। মোরোনের এই ঘটনা ছিল টানা দশ রাতের বিক্ষোভের চূড়ান্ত পরিণতি। বিক্ষোভের সরাসরি কারণ হলো দ্বীপটিতে বিদ্যুৎ সরবরাহের প্রায় সম্পূর্ণ ধস। দেশের সবচেয়ে বড় বিদ্যুৎকেন্দ্র আন্তোনিও গিতেরাসে বয়লার বিকল হওয়ায় সারাদেশে বিদ্যুৎ চলে যায় এবং জ্বালানি শেষ হয়ে আরও দুটি কেন্দ্র বন্ধ হয়ে পড়ে।

ভেনেজুয়েলার তেল বন্ধ, ট্রাম্পের নিষেধাজ্ঞায় চারদিকে অন্ধকার

কিউবার এই জ্বালানি সংকটের মূলে রয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের নীতিগত পদক্ষেপ। জানুয়ারিতে মার্কিন অভিযানে ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে অপহরণের পর কিউবা তার বছরের পর বছর ধরে পাওয়া ভর্তুকিমূল্যের ভেনেজুয়েলান তেলের সরবরাহ হারিয়ে ফেলে। এরপর ২৯ জানুয়ারি ট্রাম্প প্রশাসনের একটি নির্বাহী আদেশে কার্যত তৃতীয় যেকোনো দেশ থেকে কিউবায় তেল পাঠানো নিষিদ্ধ করা হয়। কিউবার প্রেসিডেন্ট মিগুয়েল দিয়াস-কানেল জানিয়েছেন, তিন মাস ধরে দ্বীপটিতে কোনো জ্বালানিবাহী জাহাজ আসেনি। জ্বালানি সংকট ছড়িয়ে পড়েছে খাদ্য, ওষুধ এবং দৈনন্দিন সেবায়। হাভানার একাধিক পাড়ায় রাতের বেলা রান্নার পাতিল বাজিয়ে প্রতিবাদ করা হয়েছে, যা ল্যাটিন আমেরিকায় “কাসেরোলাসো” নামে পরিচিত এক জনপ্রিয় প্রতিবাদ রীতি। বিভিন্ন প্রদেশে “কমিউনিজম নিপাত যাক” এবং “স্বাধীনতা চাই” স্লোগান উঠেছে। কিউবা সরকার পরিস্থিতি সামলাতে ভ্যাটিকানের সাথে সম্পর্কের কথা উল্লেখ করে কয়েক ডজন বন্দি মুক্তির ঘোষণা দিয়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বলেছেন কিউবা তার “শেষ মুহূর্তে” পৌঁছেছে এবং ইরান অভিযানের পর কিউবা পরবর্তী লক্ষ্য হতে পারে বলে ইঙ্গিত দিয়েছেন।

জনপ্রিয় সংবাদ

ফিফার ক্ষমতার নেপথ্যে আলোচিত ‘ফিক্সার’ মারিও গাল্লাভোত্তি

কিউবায় বিদ্যুৎ সংকট ও জ্বালানি সংকটে বিক্ষোভ: পুড়িয়ে দেওয়া হলো কমিউনিস্ট পার্টির দফতর

০৫:১০:৪৬ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৭ মার্চ ২০২৬

একদশকের ক্ষোভ উপচে পড়ল মোরোনে

কিউবার উত্তর উপকূলের শহর মোরোনে গত শনিবার ভোররাতে স্থানীয় কিউবান কমিউনিস্ট পার্টির সদর দফতরে হামলা চালায় বিক্ষুব্ধ জনতা। বিক্ষোভকারীরা ভবনের আসবাব ও দলিলপত্র রাস্তায় টেনে এনে আগুন লাগিয়ে দেয় এবং ভবন লক্ষ্য করে পাথর ছুড়তে থাকে। সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যায়, জনতা “স্বাধীনতা স্বাধীনতা” বলে স্লোগান দিচ্ছে। কিউবান কর্তৃপক্ষ পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করেছে এবং ঘটনাটিকে “ভাংচুর” হিসেবে বর্ণনা করেছে। রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম পুলিশের গুলি চালানোর খবর অস্বীকার করলেও স্বাধীন প্রত্যক্ষদর্শী এবং ভিডিওচিত্রে একজন তরুণকে পড়ে যেতে দেখা যায়। মোরোনের এই ঘটনা ছিল টানা দশ রাতের বিক্ষোভের চূড়ান্ত পরিণতি। বিক্ষোভের সরাসরি কারণ হলো দ্বীপটিতে বিদ্যুৎ সরবরাহের প্রায় সম্পূর্ণ ধস। দেশের সবচেয়ে বড় বিদ্যুৎকেন্দ্র আন্তোনিও গিতেরাসে বয়লার বিকল হওয়ায় সারাদেশে বিদ্যুৎ চলে যায় এবং জ্বালানি শেষ হয়ে আরও দুটি কেন্দ্র বন্ধ হয়ে পড়ে।

ভেনেজুয়েলার তেল বন্ধ, ট্রাম্পের নিষেধাজ্ঞায় চারদিকে অন্ধকার

কিউবার এই জ্বালানি সংকটের মূলে রয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের নীতিগত পদক্ষেপ। জানুয়ারিতে মার্কিন অভিযানে ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে অপহরণের পর কিউবা তার বছরের পর বছর ধরে পাওয়া ভর্তুকিমূল্যের ভেনেজুয়েলান তেলের সরবরাহ হারিয়ে ফেলে। এরপর ২৯ জানুয়ারি ট্রাম্প প্রশাসনের একটি নির্বাহী আদেশে কার্যত তৃতীয় যেকোনো দেশ থেকে কিউবায় তেল পাঠানো নিষিদ্ধ করা হয়। কিউবার প্রেসিডেন্ট মিগুয়েল দিয়াস-কানেল জানিয়েছেন, তিন মাস ধরে দ্বীপটিতে কোনো জ্বালানিবাহী জাহাজ আসেনি। জ্বালানি সংকট ছড়িয়ে পড়েছে খাদ্য, ওষুধ এবং দৈনন্দিন সেবায়। হাভানার একাধিক পাড়ায় রাতের বেলা রান্নার পাতিল বাজিয়ে প্রতিবাদ করা হয়েছে, যা ল্যাটিন আমেরিকায় “কাসেরোলাসো” নামে পরিচিত এক জনপ্রিয় প্রতিবাদ রীতি। বিভিন্ন প্রদেশে “কমিউনিজম নিপাত যাক” এবং “স্বাধীনতা চাই” স্লোগান উঠেছে। কিউবা সরকার পরিস্থিতি সামলাতে ভ্যাটিকানের সাথে সম্পর্কের কথা উল্লেখ করে কয়েক ডজন বন্দি মুক্তির ঘোষণা দিয়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বলেছেন কিউবা তার “শেষ মুহূর্তে” পৌঁছেছে এবং ইরান অভিযানের পর কিউবা পরবর্তী লক্ষ্য হতে পারে বলে ইঙ্গিত দিয়েছেন।