পেন্টাগনের বিবৃতি ও নিহতদের পরিচয় প্রকাশ
পেন্টাগন ইরাকে একটি জ্বালানি সরবরাহকারী ট্যাংকার বিমান বিধ্বস্তে নিহত ছয় মার্কিন সামরিক সদস্যের পরিচয় প্রকাশ করেছে। নিহত সেনারা যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের চলমান ইরানবিরোধী সামরিক অভিযানের অংশ হিসেবে মোতায়েন ছিলেন। এই মৃত্যুর পর ইরান সংঘাতে নিহত মার্কিন সামরিক কর্মীর নিশ্চিত সংখ্যা অন্তত ১৩ জনে উঠেছে। ফেব্রুয়ারির শেষে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যখন ইরানে সমন্বিত হামলা চালিয়ে সর্বোচ্চ নেতাকে হত্যা করে, তখন থেকে এই দ্বন্দ্ব পার্শ্ববর্তী একাধিক দেশকে সরাসরি জড়িয়ে ফেলেছে। ইরান মার্কিন ঘাঁটি, ইসরায়েলি লক্ষ্যমাত্রা এবং উপসাগরীয় দেশগুলোর অবকাঠামোয় ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা দিয়ে পাল্টা জবাব দিচ্ছে। নিহত সেনাদের নাম-পরিচয় পরিবারকে অবহিত করার পর আনুষ্ঠানিক পেন্টাগন বিবৃতিতে প্রকাশ করা হয়েছে। ইরাক এই সংঘাতে একটি কঠিন অবস্থায় রয়েছে। দেশটির ভূখণ্ডে এখনো মার্কিন সেনা মোতায়েন রয়েছে, যদিও বাগদাদ দীর্ঘদিন ধরে এই উপস্থিতি কমানোর জন্য রাজনৈতিক চাপ দিয়ে আসছে।

মিত্রদের প্রতিক্রিয়া ভাঙাভাঙা, রিপাবলিকানদের মধ্যেও মতবিরোধ
যুক্তরাষ্ট্র হরমুজ প্রণালিতে শিপিং নিরাপত্তায় মিত্রদের অংশগ্রহণ চাইলেও প্রতিক্রিয়া হতাশাজনক। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প মিত্র দেশগুলোকে প্রণালিতে যুদ্ধজাহাজ পাঠাতে আহ্বান জানিয়েছেন, কিন্তু যুক্তরাজ্য ও জাপানসহ অনেক দেশ এখনো সিদ্ধান্ত নেয়নি। সংঘাতের অনিশ্চিত গতিপ্রকৃতি তাদের সতর্কতার কারণ। রিপাবলিকান সিনেটর রন জনসন ফেডারেল কমিউনিকেশন কমিশন চেয়ারম্যানের সম্প্রচার লাইসেন্স প্রত্যাহারের হুমকির বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে কথা বলেছেন, বলেছেন তিনি বাক স্বাধীনতায় সরকারি হস্তক্ষেপ সমর্থন করেন না। এই ঘটনা রিপাবলিকান পার্টির মধ্যে ইরান সংঘাত নিয়ে টানাপোড়েন স্পষ্ট করেছে। ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট জেলেনস্কি সতর্ক করেছেন যে ইরান সংঘাত রাশিয়ার বিরুদ্ধে ইউক্রেনের লড়াইয়ের জন্য মার্কিন মনোযোগ ও সম্পদ কমিয়ে দিতে পারে। তিনি বলেছেন রাশিয়া ইরানকে শাহেদ-ধরনের ড্রোন সরবরাহ করছে, যা মার্কিন ও ইসরায়েলি বাহিনীর বিরুদ্ধে ব্যবহার হচ্ছে। সংঘাতের পরিধি ক্রমেই বিস্তৃত হচ্ছে এবং এর পরিণতি এখনো অনিশ্চিত।

সারাক্ষণ রিপোর্ট 


















