যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বে ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক হামলার আগে ডোনাল্ড ট্রাম্পকে স্পষ্টভাবে সতর্ক করা হয়েছিল—এই পদক্ষেপ নিলে উপসাগরীয় মিত্র দেশগুলোর ওপর ইরান পাল্টা আঘাত হানতে পারে। কিন্তু পরে ট্রাম্প দাবি করেন, এই প্রতিক্রিয়া ছিল সম্পূর্ণ অপ্রত্যাশিত। সাম্প্রতিক তথ্য ও গোয়েন্দা সূত্রে উঠে এসেছে ভিন্ন চিত্র, যা পুরো পরিস্থিতিকে নতুন করে প্রশ্নের মুখে দাঁড় করিয়েছে।
আগেই ছিল সতর্কবার্তা
যুদ্ধ শুরুর আগে মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থাগুলো সম্ভাব্য পরিণতির তালিকায় ইরানের পাল্টা হামলার বিষয়টি রেখেছিল। যদিও এটি নিশ্চিত ছিল না, তবুও তা গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনায় ছিল। একাধিক সূত্র জানিয়েছে, উপসাগরীয় দেশগুলোতে মার্কিন ঘাঁটি ও মিত্র রাষ্ট্রগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করা হতে পারে—এমন সতর্কতাও দেওয়া হয়েছিল।
ট্রাম্পের ‘অবাক’ দাবি নিয়ে বিতর্ক
যুদ্ধের পর ট্রাম্প বারবার দাবি করেন, ইরান যে কাতার, সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত, বাহরাইন ও কুয়েতের মতো দেশে হামলা চালাবে—এটা কেউ ভাবেনি। কিন্তু গোয়েন্দা তথ্য বলছে, এই সম্ভাবনা আগেই আলোচনায় ছিল। ফলে ট্রাম্পের বক্তব্যের সঙ্গে বাস্তব তথ্যের স্পষ্ট অসামঞ্জস্য তৈরি হয়েছে।
উপসাগরে হামলার বিস্তার
গত দুই সপ্তাহে ইরান ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করে একাধিক হামলা চালিয়েছে। এসব হামলায় মার্কিন সামরিক ঘাঁটি ছাড়াও বেসামরিক স্থাপনা যেমন বিমানবন্দর, হোটেল এবং জ্বালানি অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। একটি ঘটনায় দুবাইয়ের কাছাকাছি জ্বালানি ট্যাংকে আঘাত হানার পর ধোঁয়া ছড়িয়ে পড়ার দৃশ্য পরিস্থিতির ভয়াবহতা তুলে ধরে।

হরমুজ প্রণালীতে উত্তেজনা, জ্বালানি বাজারে ধাক্কা
ইরান প্রায় পুরোপুরি হরমুজ প্রণালী দিয়ে জাহাজ চলাচল বন্ধ করে দিয়েছে, যার মাধ্যমে বিশ্বে প্রায় এক-পঞ্চমাংশ তেল সরবরাহ হয়। ফলে আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে এবং দাম দ্রুত বেড়ে গেছে।
যুদ্ধের যৌক্তিকতা নিয়ে প্রশ্ন
যুক্তরাষ্ট্রের বিরোধী রাজনৈতিক নেতারা দাবি করেছেন, যুদ্ধ শুরুর মতো কোনো তাৎক্ষণিক হুমকির প্রমাণ তারা পাননি। প্রশাসনের দেওয়া বিভিন্ন যুক্তি, যেমন ইরানের সম্ভাব্য পারমাণবিক সক্ষমতা বা সরাসরি হুমকি—এসব দাবির পক্ষে শক্ত গোয়েন্দা তথ্যও সামনে আসেনি।
আঞ্চলিক যুদ্ধের আশঙ্কা
বিশ্লেষকদের মতে, ইরানের ওপর হামলা বড় ধরনের আঞ্চলিক সংঘাতে রূপ নিতে পারে—এমন সতর্কতাও আগে থেকেই ছিল। বিশেষ করে, উপসাগরীয় দেশগুলো যদি যুক্তরাষ্ট্রের হামলাকে সমর্থন করে বলে মনে হয়, তাহলে তাদের ওপর হামলার ঝুঁকি আরও বেড়ে যায়।
কূটনৈতিক প্রস্তুতির ঘাটতি
আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো, হামলা শুরুর আগে সংশ্লিষ্ট অঞ্চলে মার্কিন দূতাবাসগুলোতে নিরাপত্তা জোরদার বা কর্মী সরিয়ে নেওয়ার মতো পদক্ষেপ যথাসময়ে নেওয়া হয়নি। পরে পরিস্থিতি জটিল হওয়ার পর এসব পদক্ষেপ নেওয়া হয়।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 


















