ছয়-তিন রায়ে শেষ হলো আইইইপিএ শুল্ক যুগ
মার্কিন সুপ্রিম কোর্ট ২০ ফেব্রুয়ারি এক যুগান্তকারী রায়ে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের আরোপ করা ব্যাপক আমদানি শুল্ক বাতিল করে দিয়েছে। প্রধান বিচারপতি জন রবার্টসের লেখা ছয়-তিন রায়ে আদালত বলেছে, ১৯৭৭ সালের ইন্টারন্যাশনাল ইমার্জেন্সি ইকোনমিক পাওয়ারস অ্যাক্ট বা আইইইপিএ প্রেসিডেন্টকে শুল্ক আরোপের ক্ষমতা দেয় না। রবার্টস রক্ষণশীল বিচারপতি গর্শাচ ও ব্যারেটের সাথে আদালতের তিন উদারপন্থী বিচারপতিকে নিয়ে এক অস্বাভাবিক দলমত-বিভক্ত সংখ্যাগরিষ্ঠতা গড়েছেন। রায়ে ট্রাম্পের ২০২৫ সালের এপ্রিলে ঘোষিত তথাকথিত লিবারেশন ডে শুল্ক বাতিল হয়েছে, যা কার্যত সব দেশ থেকে আমদানিতে ন্যূনতম দশ শতাংশ এবং অনেক বড় অংশীদারের ক্ষেত্রে আরও বেশি হারে প্রযোজ্য ছিল। ট্রাম্প রায়টিকে “ভয়াবহ” বলেছেন এবং বেশ কয়েকজন বিচারপতিকে নাম ধরে সমালোচনা করেছেন। ইতিমধ্যে পরিশোধ করা ২০ হাজার কোটি ডলারেরও বেশি শুল্কের ফেরত নিয়ে আদালত কোনো মন্তব্য করেনি।
সেকশন ৩০১ তদন্ত ও জুলাইয়ের সময়সীমার চ্যালেঞ্জ
রায়ের পর দ্রুত পদক্ষেপ নেয় প্রশাসন। ট্রাম্প সেদিনই ১৯৭৪ সালের ট্রেড অ্যাক্টের সেকশন ১২২-এর আওতায় ১০ শতাংশ বৈশ্বিক শুল্ক ঘোষণা করেন এবং পরদিন তা ১৫ শতাংশে উন্নীত করেন। তবে সেকশন ১২২ শুল্ক ১৫০ দিনের মধ্যে মেয়াদোত্তীর্ণ হয়ে যায়, অর্থাৎ কংগ্রেসের অনুমোদন ছাড়া ২৪ জুলাইয়ের পর এটি টিকবে না। ১১ মার্চ মার্কিন বাণিজ্য প্রতিনিধি জেমিসন গ্রিয়ার সেকশন ৩০১-এর আওতায় চীন, ইইউ, মেক্সিকো, জাপান, ভারত, দক্ষিণ কোরিয়া, তাইওয়ান, ভিয়েতনাম ও বাংলাদেশসহ ১৬টি বড় বাণিজ্য অংশীদারের বিরুদ্ধে নতুন তদন্ত শুরু করেন। যুক্তি হলো এই দেশগুলোতে কাঠামোগত উদ্বৃত্ত উৎপাদন সক্ষমতা ও স্থায়ী বাণিজ্য উদ্বৃত্ত রয়েছে। পরদিন ৬০টি দেশের বিরুদ্ধে জোরপূর্বক শ্রম-ব্যবহারের বাণিজ্য চর্চা নিয়ে আরও তদন্ত চালু হয়। সেকশন ৩০১ সাংবিধানিকভাবে আরও মজবুত ভিত্তি হলেও ২৮ এপ্রিল থেকে শুনানি শুরু করে জুলাইয়ের মধ্যে তদন্ত শেষ করার লক্ষ্যমাত্রাকে বাস্তববাদিতার দিক থেকে প্রশ্নবিদ্ধ করছেন বাণিজ্য বিশেষজ্ঞরা।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 


















