প্রযুক্তির জগতে একসময় অ্যাপ বা ওয়েবসাইট তৈরি ছিল কেবল দক্ষ ডেভেলপারদের কাজ। কিন্তু কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার দ্রুত অগ্রগতিতে সেই বাস্তবতা এখন বদলে গেছে। এখন অল্প কিছু নির্দেশনা দিয়েই যে কেউ নিজের মতো করে অ্যাপ, ওয়েবসাইট কিংবা স্বয়ংক্রিয় সহকারী তৈরি করতে পারছে। ফলে ‘বিল্ডার’ নামে নতুন এক পরিচয় দ্রুত জনপ্রিয় হয়ে উঠছে।
এআইয়ের ছোঁয়ায় বদলে গেছে নির্মাণের সংজ্ঞা
এক দশক আগেও একটি অ্যাপ তৈরি করতে প্রযুক্তি দলকে মাসের পর মাস কাজ করতে হতো। এখন সেই কাজ অনেক ক্ষেত্রেই কয়েক ঘণ্টা বা দিনের মধ্যে সম্ভব। এআই-চালিত প্রোগ্রামের সাহায্যে সাধারণ মানুষও নিজের কাজ সহজ করতে নানা ধরনের ডিজিটাল সমাধান তৈরি করছে।
ফলে বিপণনকর্মী থেকে শুরু করে নির্মাণশিল্পের কর্মী, এমনকি কিশোররাও নিজেদের ‘বিল্ডার’ হিসেবে পরিচয় দিচ্ছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও এই শব্দটি দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে।
চাকরি থেকে নতুন পরিচয়: এআই ইঞ্জিনিয়ার
এক তরুণ প্রকৌশলী, যিনি আগে নির্মাণ কোম্পানিতে কাজ করতেন, তিনি প্রথমে নিজের কাজের কিছু অংশ স্বয়ংক্রিয় করার চেষ্টা করেন। পরে তিনি নিজেই একটি অ্যাপ তৈরি করেন এবং ধীরে ধীরে এআই-নির্ভর সমাধান তৈরিতে আগ্রহী হয়ে ওঠেন।
এই অভিজ্ঞতা তাকে নতুন একটি পেশাগত পরিচয়ে নিয়ে যায়—এআই ইঞ্জিনিয়ার। তার মতে, এখন কাজের দক্ষতা বাড়াতে এআই ব্যবহার করা শুধু সুযোগ নয়, প্রয়োজনও হয়ে দাঁড়িয়েছে।
শূন্য থেকে শুরু করে ‘বিল্ডার’ হওয়া
একজন স্বাস্থ্যখাতের পণ্য ব্যবস্থাপক, যিনি আগে কখনো কোডিং করেননি, তিনিও এআই ব্যবহার করে ওয়েবসাইট তৈরি শুরু করেন। এখন তিনি অতিরিক্ত আয়ের জন্য ফ্রিল্যান্স কাজ করছেন।
তিনি নিজের কাজের জন্য এমন এআই সহকারী তৈরি করেছেন, যা নতুন গ্রাহকদের তথ্য সংগ্রহ করে, ভ্রমণের টিকিট ও হোটেল বুকিং করে, এমনকি ব্যক্তিগত কাজেও সহায়তা করে। তার ভাষায়, ‘শূন্য থেকে তৈরি করাই এখন বিল্ডার হওয়া।’
সবাই কি সত্যিই ‘বিল্ডার’?
তবে এই পরিচয়ের মধ্যেও বিভ্রান্তি রয়েছে। অনেকেই শুধু সাধারণ অনুসন্ধানের জন্য এআই ব্যবহার করলেও নিজেদের বিল্ডার দাবি করছেন। কিন্তু বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রকৃত বিল্ডার হতে হলে নিজের কাজ বা জীবনের জন্য কার্যকর সমাধান তৈরি করতে হয়।
নতুন প্রজন্মের হাতেও প্রযুক্তির শক্তি
এই পরিবর্তনের প্রভাব পড়ছে শিশুদের মধ্যেও। এক কিশোর তার বাবার কাছ থেকে এআই ব্যবহার শিখে নিজেই একটি ভিডিও গেম এবং একটি ইন্টারঅ্যাকটিভ ভৌগোলিক ওয়েবসাইট তৈরি করেছে।
তার মতে, শুরুতে বিষয়টি কঠিন মনে হলেও ধীরে ধীরে এটি সহজ হয়ে যায়।
চিকিৎসা ক্ষেত্রেও এআই ‘বিল্ডার’
একজন চিকিৎসক এআই ব্যবহার করে এমন একটি ব্যবস্থা তৈরি করেছেন, যা রোগীর পরীক্ষার ফল স্বয়ংক্রিয়ভাবে সংগ্রহ করে নথিতে যুক্ত করে। তিনি তার সহকর্মীদের কাছ থেকেও নতুন ধারণা নিয়ে একের পর এক অ্যাপ তৈরি করছেন।
তার মতে, মানুষের জীবন বাঁচানো গুরুত্বপূর্ণ, কিন্তু নিজের চিন্তাকে বাস্তবে রূপ দিতে পারার অনুভূতি ভিন্ন ধরনের তৃপ্তি দেয়।
ভবিষ্যতের কর্মক্ষেত্র কোন দিকে
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এআই-নির্ভর এই ‘বিল্ডার সংস্কৃতি’ ভবিষ্যতে কর্মক্ষেত্রকে আমূল বদলে দেবে। প্রযুক্তি আর কেবল বিশেষজ্ঞদের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে না, বরং সাধারণ মানুষের হাতেও সমানভাবে পৌঁছে যাবে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















