বিশ্বজুড়ে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই দৌড়ে নতুন করে আলোচনায় এসেছে বিদ্যুৎ শক্তি। উন্নত চিপ, সফটওয়্যার কিংবা অ্যাপ্লিকেশনের পাশাপাশি এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে সস্তা ও স্থিতিশীল জ্বালানি সরবরাহ। এই জায়গাতেই যুক্তরাষ্ট্রের তুলনায় এগিয়ে রয়েছে চীন, যা ভবিষ্যতে এআই প্রতিযোগিতার মোড় ঘুরিয়ে দিতে পারে।
এআইয়ের নিচের স্তরে লুকানো শক্তির লড়াই
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এআই প্রযুক্তি অনেকটা স্তরযুক্ত কাঠামোর মতো। উপরে থাকে অ্যাপ্লিকেশন, তার নিচে সফটওয়্যার ও মডেল, আর তারও নিচে থাকে চিপ। তবে সবচেয়ে নিচের স্তরটি হলো বিদ্যুৎ, যা ছাড়া পুরো কাঠামোই অচল।
এআই মডেল চালাতে বিপুল পরিমাণ বিদ্যুৎ প্রয়োজন হয়। বড় বড় ডেটা সেন্টার এখন গিগাওয়াট মাত্রার বিদ্যুৎ ব্যবহার করছে, যা একটি পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের সমান। আগামী কয়েক বছরে এই চাহিদা আরও কয়েকগুণ বাড়বে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

যুক্তরাষ্ট্রের সংকট, চীনের সুযোগ
যুক্তরাষ্ট্রে বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যবস্থা পুরোনো হয়ে পড়েছে এবং নতুন ডেটা সেন্টার সংযোগে বড় জট তৈরি হয়েছে। স্থানীয় জনগণের বিরোধিতাও একটি বড় বাধা, কারণ এসব প্রকল্প বিদ্যুতের দাম বাড়িয়ে দেয়।
অন্যদিকে চীনের বিদ্যুৎ উৎপাদন ক্ষমতা দ্রুত বাড়ছে। দেশটি ইতোমধ্যে বিশ্বের সবচেয়ে বড় বিদ্যুৎ গ্রিড তৈরি করেছে এবং বিপুল পরিমাণ সৌর, বায়ু ও কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ উৎপাদন করছে। ফলে চীনে ডেটা সেন্টারের জন্য বিদ্যুৎ খরচ যুক্তরাষ্ট্রের তুলনায় প্রায় অর্ধেক।
চিপ সংকটে আটকে থাকা সম্ভাবনা
তবে সবকিছু থাকা সত্ত্বেও চীন এখনও পুরো সুবিধা নিতে পারছে না। প্রধান বাধা উন্নত চিপের ঘাটতি। যুক্তরাষ্ট্রের রপ্তানি নিষেধাজ্ঞার কারণে চীনা কোম্পানিগুলো আধুনিক চিপ সংগ্রহে সমস্যায় পড়ছে।
ফলে অনেক ডেটা সেন্টার তৈরি হলেও সেগুলোর ব্যবহার কম। কোথাও কোথাও মাত্র ২০ শতাংশ সক্ষমতা ব্যবহার হচ্ছে বলে জানা গেছে।

নতুন বিনিয়োগ ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা
চীন ইতোমধ্যে বড় আকারে ডেটা সেন্টার নির্মাণ এবং বিদ্যুৎ ও কম্পিউটিং সমন্বয়ের পরিকল্পনা নিয়েছে। আগামী কয়েক বছরে আরও বিশাল বিনিয়োগ আসবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
দেশটির নিজস্ব চিপ উৎপাদনও ধীরে ধীরে বাড়ছে। যদিও এগুলো এখনও যুক্তরাষ্ট্রের চিপের মতো শক্তিশালী নয়, তবে বেশি সংখ্যায় ব্যবহার করে সেই ঘাটতি পূরণের চেষ্টা চলছে। সস্তা বিদ্যুতের কারণে এই কৌশল কার্যকর হতে পারে।
এআই ব্যবহারে অর্থনীতির রূপান্তর
চীনের লক্ষ্য শুধু প্রযুক্তি উন্নয়ন নয়, বরং এআইকে শিল্প, কারখানা, স্বয়ংচালিত গাড়ি ও রোবটের মাধ্যমে বাস্তব অর্থনীতিতে প্রয়োগ করা। এতে উৎপাদনশীলতা বাড়বে এবং অর্থনীতিতে নতুন গতি আসবে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, পর্যাপ্ত বিদ্যুৎ থাকলে এআই ব্যবহারের খরচ কমে যাবে, ফলে আরও বেশি প্রতিষ্ঠান এটি গ্রহণ করবে।
ভবিষ্যতের দৌড়: কৃত্রিম সাধারণ বুদ্ধিমত্তা
ভবিষ্যতে মানুষের মতো চিন্তাশক্তি সম্পন্ন এআই তৈরির প্রতিযোগিতাও শুরু হয়েছে। এই প্রযুক্তি আরও বেশি বিদ্যুৎ খরচ করবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
চীন ইতোমধ্যে এই লক্ষ্য নিয়ে কাজ শুরু করেছে এবং দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনায় বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত করেছে। ফলে বিদ্যুৎ সুবিধা কাজে লাগাতে পারলে দেশটি বড় ধরনের অগ্রগতি অর্জন করতে পারে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















