শিশুর জন্মের পর থেকেই অবসর জীবনের জন্য সঞ্চয় শুরু করার এক নতুন সুযোগ তৈরি হয়েছে যুক্তরাষ্ট্রে। ‘ট্রাম্প অ্যাকাউন্ট’ নামে পরিচিত এই উদ্যোগকে ঘিরে ইতিমধ্যেই ব্যাপক আগ্রহ দেখা যাচ্ছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, সঠিক পরিকল্পনায় এই অ্যাকাউন্ট ভবিষ্যতে কোটি ডলারের তহবিলে রূপ নিতে পারে।
জন্মের পর থেকেই সঞ্চয়ের পথ
এই নতুন ব্যবস্থার মাধ্যমে বাবা-মায়েরা সন্তানের জন্য জন্মের পর থেকেই কর-সুবিধাপ্রাপ্ত সঞ্চয় শুরু করতে পারবেন। নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত নিয়মিত অর্থ জমা রাখলে তা দীর্ঘমেয়াদে বড় অঙ্কে পরিণত হতে পারে।
এই অ্যাকাউন্টে শুধু বাবা-মা নয়, নিয়োগকর্তা বা দাতব্য সংস্থাও অর্থ জমা দিতে পারে। নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে জন্ম নেওয়া শিশুদের জন্য সরকার থেকেও প্রাথমিক অনুদান দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।
দীর্ঘমেয়াদে বিপুল লাভের সম্ভাবনা
বিশেষজ্ঞদের হিসাব অনুযায়ী, যদি একটি শিশুর অ্যাকাউন্টে বছরে নির্দিষ্ট পরিমাণ অর্থ নিয়মিত জমা রাখা হয় এবং তা বিনিয়োগ করা হয়, তাহলে কয়েক দশকে তা বিশাল তহবিলে পরিণত হতে পারে।
শুধু প্রাথমিক অনুদান দিয়েই যদি অ্যাকাউন্ট চালু রাখা হয়, তবুও তা সময়ের সঙ্গে বাড়তে থাকে। তবে নিয়মিত জমা রাখলে এর প্রভাব বহুগুণে বৃদ্ধি পায়।
আগাম উত্তোলনে ঝুঁকি
১৮ বছর বয়সে এই অ্যাকাউন্ট থেকে অর্থ তোলার সুযোগ থাকলেও তা করলে কর ও জরিমানার মুখে পড়তে হতে পারে। অনেক ক্ষেত্রে তরুণরা এই অর্থ অপ্রয়োজনীয় খরচে ব্যয় করার ঝুঁকিও থাকে বলে সতর্ক করছেন বিশেষজ্ঞরা।
তাই অর্থ তুলে খরচ না করে দীর্ঘমেয়াদে বিনিয়োগ ধরে রাখার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে, যাতে অবসর সময়ে বড় অঙ্কের সঞ্চয় পাওয়া যায়।
রথ আইআরএ রূপান্তরের কৌশল
এই অ্যাকাউন্টের সবচেয়ে বড় সুবিধা পাওয়া যায় যখন এটি সঠিক সময়ে রথ আইআরএ-তে রূপান্তর করা হয়। এতে ভবিষ্যতে উত্তোলনের সময় কর ছাড় পাওয়া সম্ভব।
তবে এই রূপান্তরের সময় নির্বাচন খুব গুরুত্বপূর্ণ। কম আয়ের সময়ে রূপান্তর করলে করের চাপ কম হয়। অনেক ক্ষেত্রে বাবা-মা বা দাদা-দাদিরা এই কর পরিশোধে সহায়তা করতে পারেন।

ধনীদের জন্য বাড়তি সুবিধা
যেসব পরিবার নিয়মিত বড় অঙ্কের অর্থ জমা রাখতে সক্ষম, তাদের জন্য এই কৌশল আরও বেশি লাভজনক হতে পারে। দীর্ঘমেয়াদে এই সঞ্চয় কয়েক মিলিয়ন ডলারে পৌঁছানোর সম্ভাবনাও রয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
আগ্রহ বাড়ছে দ্রুত
মার্চ মাসের মাঝামাঝি পর্যন্ত লাখ লাখ শিশুর নামে এই অ্যাকাউন্ট খোলা হয়েছে বলে জানা গেছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই উদ্যোগ শিশুদের আর্থিক ভবিষ্যৎ গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 


















