মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনা নতুন করে তীব্র হয়ে উঠেছে। ইসরায়েলের সরাসরি হামলায় কেঁপে উঠেছে ইরানের রাজধানী তেহরান, আর তার জবাবে ইরান একযোগে ইসরায়েল ও মার্কিন ঘাঁটিতে আঘাত হেনেছে। একই সময়ে যুদ্ধ থামাতে আলোচনার দাবি উঠলেও তা নিয়ে বিভ্রান্তি ও অনিশ্চয়তা আরও বেড়েছে।
তেহরানে হামলা, আবাসিক এলাকায় ধ্বংসস্তূপ
ইসরায়েলি বাহিনী জানিয়েছে, তারা তেহরানের বিভিন্ন অবকাঠামো লক্ষ্য করে একাধিক হামলা চালিয়েছে। ইরানি সংবাদমাধ্যম বলছে, এসব হামলার একটি আবাসিক এলাকায় আঘাত হানে, যেখানে ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকে পড়াদের উদ্ধারে তৎপরতা চলছে। শহরের বিভিন্ন এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে এবং নিরাপত্তা পরিস্থিতি দ্রুত অবনতির দিকে যায়।

পাল্টা হামলায় ইরান, লক্ষ্য ইসরায়েল ও মার্কিন ঘাঁটি
হামলার জবাবে ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনী নতুন করে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে। লক্ষ্যবস্তু হিসেবে ছিল তেল আবিবসহ বিভিন্ন ইসরায়েলি শহর এবং কুয়েত, জর্ডান ও বাহরাইনে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটি। একই দিনে কুয়েত ও সৌদি আরব ড্রোন হামলা প্রতিহত করার দাবি জানিয়েছে।
যুদ্ধ থামাতে আলোচনার দাবি, কিন্তু বিভ্রান্তি
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন, যুদ্ধ থামাতে ইরানের সঙ্গে আলোচনা এগোচ্ছে এবং একটি ১৫ দফা পরিকল্পনা পাঠানো হয়েছে। তবে ইরান এই দাবিকে সরাসরি ‘ভুয়া’ বলে প্রত্যাখ্যান করেছে। এতে করে পরিস্থিতি আরও অনিশ্চিত হয়ে উঠেছে এবং কূটনৈতিক প্রচেষ্টার বাস্তবতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

জ্বালানি সংকটে বিশ্ব অর্থনীতি কাঁপছে
এই সংঘাতের বড় প্রভাব পড়েছে জ্বালানি খাতে। হরমুজ প্রণালী কার্যত বন্ধ হয়ে যাওয়ায় বিশ্বে তেল ও গ্যাস সরবরাহ মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়েছে। এর ফলে জ্বালানির দাম বেড়ে গেছে, বাজারে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে এবং বৈশ্বিক অর্থনীতি চাপের মুখে পড়েছে।
যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হওয়ার শঙ্কা
এদিকে যুক্তরাষ্ট্র মধ্যপ্রাচ্যে আরও সেনা পাঠানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে বলে জানা গেছে। ইতোমধ্যে বিপুল সংখ্যক সেনা মোতায়েন রয়েছে, যার সঙ্গে নতুন বাহিনী যুক্ত হলে সংঘাত আরও দীর্ঘায়িত হওয়ার আশঙ্কা বাড়ছে। একই সঙ্গে পাকিস্তান এই সংকট সমাধানে আলোচনার মধ্যস্থতা করার প্রস্তাব দিয়েছে, যা নতুন কূটনৈতিক পথ খুলতে পারে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 


















