ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনিকে ঘিরে রহস্য দিন দিন ঘনীভূত হচ্ছে। জনসমক্ষে তার অনুপস্থিতি, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তায় তৈরি বা পরিবর্তিত ছবি এবং টেলিভিশনে অন্যের কণ্ঠে প্রচারিত বার্তা—সব মিলিয়ে দেশজুড়ে তৈরি হয়েছে নতুন প্রশ্ন ও সন্দেহ।
জনসমক্ষে নেই, বার্তা দিচ্ছেন অন্যের কণ্ঠে
গত ১২ মার্চ জাতির উদ্দেশে প্রথম ভাষণে কঠোর বার্তা দেন মোজতবা খামেনি। সেখানে শহীদদের রক্তের প্রতিশোধ নেওয়া এবং হরমুজ প্রণালী বন্ধ রাখার অঙ্গীকারের কথা উঠে আসে। তবে বিস্ময়ের বিষয়, এই ভাষণ তিনি নিজে দেননি; রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে এক নারী সংবাদ পাঠিকার কণ্ঠে তা প্রচার করা হয়। এরপর আর কোনো সময় তাকে প্রকাশ্যে দেখা যায়নি, এমনকি তার কণ্ঠের নতুন কোনো রেকর্ডও প্রকাশ করা হয়নি।
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ছবি নিয়ে বিতর্ক
সম্প্রতি প্রকাশিত খামেনির বেশ কিছু ছবি বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, সেগুলোর অনেকই কৃত্রিমভাবে তৈরি বা পরিবর্তিত। তার নতুন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের প্রোফাইল ছবিটিও পুরোনো একটি ছবির ওপর প্রযুক্তির মাধ্যমে পরিবর্তন করা হয়েছে বলে জানা গেছে। এমনকি বিভিন্ন দেশে ইরানি দূতাবাসগুলোতেও এখনো তার প্রতিকৃতি টানানো হয়নি, যা সাধারণত দ্রুতই করা হয়।
জীবিত না আহত—প্রশ্ন বাড়ছে
সরকারি কর্মকর্তারা দাবি করছেন, খামেনি জীবিত এবং রাষ্ট্র পরিচালনায় সক্রিয় রয়েছেন। কিন্তু সাধারণ মানুষের মধ্যে প্রশ্ন উঠছে—তিনি কি গুরুতর আহত, নাকি তার অবস্থা আরও সংকটজনক। ইসরায়েলের হামলায় তার পিতা সাবেক সর্বোচ্চ নেতা আলি খামেনি নিহত হওয়ার সময় একই স্থানে ছিলেন মোজতবা খামেনি। সেই হামলায় তিনি আহত হন বলেও বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে।
নিরাপত্তার কারণে আত্মগোপন?
ইরানের কিছু কর্মকর্তা ব্যক্তিগতভাবে স্বীকার করেছেন, খামেনি আহত হয়েছেন, তবে তিনি অক্ষম নন। তাদের দাবি, নিরাপত্তার কারণে তাকে আড়ালে রাখা হয়েছে। একই সময়ে ইসরায়েল ধারাবাহিকভাবে ইরানের শীর্ষ রাজনৈতিক ও নিরাপত্তা নেতৃত্বকে লক্ষ্য করে হামলা চালাচ্ছে, যার উদ্দেশ্য দেশটির শাসনব্যবস্থাকে দুর্বল করা।
যুদ্ধের মাঝেও নিয়ন্ত্রণ ধরে রেখেছে সরকার
এত সব জল্পনা সত্ত্বেও ইরান সরকার এখনো পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে সক্ষম হয়েছে। উপসাগরীয় অঞ্চলে লক্ষ্যভেদী হামলা চালিয়ে তারা নিজেদের সামরিক সক্ষমতার প্রমাণ দিচ্ছে। তবে সর্বোচ্চ নেতার অনুপস্থিতি এবং অস্পষ্টতা পরিস্থিতিকে আরও অনিশ্চিত করে তুলছে।

ভয়েসওভার বার্তা, সন্দেহ আরও গভীর
পারস্য নববর্ষ উপলক্ষে খামেনির নামে একটি বার্তা সম্প্রচার করা হয়, যা আবারও অন্য একজনের কণ্ঠে প্রচারিত হয়। এতে বলা হয়, শত্রুপক্ষের কৌশল জনগণের মধ্যে ভয় তৈরি করতে ব্যর্থ হয়েছে। তবে এই বার্তাও তার শারীরিক অবস্থার বিষয়ে সন্দেহ দূর করতে পারেনি।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 


















