০৯:৪৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৫ মার্চ ২০২৬
ইরান-আমেরিকা যুদ্ধে ‘না হারাই জয়’—অসম যুদ্ধের ভেতরের কঠিন বাস্তবতা না হারলেও কেন হার—ইরান-আমেরিকা যুদ্ধে ভিন্ন বাস্তবতার বিশ্লেষণ রহস্যে ঢাকা ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতা: কৃত্রিম ছবি, ভয়েসওভারে বার্তা, বাড়ছে জল্পনা ট্রাম্পের কটূভাষা রাজনীতি: ভদ্রতার সংকট না নতুন কৌশল? ইরান যুদ্ধ: কূটনৈতিক ভুলে জটিল সংঘাত, বাড়ছে ঝুঁকি ও বৈশ্বিক চাপ শিশুর ভবিষ্যৎ সঞ্চয়ে নতুন কৌশল, ট্রাম্প অ্যাকাউন্ট ঘিরে বাড়ছে আগ্রহ ইরানের কূটনীতির নতুন মুখ: আপসহীন বার্তায় সামনে আব্বাস আরাঘচি সেবার দাম বাড়ছে, যুক্তরাষ্ট্রে মুদ্রাস্ফীতি কমছে না—চাপে কেন্দ্রীয় ব্যাংক ট্রাম্পের পিছু হটা, তেহরানকে ঘিরে নতুন কূটনীতি: যুদ্ধবিরতির আশা না নতুন কৌশল? তেহরানে ইসরায়েলের হামলা, পাল্টা জবাবে ইরান—যুদ্ধের মাঝেই আলোচনার ইঙ্গিতে বিশ্বজুড়ে উদ্বেগ

ট্রাম্পের পিছু হটা, তেহরানকে ঘিরে নতুন কূটনীতি: যুদ্ধবিরতির আশা না নতুন কৌশল?

মধ্যপ্রাচ্যের উত্তপ্ত পরিস্থিতিতে হঠাৎই নাটকীয় মোড়। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের জ্বালানি অবকাঠামোয় হামলার হুমকি থেকে সাময়িকভাবে সরে এসে নতুন কূটনৈতিক আলোচনার ইঙ্গিত দিয়েছেন। তবে এই ঘোষণার পরও তেহরানের পক্ষ থেকে সংশয় কাটেনি, বরং পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা।

পাঁচ দিনের বিরতি, আলোচনার দাবি

ট্রাম্প জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে “গুরুত্বপূর্ণ ও ফলপ্রসূ” আলোচনা চলছে। সেই আলোচনার অগ্রগতির ওপর নির্ভর করে তিনি সামরিক হামলা পাঁচ দিনের জন্য স্থগিত রাখার নির্দেশ দিয়েছেন। তার দাবি, উভয় পক্ষই সংঘাতের সম্পূর্ণ সমাধান চায় এবং আলোচনার পথেই এগোতে আগ্রহী।

ট্রাম্প কীভাবে 'পাগল তত্ত্ব' ব্যবহার করে বিশ্বকে বদলানোর চেষ্টা করছেন - BBC  News বাংলা

তবে এই বক্তব্যের বিপরীতে ইরানের অবস্থান অনেকটাই ভিন্ন। তেহরান স্পষ্ট করে জানিয়েছে, তারা কোনো যুদ্ধ শুরু করেনি এবং যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সরাসরি আলোচনার বিষয়টিও অস্বীকার করেছে।

সন্দেহ আর বাস্তবতার ফারাক

ইরান ও আরব বিশ্বের একাধিক কর্মকর্তা মনে করছেন, এই কূটনৈতিক প্রচেষ্টা মূলত তেলের বাজারে চাপ কমানোর কৌশল হতে পারে। ট্রাম্পের ঘোষণার পর আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম দ্রুত কমে যাওয়াও সেই সন্দেহকে আরও জোরদার করেছে।

ইরানের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যমের ভাষ্য অনুযায়ী, সম্ভাব্য পাল্টা হামলার আশঙ্কায় যুক্তরাষ্ট্র শেষ মুহূর্তে তাদের অবস্থান নরম করেছে।

হরমুজ প্রণালী ঘিরে টানাপোড়েন

হরমুজ প্রণালী পেরোতে নতুন যে শর্ত দিল ইরান

এই সংকটের কেন্দ্রে রয়েছে হরমুজ প্রণালী, যা বৈশ্বিক জ্বালানি পরিবহনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পথ। ইরান প্রায় কার্যত এই পথ নিয়ন্ত্রণে নিয়ে এসেছে এবং জাহাজ চলাচলে বাধা সৃষ্টি করছে।

মধ্যপ্রাচ্যের মধ্যস্থতাকারীরা প্রস্তাব দিয়েছেন, একটি নিরপেক্ষ আঞ্চলিক কমিটির অধীনে এই প্রণালী পরিচালনা করা যেতে পারে। তবে ইরান পাল্টা দাবি তুলেছে, সুয়েজ খালের মতো তারা যেন এই পথ ব্যবহারকারী জাহাজ থেকে ফি আদায় করতে পারে।

কঠিন শর্তে আটকে আলোচনা

ইরান শুধু প্রণালী নিয়ন্ত্রণেই থেমে নেই। তারা আরও দাবি তুলেছে, যুদ্ধ পুনরায় শুরু না হওয়ার নিশ্চয়তা, ইসরায়েলের হামলা বন্ধ, উপসাগরীয় অঞ্চলে মার্কিন ঘাঁটি বন্ধ এবং যুদ্ধের ক্ষতিপূরণ প্রদান।

ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র–সক্ষমতা ধ্বংসের দাবি করছে যুক্তরাষ্ট্র, তাহলে তারা এখনো  কীভাবে হামলা চালাচ্ছে | প্রথম আলো

অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্র চায় ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি বন্ধ হোক, ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ থামানো হোক এবং আঞ্চলিক মিলিশিয়াদের প্রতি সমর্থন বন্ধ করা হোক।

এই পরস্পরবিরোধী অবস্থানের কারণে আলোচনায় অগ্রগতি এখনও অনিশ্চিত।

তেলের বাজারে বড় ধাক্কা

চলমান সংঘাত ইতোমধ্যে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে বড় প্রভাব ফেলেছে। আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থার মতে, বর্তমান পরিস্থিতিতে দৈনিক প্রায় এক কোটি দশ লাখ ব্যারেল তেল সরবরাহে ঘাটতি তৈরি হয়েছে, যা অতীতের বড় জ্বালানি সংকটগুলোর চেয়েও বেশি।

এই পরিস্থিতি দীর্ঘস্থায়ী হলে বিশ্ব অর্থনীতিতে এর বড় ধরনের প্রভাব পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

 

জনপ্রিয় সংবাদ

ইরান-আমেরিকা যুদ্ধে ‘না হারাই জয়’—অসম যুদ্ধের ভেতরের কঠিন বাস্তবতা

ট্রাম্পের পিছু হটা, তেহরানকে ঘিরে নতুন কূটনীতি: যুদ্ধবিরতির আশা না নতুন কৌশল?

০৮:০৫:৪৪ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৫ মার্চ ২০২৬

মধ্যপ্রাচ্যের উত্তপ্ত পরিস্থিতিতে হঠাৎই নাটকীয় মোড়। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের জ্বালানি অবকাঠামোয় হামলার হুমকি থেকে সাময়িকভাবে সরে এসে নতুন কূটনৈতিক আলোচনার ইঙ্গিত দিয়েছেন। তবে এই ঘোষণার পরও তেহরানের পক্ষ থেকে সংশয় কাটেনি, বরং পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা।

পাঁচ দিনের বিরতি, আলোচনার দাবি

ট্রাম্প জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে “গুরুত্বপূর্ণ ও ফলপ্রসূ” আলোচনা চলছে। সেই আলোচনার অগ্রগতির ওপর নির্ভর করে তিনি সামরিক হামলা পাঁচ দিনের জন্য স্থগিত রাখার নির্দেশ দিয়েছেন। তার দাবি, উভয় পক্ষই সংঘাতের সম্পূর্ণ সমাধান চায় এবং আলোচনার পথেই এগোতে আগ্রহী।

ট্রাম্প কীভাবে 'পাগল তত্ত্ব' ব্যবহার করে বিশ্বকে বদলানোর চেষ্টা করছেন - BBC  News বাংলা

তবে এই বক্তব্যের বিপরীতে ইরানের অবস্থান অনেকটাই ভিন্ন। তেহরান স্পষ্ট করে জানিয়েছে, তারা কোনো যুদ্ধ শুরু করেনি এবং যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সরাসরি আলোচনার বিষয়টিও অস্বীকার করেছে।

সন্দেহ আর বাস্তবতার ফারাক

ইরান ও আরব বিশ্বের একাধিক কর্মকর্তা মনে করছেন, এই কূটনৈতিক প্রচেষ্টা মূলত তেলের বাজারে চাপ কমানোর কৌশল হতে পারে। ট্রাম্পের ঘোষণার পর আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম দ্রুত কমে যাওয়াও সেই সন্দেহকে আরও জোরদার করেছে।

ইরানের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যমের ভাষ্য অনুযায়ী, সম্ভাব্য পাল্টা হামলার আশঙ্কায় যুক্তরাষ্ট্র শেষ মুহূর্তে তাদের অবস্থান নরম করেছে।

হরমুজ প্রণালী ঘিরে টানাপোড়েন

হরমুজ প্রণালী পেরোতে নতুন যে শর্ত দিল ইরান

এই সংকটের কেন্দ্রে রয়েছে হরমুজ প্রণালী, যা বৈশ্বিক জ্বালানি পরিবহনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পথ। ইরান প্রায় কার্যত এই পথ নিয়ন্ত্রণে নিয়ে এসেছে এবং জাহাজ চলাচলে বাধা সৃষ্টি করছে।

মধ্যপ্রাচ্যের মধ্যস্থতাকারীরা প্রস্তাব দিয়েছেন, একটি নিরপেক্ষ আঞ্চলিক কমিটির অধীনে এই প্রণালী পরিচালনা করা যেতে পারে। তবে ইরান পাল্টা দাবি তুলেছে, সুয়েজ খালের মতো তারা যেন এই পথ ব্যবহারকারী জাহাজ থেকে ফি আদায় করতে পারে।

কঠিন শর্তে আটকে আলোচনা

ইরান শুধু প্রণালী নিয়ন্ত্রণেই থেমে নেই। তারা আরও দাবি তুলেছে, যুদ্ধ পুনরায় শুরু না হওয়ার নিশ্চয়তা, ইসরায়েলের হামলা বন্ধ, উপসাগরীয় অঞ্চলে মার্কিন ঘাঁটি বন্ধ এবং যুদ্ধের ক্ষতিপূরণ প্রদান।

ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র–সক্ষমতা ধ্বংসের দাবি করছে যুক্তরাষ্ট্র, তাহলে তারা এখনো  কীভাবে হামলা চালাচ্ছে | প্রথম আলো

অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্র চায় ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি বন্ধ হোক, ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ থামানো হোক এবং আঞ্চলিক মিলিশিয়াদের প্রতি সমর্থন বন্ধ করা হোক।

এই পরস্পরবিরোধী অবস্থানের কারণে আলোচনায় অগ্রগতি এখনও অনিশ্চিত।

তেলের বাজারে বড় ধাক্কা

চলমান সংঘাত ইতোমধ্যে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে বড় প্রভাব ফেলেছে। আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থার মতে, বর্তমান পরিস্থিতিতে দৈনিক প্রায় এক কোটি দশ লাখ ব্যারেল তেল সরবরাহে ঘাটতি তৈরি হয়েছে, যা অতীতের বড় জ্বালানি সংকটগুলোর চেয়েও বেশি।

এই পরিস্থিতি দীর্ঘস্থায়ী হলে বিশ্ব অর্থনীতিতে এর বড় ধরনের প্রভাব পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।