ইরানে চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতি বিশ্ব জ্বালানি বাজারে নতুন অনিশ্চয়তা তৈরি করেছে। এই প্রেক্ষাপটে জাপানের সাবেক উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী তাকেও মোরি মনে করছেন, মধ্যপ্রাচ্যের উপর অতিরিক্ত নির্ভরতা কমিয়ে আলাস্কা ও কানাডা থেকে তেল আমদানির বিষয়টি এখন গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করা উচিত।
হরমুজ প্রণালী সংকট ও জ্বালানি ঝুঁকি
ইরান যুদ্ধ তীব্র হওয়ায় হরমুজ প্রণালী দিয়ে জাহাজ চলাচল প্রায় অচল হয়ে পড়েছে। এই প্রণালী জাপানের জ্বালানি সরবরাহের অন্যতম প্রধান পথ হওয়ায় পরিস্থিতি দেশটির জন্য বড় ঝুঁকি তৈরি করেছে। মোরির মতে, সাময়িকভাবে পথ খুললেও দীর্ঘমেয়াদে মধ্যপ্রাচ্যের উপর ৯০ শতাংশ নির্ভরতা রাখা বড় ভুল হবে।

আলাস্কা ও কানাডা—বিকল্প জ্বালানি উৎস
জাপানের সামনে এখন প্রশান্ত মহাসাগর হয়ে আলাস্কা ও কানাডা থেকে তেল আমদানির সুযোগ রয়েছে। এতে সরবরাহ বৈচিত্র্য বাড়বে এবং ভূরাজনৈতিক ঝুঁকি কমবে। মোরি মনে করেন, জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এই কৌশল এখন অত্যন্ত জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কৌশলগত সমন্বয়
সম্প্রতি জাপান-যুক্তরাষ্ট্র বৈঠকে জাপানের অবস্থান তুলে ধরতে সক্ষম হয়েছে টোকিও। এতে জাপানকে গুরুত্বপূর্ণ মিত্র হিসেবে দেখছে ওয়াশিংটন। বিশেষ করে তাইওয়ান প্রণালীতে একতরফা পরিবর্তনের বিরোধিতা নিয়ে দুই দেশের অবস্থান আরও শক্ত হয়েছে।
চীন ও বৈশ্বিক উত্তেজনা
মোরির মতে, জাপানের প্রভাবেই যুক্তরাষ্ট্রের কৌশলগত ভাষা আরও কঠোর হয়েছে। তবে বর্তমান পরিস্থিতিতেও যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রনীতির শীর্ষ অগ্রাধিকার হিসেবে চীনই রয়েছে। একই সঙ্গে ইউক্রেন যুদ্ধ ও অন্যান্য অঞ্চলের উত্তেজনা যুক্তরাষ্ট্রের ওপর বাড়তি চাপ সৃষ্টি করছে।
ইরানের ভবিষ্যৎ নিয়ে সতর্ক বার্তা
মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ইরান সাময়িকভাবে দুর্বল হতে পারে, তবে দেশটি ভেঙে পড়বে না বলে মনে করেন মোরি। বরং প্রতিশোধের প্রবল মানসিকতা নিয়ে আরও শক্তভাবে ফিরে আসার সম্ভাবনাও রয়েছে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















