দশকের পর দশক ধরে বিনিয়োগ জগতে এক অদ্বিতীয় নাম হিসেবে প্রতিষ্ঠিত ছিলেন ওয়ারেন বাফেট। কিন্তু তাঁর অবসর নেওয়ার পর আবারও সামনে এসেছে পুরোনো প্রশ্ন—কে হবেন পরবর্তী বাফেট? বাস্তবতা বলছে, এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে গিয়ে বারবার হতাশ হতে হয়েছে বাজারকে।
নতুন বাফেট খোঁজার দীর্ঘ ইতিহাস
ওয়ারেন বাফেট দীর্ঘ সময় ধরে একটি প্রতিষ্ঠানের নেতৃত্ব দিয়ে গড়েছেন অসাধারণ বিনিয়োগ রেকর্ড। তাঁর সরল জীবনযাপন, বিচক্ষণ সিদ্ধান্ত এবং দীর্ঘমেয়াদি কৌশল তাঁকে আলাদা করেছে অন্যদের থেকে।
তাঁর স্থলাভিষিক্ত হিসেবে নতুন প্রধান নির্বাহী হিসেবে দায়িত্ব নিয়েছেন গ্রেগ অ্যাবেল। কিন্তু বাফেটের মতো আরেকজন তৈরি করা এত সহজ নয়, সেটাই বারবার প্রমাণিত হয়েছে।
বহু বছর ধরেই বিভিন্ন বিনিয়োগকারীকে “পরবর্তী বাফেট” হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে। কখনও মিডিয়া, কখনও ভক্তরা, আবার কখনও নিজেরাই এই পরিচয় নিতে চেয়েছেন। কিন্তু অধিকাংশ ক্ষেত্রেই সেই প্রত্যাশা পূরণ হয়নি।

ব্যর্থতার নজির ও বিতর্ক
এক সময় ক্রিপ্টো জগতের উদ্যোক্তা স্যাম ব্যাংকম্যান-ফ্রাইডকে নতুন বাফেট হিসেবে আখ্যা দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু তাঁর প্রতিষ্ঠানের পতন এবং জালিয়াতির মামলায় দণ্ডিত হওয়ার ঘটনা এই ধারণাকে ভেঙে দেয়।
একইভাবে নিজেকে “চীনের বাফেট” দাবি করা ওয়েইঝেন ট্যাংও প্রতারণার অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত হন।
আরেকজন আলোচিত নাম এডি ল্যাম্পার্ট। একসময় তাঁকে সম্ভাব্য বাফেট বলা হলেও, তাঁর অধীনে থাকা খুচরা ব্যবসা শেষ পর্যন্ত দেউলিয়া হয়ে যায়।
এই ঘটনাগুলোকে অনেকেই “পরবর্তী বাফেট অভিশাপ” হিসেবে দেখেন—যেখানে এই তকমা পাওয়ার পরই ব্যর্থতা যেন অনিবার্য হয়ে ওঠে।
সফলতা থাকলেও তুলনা অসম্ভব
তবে সবাই যে ব্যর্থ হয়েছেন তা নয়। কিছু বিনিয়োগকারী নিজেদের জায়গায় সফল হয়েছেন, যদিও বাফেটের সমকক্ষ হতে পারেননি।
কানাডার বিনিয়োগকারী প্রেম ওয়াটসা নিজেই স্বীকার করেছেন, বাফেটের মতো আর কেউ নেই।
অন্যদিকে, প্রযুক্তি বিনিয়োগকারী চামাথ পালিহাপিতিয়া একসময় নিজের প্রতিষ্ঠানকে নতুন প্রজন্মের বার্কশায়ার বানানোর স্বপ্ন দেখেছিলেন। কিন্তু সুদের হার বৃদ্ধির ফলে তাঁর পরিকল্পনা ধাক্কা খায়।

বাফেটের দর্শন ও বাস্তবতা
বাফেট সবসময় জোর দিয়েছেন সাধারণ তথ্য ব্যবহার করে বিনিয়োগ করার ওপর। তাঁর মতে, বাজারে লাভ করতে ভেতরের গোপন তথ্যের দরকার নেই। বরং দীর্ঘমেয়াদি ধৈর্যই আসল শক্তি।
তিনি প্রায়ই মজার ছলে বলেন, সফল হতে হলে দীর্ঘ জীবনও গুরুত্বপূর্ণ, কারণ সময়ের সঙ্গে সঙ্গে বিনিয়োগের শক্তি বাড়ে।
আজকের বাজারে চ্যালেঞ্জ
বর্তমান বাজার পরিস্থিতি বাফেটের কৌশল অনুসরণ করাকে আরও কঠিন করে তুলেছে। শেয়ারের দাম ঐতিহাসিকভাবে উচ্চ পর্যায়ে থাকায় সস্তায় বিনিয়োগের সুযোগ কমে গেছে।
এছাড়া কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা কেন্দ্রিক উত্থান বাজারকে আরও ব্যয়বহুল করে তুলেছে।
বাফেট নিজেও স্বীকার করেছেন, তাঁর প্রতিষ্ঠানের বিশাল আকারের কারণে আগের মতো দ্রুত প্রবৃদ্ধি সম্ভব নয়।
নতুন প্রজন্মের প্রতিদ্বন্দ্বী
এখনও কিছু বিনিয়োগকারী চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। তাদের মধ্যে বিল অ্যাকম্যান অন্যতম, যিনি দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগ কৌশল অনুসরণ করে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করতে চান।
তবে বাস্তবতা বলছে, বাফেট হওয়া শুধু দক্ষতার নয়, সময়, ধৈর্য এবং বিরল সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতার সমন্বয়—যা সহজে অনুকরণযোগ্য নয়।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















