বিশ্বব্যাপী কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই খাতে যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের মধ্যে উত্তেজনা নতুন মাত্রা পেয়েছে। মার্কিন নিষেধাজ্ঞার কারণে শীর্ষ একটি আন্তর্জাতিক এআই সম্মেলনে চীনা প্রতিষ্ঠানের অংশগ্রহণ বন্ধ হওয়ায় চীনের গবেষকদের সেই সম্মেলন বয়কট করার আহ্বান জানানো হয়েছে।
নিষেধাজ্ঞা ঘিরে নতুন উত্তেজনা
চীনের কম্পিউটার বিজ্ঞানী ও গবেষকদের একটি বড় অংশকে সম্প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে একটি গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক এআই সম্মেলনে অংশ না নিতে। কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, ওই সম্মেলনের আয়োজকরা যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞার আওতাভুক্ত প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে যুক্ত গবেষকদের প্রবন্ধ গ্রহণ বন্ধ করে দিয়েছে। এর মধ্যে চীনের শীর্ষ প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান হুয়াওয়ের মতো কোম্পানিও রয়েছে।
এই সিদ্ধান্তকে ঘিরে চীন-যুক্তরাষ্ট্র প্রযুক্তি দ্বন্দ্ব আরও তীব্র হয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এআই এমন একটি ক্ষেত্র যা অর্থনীতি, সমাজ এবং সামরিক শক্তির ওপর দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব ফেলতে পারে, ফলে এই খাতে প্রতিযোগিতা এখন অত্যন্ত সংবেদনশীল হয়ে উঠেছে।

চীনের তীব্র প্রতিক্রিয়া
চায়না কম্পিউটার ফেডারেশন (সিসিএফ) এই সিদ্ধান্তের তীব্র বিরোধিতা করেছে। সংস্থাটি জানিয়েছে, আন্তর্জাতিক একাডেমিক আদান-প্রদানের মূল ভিত্তি হলো উন্মুক্ততা, অন্তর্ভুক্তি, সমতা ও সহযোগিতা। কিন্তু নির্দিষ্ট প্রতিষ্ঠানকে নিষিদ্ধ করে এই সম্মেলন সেই নীতিগুলো লঙ্ঘন করেছে।
তাদের বক্তব্য অনুযায়ী, একাডেমিক কার্যক্রমকে রাজনৈতিক প্রভাবের আওতায় আনা আন্তর্জাতিক গবেষণা পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর এবং এটি বৈশ্বিক সহযোগিতার পথে বড় বাধা সৃষ্টি করবে।

বিশ্বের শীর্ষ এআই সম্মেলন
নিউরাল ইনফরমেশন প্রসেসিং সিস্টেমস (নিউরিপস) সম্মেলনকে বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এআই সম্মেলন হিসেবে বিবেচনা করা হয়। প্রতি বছর হাজার হাজার গবেষক এখানে অংশ নেন এবং সর্বাধুনিক গবেষণা উপস্থাপন করেন।
এটি শুধু গবেষণার প্ল্যাটফর্ম নয়, বরং এআই প্রতিভা নিয়োগের ক্ষেত্রেও একটি বড় প্রতিযোগিতার মঞ্চ। যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের প্রযুক্তি কোম্পানিগুলো এখানে দক্ষ গবেষকদের আকর্ষণ করতে সক্রিয়ভাবে অংশ নেয়।

চীনা গবেষকদের সাফল্য
গত বছরের সম্মেলনে প্রথমবারের মতো দুটি ভিন্ন স্থানে আয়োজন করা হয়েছিল, আংশিকভাবে এই আশঙ্কা থেকে যে চীনা অংশগ্রহণকারীরা মার্কিন ভিসা সমস্যার মুখে পড়তে পারেন।
সেই সম্মেলনে আলিবাবা ক্লাউডের প্রধান প্রযুক্তি কর্মকর্তা ঝৌ জিংরেনের নেতৃত্বে একটি দল সেরা গবেষণাপত্র পুরস্কার অর্জন করে। এর আগের বছর একই ধরনের স্বীকৃতি পেয়েছিল বাইটড্যান্স এবং পেকিং বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকরা।
এই ধারাবাহিক সাফল্য দেখায় যে বৈশ্বিক এআই গবেষণায় চীনা বিজ্ঞানীদের গুরুত্বপূর্ণ অবদান রয়েছে, যা বর্তমান নিষেধাজ্ঞা ও দ্বন্দ্বের প্রেক্ষাপটে আরও আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে এসেছে।
#এআই #চীনযুক্তরাষ্ট্র #প্রযুক্তিযুদ্ধ #নিউরিপস #গবেষণা
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















