যুক্তরাষ্ট্রের এক সময়ের আলোচিত ও বিতর্কিত চিকিৎসক কার্মিট গসনেল অবশেষে মৃত্যুবরণ করেছেন। বহু বছর কারাগারে থাকার পর ৮৫ বছর বয়সে তার মৃত্যু ঘটে, যা আবারও সামনে নিয়ে এসেছে তার পরিচালিত সেই ভয়াবহ ক্লিনিকের চিত্র ও অপরাধের দীর্ঘ তালিকা।
মৃত্যুর মধ্যেও আলোচনায় গসনেল
দীর্ঘ এক দশকের বেশি সময় কারাভোগের পর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। তিনি আগে পেনসিলভানিয়ার একটি সংশোধনাগারে ছিলেন। তার মৃত্যু সংবাদ প্রকাশের সঙ্গে সঙ্গে আবারও আলোচনায় উঠে আসে তার অতীত এবং অপরাধের নৃশংসতা।

ভয়াবহ ক্লিনিকের চিত্র
২০১০ সালে তার ক্লিনিকে অভিযানের সময় যে দৃশ্য পাওয়া যায়, তা তদন্তকারীদেরও স্তম্ভিত করে দেয়। ক্লিনিকের বিভিন্ন স্থানে ভ্রূণের দেহাবশেষ পাওয়া যায়, পরিবেশ ছিল অস্বাস্থ্যকর ও ভয়ংকর। মেঝে, আসবাবপত্র এমনকি চিকিৎসা সরঞ্জামেও ছিল রক্তের দাগ। রোগীরা রক্তমাখা কম্বলসহ অপরিচ্ছন্ন চেয়ারে বসে চিকিৎসার অপেক্ষায় থাকতেন।
এই ক্লিনিককে পরবর্তীতে গণমাধ্যমে “ভয়াবহতার ঘর” হিসেবেও উল্লেখ করা হয়।
অভিযোগ ও নৃশংস পদ্ধতি
অভিযোগ ছিল, জীবিত জন্ম নেওয়া শিশুদের হত্যা করা হতো এক ভয়ঙ্কর পদ্ধতিতে, যা তিনি নিজেই একটি নাম দিয়েছিলেন। তদন্ত প্রতিবেদনে উঠে আসে, দীর্ঘদিন ধরে শত শতবার এমন কাজ করা হয়েছে। অনেক অপরাধের প্রমাণ নষ্ট হয়ে যাওয়ায় সব ঘটনার বিচারও সম্ভব হয়নি।
এছাড়া, অতিরিক্ত অ্যানেস্থেশিয়ার কারণে এক নারীর মৃত্যুর ঘটনাও তার বিরুদ্ধে প্রমাণিত হয়।
বিচার ও সাজা
২০১৩ সালে আদালত তাকে একাধিক হত্যার দায়ে দোষী সাব্যস্ত করে। একই সঙ্গে অবৈধ গর্ভপাত এবং বিভিন্ন আইন ভঙ্গের জন্যও দণ্ড দেওয়া হয়। মৃত্যুদণ্ডের সম্ভাবনা থাকলেও শেষ পর্যন্ত তাকে একাধিক যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়।
সমাজে প্রতিক্রিয়া ও বিতর্ক
এই মামলাটি যুক্তরাষ্ট্রে গর্ভপাত বিষয়ক বিতর্ককে নতুন করে উসকে দেয়। কেউ এটিকে চিকিৎসা ব্যবস্থার ব্যর্থতা হিসেবে দেখেন, আবার কেউ এটিকে বৃহত্তর নৈতিক সংকট হিসেবে ব্যাখ্যা করেন।
বিচার চলাকালীন একে কেবল গর্ভপাত নয়, বরং সরাসরি হত্যার ঘটনা হিসেবে উল্লেখ করেন বিচার সংশ্লিষ্টরা।

সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















