যুক্তরাষ্ট্রের বার্ষিক ন্যাশনাল বুক ক্রিটিকস সার্কেল পুরস্কারে এবার সম্মানিত হয়েছেন নোবেলজয়ী দক্ষিণ কোরীয় লেখক হান কাং, প্রযুক্তি বিশ্লেষক ক্যারেন হাও এবং ভারতীয় লেখক অরুন্ধতী রায়সহ আরও অনেকে। সাহিত্য, গবেষণা ও স্মৃতিকথার বিভিন্ন বিভাগে তাদের কাজ বিশেষ স্বীকৃতি পেয়েছে।
হান কাংয়ের উপন্যাসে ইতিহাসের বেদনাময় অধ্যায়
নোবেলজয়ী Han Kang-এর উপন্যাস “We Do Not Part” এবার কথাসাহিত্য বিভাগে পুরস্কার জিতেছে। বইটি ১৯৪৮-৪৯ সালে দক্ষিণ কোরিয়ার জেজু দ্বীপে সংঘটিত বিদ্রোহ ও গণহত্যার ঘটনাকে কেন্দ্র করে লেখা, যেখানে হাজারো মানুষ নিহত হয়।
বিচারক কমিটির সদস্য হেদার স্কট পার্টিংটন উপন্যাসটিকে গভীর বিষণ্নতা ও আবহময় ভাষার এক অনন্য সৃষ্টি হিসেবে উল্লেখ করেন। তার মতে, বইটি এমন এক অনুভূতি তৈরি করে যা পাঠকের মনে দীর্ঘ সময় ধরে থেকে যায়।
আজীবন সম্মাননা ও প্রাতিষ্ঠানিক স্বীকৃতি
এবারের আজীবন সম্মাননা পুরস্কার পেয়েছেন লেখক ও সাংবাদিক Frances FitzGerald। তার ১৯৭২ সালের বই “Fire in the Lake” ভিয়েতনাম যুদ্ধ নিয়ে সময়ের আগেই গুরুত্বপূর্ণ বিশ্লেষণ তুলে ধরেছিল।
এছাড়া বই সংস্কৃতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদানের জন্য দুটি গণমাধ্যম প্রতিষ্ঠান—NPR এবং PBS—বিশেষ সম্মাননা পেয়েছে। আয়োজকরা বলেন, জনসেবামূলক গণমাধ্যমের গুরুত্ব নিয়ে যখন প্রশ্ন উঠছে, তখন এই প্রতিষ্ঠানগুলো বই ও গণতন্ত্রের জন্য গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে চলেছে।
অন্যান্য বিভাগে বিজয়ীরা
নন-ফিকশন বিভাগে বিজয়ী হয়েছেন Karen Hao তার বই “Empire of AI: Dreams and Nightmares in Sam Altman’s OpenAI” এর জন্য, যেখানে OpenAI-এর উত্থান ও প্রভাব বিশ্লেষণ করা হয়েছে।
আত্মজীবনী বিভাগে পুরস্কার পেয়েছেন Arundhati Roy তার “Mother Mary Comes to Me” বইয়ের জন্য।
জীবনী বিভাগে বিজয়ী হয়েছেন অ্যালেক্স গ্রিন, তার “A Perfect Turmoil” বইয়ের জন্য, যেখানে প্রতিবন্ধী মানুষের সেবার ইতিহাস তুলে ধরা হয়েছে।
কবিতায় পুরস্কার পেয়েছেন Kevin Young তার “Night Watch” কাব্যগ্রন্থের জন্য।
অনুবাদ বিভাগে জয়ী হয়েছে নেইজ সিনোর “Sad Tiger”, যা অনুবাদ করেছেন নাতাশা লেহরার—এ পুরস্কারটি লেখক ও অনুবাদক দুজনকেই সম্মান জানায়।

পুরস্কারের পটভূমি
ন্যাশনাল বুক ক্রিটিকস সার্কেল ১৯৭৪ সালে নিউইয়র্কে প্রতিষ্ঠিত হয়। বর্তমানে ৮৫০-এর বেশি সমালোচক ও সম্পাদক এই সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত। প্রতি বছর যুক্তরাষ্ট্রে প্রকাশিত সেরা বইগুলোকে বিভিন্ন বিভাগে এই পুরস্কারের মাধ্যমে স্বীকৃতি দেওয়া হয়।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















