ইরাকের পশ্চিমাঞ্চলীয় আনবার প্রদেশে একটি সামরিক ঘাঁটির ক্লিনিকে বিমান হামলার ঘটনায় তীব্র উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে। ইরাক সরকার অভিযোগ করেছে, এই হামলায় তাদের সাতজন সেনা নিহত এবং আরও অন্তত ১৩ জন আহত হয়েছেন। তবে যুক্তরাষ্ট্র এই অভিযোগ অস্বীকার করেছে, ফলে দুই দেশের সম্পর্ক নতুন করে চাপের মুখে পড়েছে।
হামলার ঘটনা ও ইরাকের প্রতিক্রিয়া
বুধবার সকালে সংঘটিত এই হামলাকে ইরাকের পক্ষ থেকে “জঘন্য আগ্রাসন” হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে। দেশটির সশস্ত্র বাহিনীর মুখপাত্র সাবাহ আল-নুমান জানিয়েছেন, এই হামলার জবাব দিতে ইরাক সব ধরনের পদক্ষেপ নেওয়ার অধিকার রাখে। তিনি আরও বলেন, এই ঘটনা ইরাক ও যুক্তরাষ্ট্রের জনগণের মধ্যকার সম্পর্ককে দুর্বল করে দিচ্ছে।

ইরাকের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানায়, হামলাটি হাব্বানিয়াহ সামরিক ক্লিনিকে আঘাত হানে। ঘটনাস্থলে উদ্ধার কার্যক্রম চালানো হয় এবং ধ্বংসস্তূপে ঢাকা পড়ে থাকা স্থাপনাটি একটি চিকিৎসাকেন্দ্র হিসেবেই চিহ্নিত ছিল।
যুক্তরাষ্ট্রের অস্বীকার ও তদন্ত
অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় কমান্ডের মুখপাত্র টিম হকিন্স জানিয়েছেন, তারা এই ঘটনার খবর সম্পর্কে অবগত, তবে মার্কিন বাহিনী কোনো চিকিৎসাকেন্দ্রকে লক্ষ্য করে হামলা চালায়নি। কী ঘটেছে তা যাচাই করা হচ্ছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
তবে ঘটনাস্থলের ভিডিও বিশ্লেষণে দেখা গেছে, ধ্বংসস্তূপের পাশে উদ্ধারকর্মী ও পুলিশ সদস্যরা কাজ করছেন এবং এলাকাটি একটি ক্লিনিক হিসেবে চিহ্নিত। এছাড়া একটি ভিডিওতে দুটি যুদ্ধবিমানকে ঘটনাস্থলের ওপর দিয়ে উড়তে দেখা গেছে, যার একটি নিচে নেমে হামলার দিকেই যাচ্ছিল বলে ধারণা করা হচ্ছে।
আঞ্চলিক উত্তেজনা ও কূটনৈতিক পদক্ষেপ

এই ঘটনার প্রেক্ষাপটে ইরাক সরকার যুক্তরাষ্ট্র দূতাবাসের প্রতিনিধিকে তলব করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে এবং জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দায়েরের প্রস্তুতি নিচ্ছে।
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, প্রতিবেশী ইরানে চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতির মধ্যে এই ঘটনা যুক্তরাষ্ট্র ও ইরাকের সম্পর্ককে আরও জটিল করে তুলতে পারে। দীর্ঘদিন ধরে ইরাকে মার্কিন সেনা উপস্থিতি নিয়ে বিতর্ক থাকলেও ইসলামিক স্টেটবিরোধী অভিযানে দুই দেশের সহযোগিতা অব্যাহত ছিল।
পূর্ববর্তী হামলার ছায়া
এর আগে ইরানের একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ভয়াবহ হামলার ঘটনাও তদন্তাধীন রয়েছে, যেখানে শতাধিক মানুষের মৃত্যু হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে। সেই ঘটনার দায় নিয়েও এখনো স্পষ্ট অবস্থান নেয়নি যুক্তরাষ্ট্র, যা বর্তমান পরিস্থিতিকে আরও সংবেদনশীল করে তুলেছে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















