চীনের বিমান সংস্থাগুলো চলতি গ্রীষ্মকালীন সূচিতে ইউরোপগামী ফ্লাইট উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ানোর পরিকল্পনা করেছে। বিশ্লেষকদের মতে, গত বছরের তুলনায় প্রায় ২,৯০০টি অতিরিক্ত ফ্লাইট যুক্ত হতে পারে। এর পেছনে বড় কারণ হিসেবে দেখা হচ্ছে মধ্যপ্রাচ্য পরিস্থিতি, বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল ও ইরান সংশ্লিষ্ট সংঘাত, যা চীনা এয়ারলাইনগুলোর জন্য বাড়তি প্রতিযোগিতামূলক সুবিধা তৈরি করেছে।
রাশিয়ার আকাশপথ ব্যবহারে বাড়তি সুবিধা
পশ্চিমা অনেক বিমান সংস্থা যেখানে রাশিয়ার আকাশপথ ব্যবহার করতে পারছে না, সেখানে চীনের বিমান সংস্থাগুলো সরাসরি এই পথ ব্যবহার করে ইউরোপে যাতায়াত করতে পারছে। ফলে তাদের ফ্লাইট সময় কমছে, জ্বালানি খরচ কম হচ্ছে এবং মধ্যপ্রাচ্যের ঝুঁকিপূর্ণ আকাশপথ এড়িয়ে যাওয়া সম্ভব হচ্ছে।
ফ্লাইট বৃদ্ধির পরিসংখ্যান
ব্রিটিশ বিমান তথ্য সংস্থা ওএজি’র তথ্য অনুযায়ী, চীনের এয়ারলাইনগুলো ইউরোপগামী ফ্লাইট সংখ্যা মোট ২,৮৯১টি বাড়াবে। এর মধ্যে এয়ার চায়না যোগ করবে ১,১২০টি ফ্লাইট, চায়না সাউদার্ন এয়ারলাইন্স ৮৩৯টি এবং চায়না ইস্টার্ন এয়ারলাইন্স ৬৫৪টি ফ্লাইট বৃদ্ধি করবে।
এছাড়া হাইনান এয়ারলাইন্সসহ ছোট বিমান সংস্থাগুলোও ইউরোপমুখী ফ্লাইট বাড়ানোর পরিকল্পনা করেছে। এই সূচি মার্চের শেষ থেকে অক্টোবর পর্যন্ত সময়কে অন্তর্ভুক্ত করে।

নতুন রুট চালুর পরিকল্পনা
শুধু ফ্লাইট সংখ্যা বাড়ানোই নয়, নতুন চীন-ইউরোপ রুট চালুর কথাও ভাবছে এয়ারলাইনগুলো। একটি রুটে একাধিক ফ্লাইট পরিচালনা করা সম্ভব হওয়ায় এই সম্প্রসারণ আরও কার্যকর হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের প্রভাব
ইউক্রেন যুদ্ধকে ঘিরে আরোপিত নিষেধাজ্ঞার কারণে রাশিয়া ইউরোপ ও উত্তর আমেরিকার বহু বিমান সংস্থাকে তাদের আকাশপথ ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে। এই পরিস্থিতি চীনা বিমান সংস্থাগুলোর জন্য বড় ধরনের সুবিধা তৈরি করেছে, বিশেষ করে চীন-ইউরোপ রুটে প্রতিযোগিতার ক্ষেত্রে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















