০৫:৪২ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৭ মার্চ ২০২৬
হরমুজ প্রণালী ‘শত্রুদের জন্য বন্ধ’—জাহাজ চলাচলে সতর্কবার্তা আইআরজিসির ভারতে জ্বালানি সংকটের গুজব: সরকার বলছে পর্যাপ্ত মজুত, তবু পাম্পে দীর্ঘ লাইন স্বাধীনতার ঘোষণা নিয়ে বিতর্ক থামছে না কেন যুদ্ধের আগুনে জ্বালানি সংকট, এশিয়াজুড়ে মূল্যঝড় ও সরবরাহ বিপর্যয় ইরানের হামলায় রিয়াদ ও কুয়েতে আঘাত, মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা তীব্র নেটফ্লিক্সে রহস্যের ঝড়: আগাথা ক্রিস্টি থেকে নর্ডিক অন্ধকার—নতুন সিরিজে বিশ্বজুড়ে উত্তেজনা রুপির পতনে বাজারে চাপ, প্রবাসী আয় বাড়ার ইঙ্গিত—ভারতের অর্থনীতিতে কী বার্তা? মার্কিন শান্তি প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করল ইরান, হরমুজ প্রণালি উত্তেজনা বাড়ছে মার্কিন ১৫ দফা প্রস্তাবে ইরান যুদ্ধের ইতি? নিষেধাজ্ঞা শিথিলের বিনিময়ে ইউরেনিয়াম ত্যাগের শর্ত মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ থামাতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রস্তাব ‘একপেশে’, পাল্টা হুঁশিয়ারিতে উত্তেজনা আরও তীব্র

চীনে আটকা মেটার এআই কোম্পানির শীর্ষ কর্মকর্তা, তদন্তে নতুন মোড়

চীনে প্রযুক্তি খাতে নিয়ন্ত্রণ জোরদারের মধ্যে বড় ধরনের আন্তর্জাতিক বিনিয়োগ নিয়ে নতুন উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক প্রযুক্তি জায়ান্ট মেটার অধিগ্রহণ করা একটি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রতিষ্ঠানের দুই শীর্ষ কর্মকর্তাকে দেশ ছাড়তে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে বেইজিং। এতে বৈশ্বিক এআই প্রতিযোগিতার প্রেক্ষাপটে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছে।

তদন্তে চীনের কঠোর অবস্থান

চীনের কর্তৃপক্ষ সিঙ্গাপুরভিত্তিক এআই প্রতিষ্ঠান ম্যানাসের প্রধান নির্বাহী শিয়াও হং এবং প্রধান বিজ্ঞানী জি ইচাওকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য বেইজিংয়ে ডেকে পাঠায়। পরে তাদের দেশ ছাড়তে নিষেধ করা হয়। অভিযোগ রয়েছে, মেটার প্রায় দুই বিলিয়ন ডলারের অধিগ্রহণ প্রক্রিয়ায় বিদেশি বিনিয়োগ সংক্রান্ত নিয়ম ভঙ্গ হয়েছে কিনা তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

প্রতিষ্ঠানটি মূলত চীনে শুরু হলেও পরে সিঙ্গাপুরে স্থানান্তরিত হয় এবং এরপর মেটা এটি অধিগ্রহণ করে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে চীনের বাণিজ্য মন্ত্রণালয় আগেই তদন্ত শুরু করেছিল, যদিও বিস্তারিত এখনো প্রকাশ করা হয়নি।

Leaders of AI Firm Bought by Meta Are Restricted From Leaving China - WSJ

এআই প্রতিযোগিতায় উত্তেজনা

যুক্তরাষ্ট্র ও চীন—উভয় দেশই এখন কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা খাতে আধিপত্য প্রতিষ্ঠার জন্য প্রতিযোগিতায় নেমেছে। এই প্রেক্ষাপটে প্রযুক্তি কোম্পানিগুলোর প্রতিভা ও সম্পদ অন্য দেশে চলে যাওয়া ঠেকাতে কঠোর অবস্থান নিচ্ছে দুই পক্ষই। তবে বড় কোনো আন্তর্জাতিক চুক্তি ঠেকাতে নির্বাহীদের দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা দেওয়ার ঘটনা এটিই প্রথম বলে মনে করা হচ্ছে।

ম্যানাস মূলত এমন এআই এজেন্ট তৈরি করে, যা সাধারণ চ্যাটবটের চেয়ে বেশি জটিল কাজ করতে পারে। যেমন ব্যবহারকারীর কম্পিউটারে ফাইল পরিচালনা, সফটওয়্যার চালানো বা বড় ডেটা বিশ্লেষণ করা। এই প্রযুক্তির গুরুত্ব বাড়ায় কোম্পানিটি দ্রুত আন্তর্জাতিক আগ্রহের কেন্দ্রে উঠে আসে।

মেটার কৌশলগত পদক্ষেপ

China bars executives at Meta-owned AI company from leaving country - The  Washington Post

এআই খাতে প্রতিযোগীদের সঙ্গে পাল্লা দিতে মেটা সাম্প্রতিক সময়ে একাধিক বড় বিনিয়োগ করেছে। বিভিন্ন স্টার্টআপ অধিগ্রহণ, উচ্চ বেতনে গবেষক নিয়োগ এবং অভ্যন্তরীণ কাঠামো পরিবর্তনের মাধ্যমে তারা নিজেদের অবস্থান শক্ত করতে চাইছে। ম্যানাস অধিগ্রহণও সেই বৃহত্তর কৌশলের অংশ।

তবে চীনের এই নিষেধাজ্ঞা ম্যানাসের ভবিষ্যৎ কার্যক্রমে কী প্রভাব ফেলবে, তা এখনো স্পষ্ট নয়।

চীনের নিষেধাজ্ঞা ব্যবস্থার বাস্তবতা

চীনে এমন নিষেধাজ্ঞার আওতায় পড়লে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি অনির্দিষ্ট সময়ের জন্য দেশ ছাড়তে পারেন না, যদিও দেশের ভেতরে চলাচলে বাধা থাকে না। বিভিন্ন ক্ষেত্রে তদন্ত চলাকালে এই ব্যবস্থা প্রয়োগ করা হয়, তবে সমালোচকরা বলছেন, অনেক সময় এটি রাজনৈতিক বা কৌশলগত চাপ তৈরির মাধ্যম হিসেবেও ব্যবহৃত হয়।

মেটা জানিয়েছে, তারা আইন মেনে এই চুক্তি সম্পন্ন করেছে এবং তদন্তের একটি ইতিবাচক সমাধান আশা করছে।

 

জনপ্রিয় সংবাদ

হরমুজ প্রণালী ‘শত্রুদের জন্য বন্ধ’—জাহাজ চলাচলে সতর্কবার্তা আইআরজিসির

চীনে আটকা মেটার এআই কোম্পানির শীর্ষ কর্মকর্তা, তদন্তে নতুন মোড়

০৩:৫৭:২৮ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৭ মার্চ ২০২৬

চীনে প্রযুক্তি খাতে নিয়ন্ত্রণ জোরদারের মধ্যে বড় ধরনের আন্তর্জাতিক বিনিয়োগ নিয়ে নতুন উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক প্রযুক্তি জায়ান্ট মেটার অধিগ্রহণ করা একটি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রতিষ্ঠানের দুই শীর্ষ কর্মকর্তাকে দেশ ছাড়তে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে বেইজিং। এতে বৈশ্বিক এআই প্রতিযোগিতার প্রেক্ষাপটে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছে।

তদন্তে চীনের কঠোর অবস্থান

চীনের কর্তৃপক্ষ সিঙ্গাপুরভিত্তিক এআই প্রতিষ্ঠান ম্যানাসের প্রধান নির্বাহী শিয়াও হং এবং প্রধান বিজ্ঞানী জি ইচাওকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য বেইজিংয়ে ডেকে পাঠায়। পরে তাদের দেশ ছাড়তে নিষেধ করা হয়। অভিযোগ রয়েছে, মেটার প্রায় দুই বিলিয়ন ডলারের অধিগ্রহণ প্রক্রিয়ায় বিদেশি বিনিয়োগ সংক্রান্ত নিয়ম ভঙ্গ হয়েছে কিনা তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

প্রতিষ্ঠানটি মূলত চীনে শুরু হলেও পরে সিঙ্গাপুরে স্থানান্তরিত হয় এবং এরপর মেটা এটি অধিগ্রহণ করে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে চীনের বাণিজ্য মন্ত্রণালয় আগেই তদন্ত শুরু করেছিল, যদিও বিস্তারিত এখনো প্রকাশ করা হয়নি।

Leaders of AI Firm Bought by Meta Are Restricted From Leaving China - WSJ

এআই প্রতিযোগিতায় উত্তেজনা

যুক্তরাষ্ট্র ও চীন—উভয় দেশই এখন কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা খাতে আধিপত্য প্রতিষ্ঠার জন্য প্রতিযোগিতায় নেমেছে। এই প্রেক্ষাপটে প্রযুক্তি কোম্পানিগুলোর প্রতিভা ও সম্পদ অন্য দেশে চলে যাওয়া ঠেকাতে কঠোর অবস্থান নিচ্ছে দুই পক্ষই। তবে বড় কোনো আন্তর্জাতিক চুক্তি ঠেকাতে নির্বাহীদের দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা দেওয়ার ঘটনা এটিই প্রথম বলে মনে করা হচ্ছে।

ম্যানাস মূলত এমন এআই এজেন্ট তৈরি করে, যা সাধারণ চ্যাটবটের চেয়ে বেশি জটিল কাজ করতে পারে। যেমন ব্যবহারকারীর কম্পিউটারে ফাইল পরিচালনা, সফটওয়্যার চালানো বা বড় ডেটা বিশ্লেষণ করা। এই প্রযুক্তির গুরুত্ব বাড়ায় কোম্পানিটি দ্রুত আন্তর্জাতিক আগ্রহের কেন্দ্রে উঠে আসে।

মেটার কৌশলগত পদক্ষেপ

China bars executives at Meta-owned AI company from leaving country - The  Washington Post

এআই খাতে প্রতিযোগীদের সঙ্গে পাল্লা দিতে মেটা সাম্প্রতিক সময়ে একাধিক বড় বিনিয়োগ করেছে। বিভিন্ন স্টার্টআপ অধিগ্রহণ, উচ্চ বেতনে গবেষক নিয়োগ এবং অভ্যন্তরীণ কাঠামো পরিবর্তনের মাধ্যমে তারা নিজেদের অবস্থান শক্ত করতে চাইছে। ম্যানাস অধিগ্রহণও সেই বৃহত্তর কৌশলের অংশ।

তবে চীনের এই নিষেধাজ্ঞা ম্যানাসের ভবিষ্যৎ কার্যক্রমে কী প্রভাব ফেলবে, তা এখনো স্পষ্ট নয়।

চীনের নিষেধাজ্ঞা ব্যবস্থার বাস্তবতা

চীনে এমন নিষেধাজ্ঞার আওতায় পড়লে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি অনির্দিষ্ট সময়ের জন্য দেশ ছাড়তে পারেন না, যদিও দেশের ভেতরে চলাচলে বাধা থাকে না। বিভিন্ন ক্ষেত্রে তদন্ত চলাকালে এই ব্যবস্থা প্রয়োগ করা হয়, তবে সমালোচকরা বলছেন, অনেক সময় এটি রাজনৈতিক বা কৌশলগত চাপ তৈরির মাধ্যম হিসেবেও ব্যবহৃত হয়।

মেটা জানিয়েছে, তারা আইন মেনে এই চুক্তি সম্পন্ন করেছে এবং তদন্তের একটি ইতিবাচক সমাধান আশা করছে।