০৩:১০ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ৩০ অগাস্ট ২০২৬
কিশোরদের মানসিক আশ্রয় যখন এআই: সহায়ক প্রযুক্তি নাকি নতুন ঝুঁকি? নেপালের মরদেহ শনাক্ত সংকট: এখনো নিখোঁজ ২,৪২৬ জন; ৫১৭ বিদেশি নাগরিক রাজধানীতে গ্যাস সংকট তীব্র, ৪০-৫০ টাকার গ্যাসের জন্য ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা রংপুরে অটোরিকশাচালককে গলা কেটে হত্যা, নিখোঁজ গাড়ি উদ্ধারে অভিযান ঢাকার যানজট কমাতে ৪ মাসের সময়সীমা, করওয়ান বাজারের কাঁচাবাজার যাবে গাবতলীতে ক্যানসারের ঝুঁকি কমাতে এখন থেকেই মানুন ৫টি সহজ অভ্যাস নিজ দলের কর্মীর সঙ্গে বিরোধ, মারধরের পর যুবদল নেতার মৃত্যু একই দিনে মনপুরার ৩ শিশু নিখোঁজ, উৎকণ্ঠায় পরিবার সেমিফাইনালে বাংলাদেশের প্রতিপক্ষ চূড়ান্ত, লড়াই হবে ভিক্টোরিয়ার সঙ্গে নেপাল-তিব্বত সীমান্তের বন্যায় নিখোঁজ বন্ধু, ভেসে গেল গ্ল্যান্সির পরিচিত গ্রাম

সস্তা ড্রোনে বদলে যাচ্ছে যুদ্ধের হিসাব, থামানো কঠিন ইরানের ‘শাহেদ’ উৎপাদন

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনার মাঝে নতুন করে আলোচনায় উঠে এসেছে ইরানের স্বল্পমূল্যের ‘শাহেদ’ ড্রোন। সামরিক স্থাপনা ধ্বংস করেও এই ড্রোনের উৎপাদন পুরোপুরি থামানো সম্ভব হচ্ছে না—এমনটাই বলছেন নিরাপত্তা বিশ্লেষকরা।

ধ্বংসের পরও থামছে না উৎপাদন

ইরানের ইসফাহান অঞ্চলের একটি ড্রোন কারখানায় হামলার আগে ও পরের ছবি প্রকাশ করেছে মার্কিন সামরিক বাহিনী। সেখানে দেখা যায়, কারখানাটি সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়ে গেছে। তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ধরনের হামলা সাময়িক ক্ষতি করলেও উৎপাদন বন্ধ করা কঠিন।

কারণ এই ড্রোনগুলো অত্যন্ত সহজ প্রযুক্তিতে তৈরি হয় এবং ছোট ছোট কর্মশালাতেও এগুলো তৈরি করা সম্ভব। ফলে বড় কারখানা ধ্বংস করলেও বিকল্প উৎপাদন ব্যবস্থা চালু রাখা যায়।

ইরানের সস্তা ড্রোনে বদলে যাচ্ছে আকাশযুদ্ধ, চ্যালেঞ্জের মুখে ব্যয়বহুল  অস্ত্র | Barta Bazar

সহজ প্রযুক্তি, বড় হুমকি

‘শাহেদ-১৩৬’ ড্রোন মূলত একটি কম খরচের অস্ত্র, যা সাধারণ যন্ত্রাংশ ব্যবহার করে তৈরি করা হয়। অ্যালুমিনিয়াম বাঁকানো, থ্রিডি প্রিন্টিং এবং ছোট ইঞ্জিন ব্যবহার করে এটি তৈরি করা সম্ভব। এর ফলে উৎপাদন প্রক্রিয়া ছড়িয়ে পড়েছে এবং ট্র্যাক করা কঠিন হয়ে উঠেছে।

এই ড্রোন প্রায় দেড় হাজার মাইল দূরত্ব পর্যন্ত আঘাত হানতে পারে এবং জিপিএস ব্যবহার করে লক্ষ্যবস্তুতে পৌঁছে যায়। তুলনামূলক কম গতির হলেও এর ধ্বংসক্ষমতা যথেষ্ট।

প্রতিদিন ডজনের পর ড্রোন হামলা

বিশ্লেষকদের মতে, সংঘাত চলতে থাকলে ইরান প্রতিদিন ৭০ থেকে ৯০টি ড্রোন ছুঁড়তে সক্ষম। যদিও শুরুতে এই সংখ্যা ছিল আরও বেশি। অনেক ড্রোন প্রতিরোধ করা গেলেও কিছু লক্ষ্যভেদ করছে, যার ফলে প্রাণহানি ও অবকাঠামোর ক্ষতি হচ্ছে।

সম্প্রতি কুয়েতে একটি ড্রোন হামলায় মার্কিন সেনা সদস্যদের মৃত্যুর ঘটনাও পরিস্থিতির গুরুত্ব বাড়িয়েছে।

ইরানের সস্তা ড্রোন যেভাবে পাল্টে দিচ্ছে যুদ্ধের ধরন

প্রতিরোধে ব্যয়বহুল ব্যবস্থা

এই ড্রোন মোকাবিলায় উপসাগরীয় দেশগুলোকে ব্যবহার করতে হচ্ছে অত্যন্ত ব্যয়বহুল ক্ষেপণাস্ত্র ও যুদ্ধবিমান। একটি ড্রোন ধ্বংস করতে যে খরচ হচ্ছে, তা ড্রোনের মূল্যের তুলনায় অনেক বেশি। ফলে এটি অর্থনৈতিক দিক থেকেও বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠেছে।

ছড়িয়ে পড়া উৎপাদনই বড় উদ্বেগ

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই ড্রোন উৎপাদন এখন বিকেন্দ্রীকৃত হয়ে গেছে। বড় কারখানার ওপর নির্ভরতা কমে যাওয়ায় যেকোনো জায়গা থেকেই উৎপাদন সম্ভব। এমনকি অন্য দেশ থেকেও সহায়তা পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

ফলে শুধু হামলা চালিয়ে উৎপাদন বন্ধ করা সম্ভব নয়। বরং এটি দীর্ঘমেয়াদি নিরাপত্তা সংকট তৈরি করছে।

যুদ্ধের কৌশলে বড় পরিবর্তন

এই ড্রোনগুলো শুধু সামরিক ঘাঁটি নয়, জ্বালানি অবকাঠামো ও বাণিজ্যিক রুটকেও লক্ষ্য করছে। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালীতে এর প্রভাব পড়ছে, যা বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারের জন্য উদ্বেগের কারণ।

বিশ্লেষকদের মতে, ইরান সরাসরি শক্তির লড়াইয়ে না গিয়ে প্রযুক্তি ও কৌশল বদলে যুদ্ধের নতুন ধারা তৈরি করেছে।

জনপ্রিয় সংবাদ

কিশোরদের মানসিক আশ্রয় যখন এআই: সহায়ক প্রযুক্তি নাকি নতুন ঝুঁকি?

সস্তা ড্রোনে বদলে যাচ্ছে যুদ্ধের হিসাব, থামানো কঠিন ইরানের ‘শাহেদ’ উৎপাদন

০৪:০২:৪৯ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৭ মার্চ ২০২৬

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনার মাঝে নতুন করে আলোচনায় উঠে এসেছে ইরানের স্বল্পমূল্যের ‘শাহেদ’ ড্রোন। সামরিক স্থাপনা ধ্বংস করেও এই ড্রোনের উৎপাদন পুরোপুরি থামানো সম্ভব হচ্ছে না—এমনটাই বলছেন নিরাপত্তা বিশ্লেষকরা।

ধ্বংসের পরও থামছে না উৎপাদন

ইরানের ইসফাহান অঞ্চলের একটি ড্রোন কারখানায় হামলার আগে ও পরের ছবি প্রকাশ করেছে মার্কিন সামরিক বাহিনী। সেখানে দেখা যায়, কারখানাটি সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়ে গেছে। তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ধরনের হামলা সাময়িক ক্ষতি করলেও উৎপাদন বন্ধ করা কঠিন।

কারণ এই ড্রোনগুলো অত্যন্ত সহজ প্রযুক্তিতে তৈরি হয় এবং ছোট ছোট কর্মশালাতেও এগুলো তৈরি করা সম্ভব। ফলে বড় কারখানা ধ্বংস করলেও বিকল্প উৎপাদন ব্যবস্থা চালু রাখা যায়।

ইরানের সস্তা ড্রোনে বদলে যাচ্ছে আকাশযুদ্ধ, চ্যালেঞ্জের মুখে ব্যয়বহুল  অস্ত্র | Barta Bazar

সহজ প্রযুক্তি, বড় হুমকি

‘শাহেদ-১৩৬’ ড্রোন মূলত একটি কম খরচের অস্ত্র, যা সাধারণ যন্ত্রাংশ ব্যবহার করে তৈরি করা হয়। অ্যালুমিনিয়াম বাঁকানো, থ্রিডি প্রিন্টিং এবং ছোট ইঞ্জিন ব্যবহার করে এটি তৈরি করা সম্ভব। এর ফলে উৎপাদন প্রক্রিয়া ছড়িয়ে পড়েছে এবং ট্র্যাক করা কঠিন হয়ে উঠেছে।

এই ড্রোন প্রায় দেড় হাজার মাইল দূরত্ব পর্যন্ত আঘাত হানতে পারে এবং জিপিএস ব্যবহার করে লক্ষ্যবস্তুতে পৌঁছে যায়। তুলনামূলক কম গতির হলেও এর ধ্বংসক্ষমতা যথেষ্ট।

প্রতিদিন ডজনের পর ড্রোন হামলা

বিশ্লেষকদের মতে, সংঘাত চলতে থাকলে ইরান প্রতিদিন ৭০ থেকে ৯০টি ড্রোন ছুঁড়তে সক্ষম। যদিও শুরুতে এই সংখ্যা ছিল আরও বেশি। অনেক ড্রোন প্রতিরোধ করা গেলেও কিছু লক্ষ্যভেদ করছে, যার ফলে প্রাণহানি ও অবকাঠামোর ক্ষতি হচ্ছে।

সম্প্রতি কুয়েতে একটি ড্রোন হামলায় মার্কিন সেনা সদস্যদের মৃত্যুর ঘটনাও পরিস্থিতির গুরুত্ব বাড়িয়েছে।

ইরানের সস্তা ড্রোন যেভাবে পাল্টে দিচ্ছে যুদ্ধের ধরন

প্রতিরোধে ব্যয়বহুল ব্যবস্থা

এই ড্রোন মোকাবিলায় উপসাগরীয় দেশগুলোকে ব্যবহার করতে হচ্ছে অত্যন্ত ব্যয়বহুল ক্ষেপণাস্ত্র ও যুদ্ধবিমান। একটি ড্রোন ধ্বংস করতে যে খরচ হচ্ছে, তা ড্রোনের মূল্যের তুলনায় অনেক বেশি। ফলে এটি অর্থনৈতিক দিক থেকেও বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠেছে।

ছড়িয়ে পড়া উৎপাদনই বড় উদ্বেগ

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই ড্রোন উৎপাদন এখন বিকেন্দ্রীকৃত হয়ে গেছে। বড় কারখানার ওপর নির্ভরতা কমে যাওয়ায় যেকোনো জায়গা থেকেই উৎপাদন সম্ভব। এমনকি অন্য দেশ থেকেও সহায়তা পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

ফলে শুধু হামলা চালিয়ে উৎপাদন বন্ধ করা সম্ভব নয়। বরং এটি দীর্ঘমেয়াদি নিরাপত্তা সংকট তৈরি করছে।

যুদ্ধের কৌশলে বড় পরিবর্তন

এই ড্রোনগুলো শুধু সামরিক ঘাঁটি নয়, জ্বালানি অবকাঠামো ও বাণিজ্যিক রুটকেও লক্ষ্য করছে। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালীতে এর প্রভাব পড়ছে, যা বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারের জন্য উদ্বেগের কারণ।

বিশ্লেষকদের মতে, ইরান সরাসরি শক্তির লড়াইয়ে না গিয়ে প্রযুক্তি ও কৌশল বদলে যুদ্ধের নতুন ধারা তৈরি করেছে।