মার্কিন প্রশাসনের গুরুত্বপূর্ণ জনস্বাস্থ্য সংস্থা সিডিসির স্থায়ী পরিচালক নিয়োগ নিয়ে অনিশ্চয়তা আরও গভীর হয়েছে। নতুন প্রধান নিয়োগের প্রক্রিয়া আপাতত স্থগিত রেখে উপযুক্ত প্রার্থী খোঁজার কাজ চালিয়ে যাচ্ছে হোয়াইট হাউস, যা ইতোমধ্যেই স্বাস্থ্যখাতে রাজনৈতিক ও নীতিগত জটিলতাকে আরও স্পষ্ট করে তুলেছে।
দায়িত্বে থাকছেন, কিন্তু পদবিহীন
বর্তমানে সংস্থাটির দায়িত্ব পালন করছেন জে ভট্টাচার্য, যিনি গত মাস থেকে অস্থায়ী প্রধান হিসেবে কাজ করছিলেন। তবে নির্দিষ্ট সময়সীমা শেষ হওয়ায় তিনি আর আনুষ্ঠানিকভাবে সেই পদবি ব্যবহার করতে পারবেন না। তবুও তিনি সংস্থার কার্যক্রম তদারকি চালিয়ে যাবেন, যা প্রশাসনের একধরনের অন্তর্বর্তী সমাধান হিসেবে দেখা হচ্ছে।
নিয়োগে বিলম্বের পেছনে রাজনৈতিক চাপ
প্রশাসনের ভেতরে এবং বাইরে স্বাস্থ্যনীতি নিয়ে বিতর্ক ক্রমেই তীব্র হচ্ছে। বিশেষ করে টিকানীতিতে পরিবর্তন, জনস্বাস্থ্য নির্দেশনায় হঠাৎ সিদ্ধান্ত এবং রাজনৈতিক প্রভাব নিয়ে প্রশ্ন ওঠায় নতুন পরিচালক নিয়োগে সতর্ক অবস্থান নিয়েছে কর্তৃপক্ষ। সামনে নির্বাচন থাকায় ভোটারদের প্রতিক্রিয়াও বড় বিবেচ্য বিষয় হয়ে উঠেছে।
সম্ভাব্য প্রার্থী তালিকায় একাধিক নাম
প্রশাসনের বিবেচনায় কয়েকজন সম্ভাব্য প্রার্থী রয়েছেন, যাদের মধ্যে সাবেক রাজ্য গভর্নর, স্বাস্থ্য প্রশাসক এবং চিকিৎসা বিশেষজ্ঞদের নাম উঠে এসেছে। তবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে সময় নেওয়া হচ্ছে, যাতে ভবিষ্যতে কোনো বিতর্ক বা বিরোধ তৈরি না হয়।
সংস্থার ভেতরে সংকট বাড়ছে
এদিকে সিডিসির ভেতরে নেতৃত্বের শূন্যতা দীর্ঘায়িত হওয়ায় কার্যক্রমে প্রভাব পড়ছে। হামসহ বিভিন্ন সংক্রামক রোগের বিস্তার, কর্মীসংকট এবং নীতিগত পরিবর্তনের চাপ সংস্থার সক্ষমতাকে দুর্বল করে তুলছে। বহু কর্মী অবসর, ছাঁটাই বা স্বেচ্ছায় চাকরি ছেড়ে যাওয়ায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়েছে।

টিকা নীতিতে পরিবর্তন ঘিরে বিতর্ক
টিকা সংক্রান্ত পরামর্শক কমিটি পুনর্গঠন এবং শিশুদের টিকাসূচিতে পরিবর্তন নিয়ে তীব্র সমালোচনা তৈরি হয়েছে। একটি ফেডারেল আদালত সাময়িকভাবে এসব পরিবর্তনে স্থগিতাদেশ দিয়েছে, যা পুরো প্রক্রিয়াকে অনিশ্চয়তার মধ্যে ফেলেছে।
বিশেষজ্ঞদের উদ্বেগ বাড়ছে
জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, রাজনৈতিক প্রভাব বাড়তে থাকলে সংস্থার বৈজ্ঞানিক স্বাধীনতা ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। দীর্ঘদিনের নীতিমালা থেকে সরে এসে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করলে ভবিষ্যতে জনস্বাস্থ্যের ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করা হচ্ছে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















