ইউক্রেনজুড়ে একের পর এক ভয়াবহ ড্রোন হামলা চালিয়ে পরিস্থিতি নতুন করে জটিল করে তুলেছে রাশিয়া। মাত্র দুই দিনের ব্যবধানে হাজারের বেশি ড্রোন হামলায় নিহত হয়েছেন অন্তত আটজন, আহত প্রায় একশ জন। যুদ্ধক্ষেত্রের বাইরে পশ্চিমাঞ্চল পর্যন্ত হামলা ছড়িয়ে পড়ায় আতঙ্ক আরও বেড়েছে।
যুদ্ধের নতুন মোড়
সাম্প্রতিক এই হামলাগুলোকে রাশিয়ার অন্যতম বৃহত্তম একদিনের ড্রোন আক্রমণ হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। ইউক্রেনের প্রতিরক্ষা সূত্র জানায়, ছোঁড়া ড্রোনের প্রায় চুরানব্বই শতাংশ প্রতিহত করা সম্ভব হলেও আঘাতের তীব্রতা কমেনি।
একই সময় পশ্চিমা বিশ্বের দৃষ্টি মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতে সরে যাওয়ায় ইউক্রেন যুদ্ধ নতুন করে চাপের মুখে পড়েছে। ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি জানিয়েছেন, এই পরিস্থিতি রাশিয়াকে আরও আত্মবিশ্বাসী করে তুলেছে এবং যুদ্ধের সমাপ্তি আরও অনিশ্চিত হয়ে উঠেছে।

তিন ধাপে বিধ্বংসী হামলা
সোমবার রাত থেকে শুরু হয়ে তিন দফায় বড় আকারে হামলা চালায় রাশিয়া। প্রথম ধাপে শত শত ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র ছোঁড়া হয়। এরপর দিনের আলোয় বিরল হামলায় আরও পাঁচ শতাধিক ড্রোন বিভিন্ন শহরে আঘাত হানে। পশ্চিমাঞ্চলের লভিভ শহর, যা আগে তুলনামূলকভাবে নিরাপদ ছিল, সেখানেও হামলা চালানো হয়।
ঐতিহাসিক স্থাপনা ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যবাহী এলাকাও এই হামলা থেকে রক্ষা পায়নি। আগুন ও ধোঁয়ায় ঢেকে যায় শহরের কেন্দ্রস্থল।
হতাহতের মর্মান্তিক চিত্র
এই হামলায় নিহতদের মধ্যে একটি হাসপাতালের ভেতরে থাকা বাবা ও মেয়ের মৃত্যু বিশেষভাবে হৃদয়বিদারক। যুদ্ধের বিস্তার এখন সাধারণ মানুষের জীবনে সরাসরি আঘাত হানছে।
পাল্টা জবাব ইউক্রেনের

রাশিয়ার হামলার জবাবে ইউক্রেনও পাল্টা আঘাত হেনেছে। রাশিয়ার গুরুত্বপূর্ণ তেল বন্দরগুলোতে ড্রোন হামলা চালিয়ে জ্বালানি অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত করা হয়েছে। এতে আগুন ধরে যায় তেলের ট্যাংক ও সংরক্ষণাগারে।
বিশ্লেষকরা বলছেন, রাশিয়ার তেল রপ্তানি আয়ে আঘাত করা ইউক্রেনের কৌশলগত লক্ষ্য, কারণ এই আয়ই যুদ্ধ পরিচালনায় বড় ভূমিকা রাখে।
তেলের রাজনীতি ও বৈশ্বিক প্রভাব
মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতের কারণে তেলের দাম বেড়ে যাওয়ায় যুক্তরাষ্ট্র রাশিয়ার তেল রপ্তানির ওপর কিছু নিষেধাজ্ঞা শিথিল করেছে। এতে রাশিয়ার আয় বেড়ে গেছে, যা যুদ্ধকে আরও দীর্ঘায়িত করতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
জেলেনস্কির বক্তব্যে স্পষ্ট, আন্তর্জাতিক চাপ ছাড়া রাশিয়াকে পিছু হটানো কঠিন। ফলে যুদ্ধ আরও দীর্ঘস্থায়ী হওয়ার আশঙ্কা বাড়ছে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















