০৩:১১ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ৩০ অগাস্ট ২০২৬
কিশোরদের মানসিক আশ্রয় যখন এআই: সহায়ক প্রযুক্তি নাকি নতুন ঝুঁকি? নেপালের মরদেহ শনাক্ত সংকট: এখনো নিখোঁজ ২,৪২৬ জন; ৫১৭ বিদেশি নাগরিক রাজধানীতে গ্যাস সংকট তীব্র, ৪০-৫০ টাকার গ্যাসের জন্য ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা রংপুরে অটোরিকশাচালককে গলা কেটে হত্যা, নিখোঁজ গাড়ি উদ্ধারে অভিযান ঢাকার যানজট কমাতে ৪ মাসের সময়সীমা, করওয়ান বাজারের কাঁচাবাজার যাবে গাবতলীতে ক্যানসারের ঝুঁকি কমাতে এখন থেকেই মানুন ৫টি সহজ অভ্যাস নিজ দলের কর্মীর সঙ্গে বিরোধ, মারধরের পর যুবদল নেতার মৃত্যু একই দিনে মনপুরার ৩ শিশু নিখোঁজ, উৎকণ্ঠায় পরিবার সেমিফাইনালে বাংলাদেশের প্রতিপক্ষ চূড়ান্ত, লড়াই হবে ভিক্টোরিয়ার সঙ্গে নেপাল-তিব্বত সীমান্তের বন্যায় নিখোঁজ বন্ধু, ভেসে গেল গ্ল্যান্সির পরিচিত গ্রাম

৮১ বছর পর ফিলিপাইনে ফিরছে জাপানি যুদ্ধসেনা, ইন্দো-প্যাসিফিকে নিরাপত্তা জোটে বড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর দীর্ঘ ৮১ বছর পেরিয়ে আবারও ফিলিপাইনের মাটিতে পা রাখতে যাচ্ছে জাপানের সশস্ত্র যুদ্ধসেনা। আগামী মাসে যৌথ সামরিক মহড়ার অংশ হিসেবে এই প্রত্যাবর্তন শুধু প্রতীকী নয়, বরং ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলের নিরাপত্তা কাঠামোয় বড় ধরনের কৌশলগত পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে বলে বিশ্লেষকদের মত।

যুদ্ধের স্মৃতি পেরিয়ে নতুন জোট

১৯৪৫ সালে শেষবার জাপানি সেনারা ফিলিপাইনে ছিল, যখন দুই দেশ যুদ্ধের বিপরীত পক্ষে অবস্থান করেছিল। সেই সময়ের ভয়াবহ দখলদারিত্বে বিপুল সংখ্যক ফিলিপিনো প্রাণ হারান। কিন্তু সময়ের সাথে পাল্টেছে সমীকরণ। এখন একই মঞ্চে দাঁড়িয়ে ফিলিপাইন, জাপান, যুক্তরাষ্ট্র ও অস্ট্রেলিয়া যৌথ প্রতিরক্ষা মহড়ায় অংশ নিতে যাচ্ছে।

ফিলিপাইনের সামরিক নেতৃত্ব এই ঘটনাকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে উল্লেখ করেছে। অতীতের বৈরিতা পেরিয়ে নতুন অংশীদারিত্ব এখন আঞ্চলিক নিরাপত্তার নতুন বাস্তবতা তৈরি করছে।

Japanese troops return to the Philippines | East Asia Forum

‘এক থিয়েটার’ ধারণায় নতুন কৌশল

নতুন এই নিরাপত্তা কাঠামোর কেন্দ্রে রয়েছে ‘এক থিয়েটার’ ধারণা, যেখানে দক্ষিণ চীন সাগর, পূর্ব চীন সাগর এবং উত্তর চীন সাগরকে একক যুদ্ধক্ষেত্র হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। এর মাধ্যমে বিচ্ছিন্ন কৌশলের বদলে সমন্বিত প্রতিরক্ষা পরিকল্পনা গ্রহণ করা হচ্ছে।

এই উদ্যোগের আওতায় সাইবার নিরাপত্তা, মহাকাশ প্রযুক্তি, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, জ্বালানি ও খাদ্য নিরাপত্তাকেও প্রতিরক্ষা কৌশলের অংশ করা হচ্ছে। অর্থাৎ যুদ্ধের ক্ষেত্র এখন শুধু স্থল, নৌ ও আকাশে সীমাবদ্ধ নেই; বরং তথ্য, প্রযুক্তি ও মহাকাশেও বিস্তৃত হচ্ছে।

পুরোনো কাঠামো ভেঙে নতুন জোট

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এতদিন ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলের নিরাপত্তা কাঠামো ছিল দ্বিপাক্ষিক ‘হাব-অ্যান্ড-স্পোক’ মডেলের ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু এখন তা বদলে গিয়ে একাধিক দেশের সমন্বয়ে গঠিত জোটে রূপ নিচ্ছে, যেখানে অংশীদারিত্বগুলো একে অপরের সঙ্গে সংযুক্ত।

এই পরিবর্তনের ফলে মধ্যম শক্তির দেশগুলোও এখন কৌশলগত সিদ্ধান্তে সক্রিয় ভূমিকা রাখতে পারছে, যা আগে তুলনামূলকভাবে সীমিত ছিল।

Japanese combat troops to return to Philippines in 'significant' Indo-Pacific  defence shift | South China Morning Post

জাপানের সামরিক কৌশলে পরিবর্তন

জাপান সাম্প্রতিক বছরগুলোতে নিজেদের প্রতিরক্ষা নীতি পুনর্গঠন করেছে। তারা এখন শুধু প্রতিরক্ষা নয়, বরং আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করতে সক্রিয় অংশীদার হিসেবে ভূমিকা রাখতে চাইছে।

ফিলিপাইনের সঙ্গে সামরিক সহযোগিতা চুক্তি, যৌথ মহড়া এবং সরঞ্জাম সহায়তা এই পরিবর্তনেরই অংশ। এর মাধ্যমে জাপান ধীরে ধীরে একটি শক্তিশালী নিরাপত্তা অংশীদার হিসেবে নিজেদের প্রতিষ্ঠা করছে।

ভবিষ্যতের ইঙ্গিত

বিশ্লেষকদের মতে, এই নতুন জোট কাঠামো ভবিষ্যতে আরও বিস্তৃত হতে পারে, যেখানে দক্ষিণ কোরিয়া ও ভারতের মতো দেশও যুক্ত হতে পারে।

তবে এখনও কিছু চ্যালেঞ্জ রয়ে গেছে, বিশেষ করে প্রযুক্তিগত সমন্বয়, প্রতিরক্ষা শিল্প সহযোগিতা এবং দ্রুত বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে। তবুও এই উদ্যোগ ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলের নিরাপত্তা রাজনীতিতে একটি বড় পরিবর্তনের সূচনা হিসেবে দেখা হচ্ছে।

জনপ্রিয় সংবাদ

কিশোরদের মানসিক আশ্রয় যখন এআই: সহায়ক প্রযুক্তি নাকি নতুন ঝুঁকি?

৮১ বছর পর ফিলিপাইনে ফিরছে জাপানি যুদ্ধসেনা, ইন্দো-প্যাসিফিকে নিরাপত্তা জোটে বড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত

০৪:২৬:০৬ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৭ মার্চ ২০২৬

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর দীর্ঘ ৮১ বছর পেরিয়ে আবারও ফিলিপাইনের মাটিতে পা রাখতে যাচ্ছে জাপানের সশস্ত্র যুদ্ধসেনা। আগামী মাসে যৌথ সামরিক মহড়ার অংশ হিসেবে এই প্রত্যাবর্তন শুধু প্রতীকী নয়, বরং ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলের নিরাপত্তা কাঠামোয় বড় ধরনের কৌশলগত পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে বলে বিশ্লেষকদের মত।

যুদ্ধের স্মৃতি পেরিয়ে নতুন জোট

১৯৪৫ সালে শেষবার জাপানি সেনারা ফিলিপাইনে ছিল, যখন দুই দেশ যুদ্ধের বিপরীত পক্ষে অবস্থান করেছিল। সেই সময়ের ভয়াবহ দখলদারিত্বে বিপুল সংখ্যক ফিলিপিনো প্রাণ হারান। কিন্তু সময়ের সাথে পাল্টেছে সমীকরণ। এখন একই মঞ্চে দাঁড়িয়ে ফিলিপাইন, জাপান, যুক্তরাষ্ট্র ও অস্ট্রেলিয়া যৌথ প্রতিরক্ষা মহড়ায় অংশ নিতে যাচ্ছে।

ফিলিপাইনের সামরিক নেতৃত্ব এই ঘটনাকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে উল্লেখ করেছে। অতীতের বৈরিতা পেরিয়ে নতুন অংশীদারিত্ব এখন আঞ্চলিক নিরাপত্তার নতুন বাস্তবতা তৈরি করছে।

Japanese troops return to the Philippines | East Asia Forum

‘এক থিয়েটার’ ধারণায় নতুন কৌশল

নতুন এই নিরাপত্তা কাঠামোর কেন্দ্রে রয়েছে ‘এক থিয়েটার’ ধারণা, যেখানে দক্ষিণ চীন সাগর, পূর্ব চীন সাগর এবং উত্তর চীন সাগরকে একক যুদ্ধক্ষেত্র হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। এর মাধ্যমে বিচ্ছিন্ন কৌশলের বদলে সমন্বিত প্রতিরক্ষা পরিকল্পনা গ্রহণ করা হচ্ছে।

এই উদ্যোগের আওতায় সাইবার নিরাপত্তা, মহাকাশ প্রযুক্তি, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, জ্বালানি ও খাদ্য নিরাপত্তাকেও প্রতিরক্ষা কৌশলের অংশ করা হচ্ছে। অর্থাৎ যুদ্ধের ক্ষেত্র এখন শুধু স্থল, নৌ ও আকাশে সীমাবদ্ধ নেই; বরং তথ্য, প্রযুক্তি ও মহাকাশেও বিস্তৃত হচ্ছে।

পুরোনো কাঠামো ভেঙে নতুন জোট

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এতদিন ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলের নিরাপত্তা কাঠামো ছিল দ্বিপাক্ষিক ‘হাব-অ্যান্ড-স্পোক’ মডেলের ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু এখন তা বদলে গিয়ে একাধিক দেশের সমন্বয়ে গঠিত জোটে রূপ নিচ্ছে, যেখানে অংশীদারিত্বগুলো একে অপরের সঙ্গে সংযুক্ত।

এই পরিবর্তনের ফলে মধ্যম শক্তির দেশগুলোও এখন কৌশলগত সিদ্ধান্তে সক্রিয় ভূমিকা রাখতে পারছে, যা আগে তুলনামূলকভাবে সীমিত ছিল।

Japanese combat troops to return to Philippines in 'significant' Indo-Pacific  defence shift | South China Morning Post

জাপানের সামরিক কৌশলে পরিবর্তন

জাপান সাম্প্রতিক বছরগুলোতে নিজেদের প্রতিরক্ষা নীতি পুনর্গঠন করেছে। তারা এখন শুধু প্রতিরক্ষা নয়, বরং আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করতে সক্রিয় অংশীদার হিসেবে ভূমিকা রাখতে চাইছে।

ফিলিপাইনের সঙ্গে সামরিক সহযোগিতা চুক্তি, যৌথ মহড়া এবং সরঞ্জাম সহায়তা এই পরিবর্তনেরই অংশ। এর মাধ্যমে জাপান ধীরে ধীরে একটি শক্তিশালী নিরাপত্তা অংশীদার হিসেবে নিজেদের প্রতিষ্ঠা করছে।

ভবিষ্যতের ইঙ্গিত

বিশ্লেষকদের মতে, এই নতুন জোট কাঠামো ভবিষ্যতে আরও বিস্তৃত হতে পারে, যেখানে দক্ষিণ কোরিয়া ও ভারতের মতো দেশও যুক্ত হতে পারে।

তবে এখনও কিছু চ্যালেঞ্জ রয়ে গেছে, বিশেষ করে প্রযুক্তিগত সমন্বয়, প্রতিরক্ষা শিল্প সহযোগিতা এবং দ্রুত বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে। তবুও এই উদ্যোগ ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলের নিরাপত্তা রাজনীতিতে একটি বড় পরিবর্তনের সূচনা হিসেবে দেখা হচ্ছে।