শিপমেন্ট বিপর্যয়ে মজুদ বিপজ্জনকভাবে কমছে
ইরান যুদ্ধের জেরে হরমুজ প্রণালির অবরোধ বাংলাদেশের জ্বালানি পরিস্থিতিকে গভীর সংকটে ফেলেছে। বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন বা বিপিসির তথ্য অনুযায়ী, মার্চের শেষ দিকে দেশে ডিজেলের মজুদ মাত্র ১৪ দিনের সমান। চলতি মাসে দেশে আসার কথা ছিল ১৭টি জ্বালানিবাহী জাহাজ। কিন্তু মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিরতা ও শিপিং বিঘ্নের কারণে মাত্র আটটি জাহাজ দেশে পৌঁছাতে পেরেছে, যেগুলো মোট প্রায় দুই লাখ টন জ্বালানি নিয়ে এসেছে। সারা দেশে বিভিন্ন স্থানে পেট্রোল ও অকটেনের ঘাটতি দেখা দিয়েছে এবং অনেক ফিলিং স্টেশনে “পেট্রোল বিক্রি শেষ” নোটিশ টাঙানো হয়েছে। ২৪ মার্চ ঢাকার বিজয় সরণিসহ বিভিন্ন এলাকায় দীর্ঘ মোটরসাইকেলের সারি দেখা গেছে। বিপিসির মার্কেটিং কোম্পানিগুলোর নজরদারি করা হচ্ছে, কারণ কিছু স্টেশন স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি জ্বালানি তুলে নিচ্ছে, যা সরবরাহ শৃঙ্খলে বাড়তি চাপ তৈরি করছে।
ইস্টার্ন রিফাইনারিতে এখন ৮০ হাজার টন অপরিশোধিত তেল মজুদ আছে। প্রতিদিনের পরিশোধন ক্ষমতা সাড়ে চার হাজার টন হিসেবে এই মজুদ আর মাত্র ১৭ থেকে ১৮ দিন চলবে। বার্ষিক হিসেবে বাংলাদেশ সাড়ে ছয় থেকে সাত মিলিয়ন টন জ্বালানি আমদানি করে। এর প্রায় ৮০ শতাংশ আসে পরিশোধিত অবস্থায়, বাকি ২০ শতাংশ অপরিশোধিত তেল আনা হয় মূলত সৌদি আরব ও আরব আমিরাত থেকে। এর বাইরে বাংলাদেশ বার্ষিক প্রায় ছয় মিলিয়ন টন তরল প্রাকৃতিক গ্যাস বা এলএনজি আমদানি করে, যার চার মিলিয়ন টনই আসে কাতার থেকে। সেই কাতারের জ্বালানি অবকাঠামো ইরানি হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, যা বাংলাদেশের গ্যাস সরবরাহকে আরও অনিশ্চিত করে তুলেছে।
বিকল্প সরবরাহের খোঁজে কূটনৈতিক তৎপরতা
সংকট মোকাবেলায় বিপিসি ইতোমধ্যে ইন্দোনেশিয়া থেকে অতিরিক্ত জ্বালানি আমদানির অনুমোদন দিয়েছে। একই সঙ্গে কাজাখস্তান ও নেদারল্যান্ডস থেকে সম্ভাব্য ক্রয়ের বিষয়ে আলোচনা চলছে। রাশিয়া থেকে জরুরি সরবরাহের জন্যও কূটনৈতিক তৎপরতা শুরু হয়েছে, যদিও ট্রানজিট জটিলতা এখনো সমাধান হয়নি। এর আগে সরকার সিঙ্গাপুর, চীন, মালয়েশিয়া ও ইন্দোনেশিয়া থেকে পরিশোধিত জ্বালানি আনার নীতি অনুসরণ করে আসছিল। এই সংকটে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশের এলপিজি আমদানির সবচেয়ে বড় উৎস হয়ে উঠেছে, ২০২৬ সালের প্রথম দুই মাসেই মোট এলপিজি আমদানির প্রায় ৬২ শতাংশ এসেছে যুক্তরাষ্ট্র থেকে। বাংলাদেশ পেট্রোল পাম্প মালিক সমিতির সভাপতি সৈয়দ সাজ্জাদুল করিম কাবুল জানিয়েছেন, ডিপো থেকে যে পরিমাণ জ্বালানি সরবরাহ করা হচ্ছে তা বাড়তি চাহিদার তুলনায় অপ্রতুল। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, নতুন শিপমেন্ট নির্ধারিত সময়ে না পৌঁছালে এপ্রিলে পরিস্থিতি আরও গুরুতর হতে পারে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















