০৯:৫১ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৭ মার্চ ২০২৬
ডার্ক ম্যাটার : ব্রাউন ডোয়ার্ফের ভেতরে লুকিয়ে থাকা মহাবিশ্বের অদৃশ্য রহস্য সদরঘাটে লঞ্চের ধাক্কায় মৃত্যু ২, নিখোঁজ আরও ২: ঝড়-বৃষ্টিতে থমকে উদ্ধার অভিযান ইসরায়েলের গ্যাসক্ষেত্রে হামলা: বিশ্ব জ্বালানি বাজারে আতঙ্ক, মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের নতুন বিস্ফোরণ ইরান যুদ্ধের জ্বালানি সংকটে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় পারমাণবিক শক্তির পুনর্জাগরণ ইরান যুদ্ধ: যুক্তরাষ্ট্র কি ইসরায়েলের জন্য, নাকি একসঙ্গে লড়ছে? বাস্তবতার নতুন বিশ্লেষণ মার্কিন নিরাপত্তা কি ভঙ্গুর? ইরান হামলায় উপসাগরীয় দেশগুলোর আস্থার সংকট এইডস চিকিৎসা বন্ধের হুমকি, খনিজ চুক্তিতে চাপ: জাম্বিয়াকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রের নতুন কৌশল জলবায়ু পরিবর্তনের ধাক্কায় কুড়িগ্রামে ব্রহ্মপুত্রের ভয়াবহ ভাঙন, ৮৫০ কোটি টাকার প্রকল্প অনুমোদনের অপেক্ষায় গেট মানির জেরে পটুয়াখালীর বিয়েবাড়িতে সংঘর্ষ, আনন্দের আসর রূপ নিল উত্তেজনায় জুরাইনে বাক্সবন্দি নবজাতকের মরদেহ উদ্ধার, তদন্তে নেমেছে পুলিশ

জ্বালানি সংকটে বাংলাদেশ: মাত্র ১৪ দিনের মজুদ, বিকল্প সরবরাহে কাজাখস্তান ও ইন্দোনেশিয়ার দিকে ঝুঁকছে সরকার

শিপমেন্ট বিপর্যয়ে মজুদ বিপজ্জনকভাবে কমছে

ইরান যুদ্ধের জেরে হরমুজ প্রণালির অবরোধ বাংলাদেশের জ্বালানি পরিস্থিতিকে গভীর সংকটে ফেলেছে। বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন বা বিপিসির তথ্য অনুযায়ী, মার্চের শেষ দিকে দেশে ডিজেলের মজুদ মাত্র ১৪ দিনের সমান। চলতি মাসে দেশে আসার কথা ছিল ১৭টি জ্বালানিবাহী জাহাজ। কিন্তু মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিরতা ও শিপিং বিঘ্নের কারণে মাত্র আটটি জাহাজ দেশে পৌঁছাতে পেরেছে, যেগুলো মোট প্রায় দুই লাখ টন জ্বালানি নিয়ে এসেছে। সারা দেশে বিভিন্ন স্থানে পেট্রোল ও অকটেনের ঘাটতি দেখা দিয়েছে এবং অনেক ফিলিং স্টেশনে “পেট্রোল বিক্রি শেষ” নোটিশ টাঙানো হয়েছে। ২৪ মার্চ ঢাকার বিজয় সরণিসহ বিভিন্ন এলাকায় দীর্ঘ মোটরসাইকেলের সারি দেখা গেছে। বিপিসির মার্কেটিং কোম্পানিগুলোর নজরদারি করা হচ্ছে, কারণ কিছু স্টেশন স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি জ্বালানি তুলে নিচ্ছে, যা সরবরাহ শৃঙ্খলে বাড়তি চাপ তৈরি করছে।

ইস্টার্ন রিফাইনারিতে এখন ৮০ হাজার টন অপরিশোধিত তেল মজুদ আছে। প্রতিদিনের পরিশোধন ক্ষমতা সাড়ে চার হাজার টন হিসেবে এই মজুদ আর মাত্র ১৭ থেকে ১৮ দিন চলবে। বার্ষিক হিসেবে বাংলাদেশ সাড়ে ছয় থেকে সাত মিলিয়ন টন জ্বালানি আমদানি করে। এর প্রায় ৮০ শতাংশ আসে পরিশোধিত অবস্থায়, বাকি ২০ শতাংশ অপরিশোধিত তেল আনা হয় মূলত সৌদি আরব ও আরব আমিরাত থেকে। এর বাইরে বাংলাদেশ বার্ষিক প্রায় ছয় মিলিয়ন টন তরল প্রাকৃতিক গ্যাস বা এলএনজি আমদানি করে, যার চার মিলিয়ন টনই আসে কাতার থেকে। সেই কাতারের জ্বালানি অবকাঠামো ইরানি হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, যা বাংলাদেশের গ্যাস সরবরাহকে আরও অনিশ্চিত করে তুলেছে।

বিকল্প সরবরাহের খোঁজে কূটনৈতিক তৎপরতা

সংকট মোকাবেলায় বিপিসি ইতোমধ্যে ইন্দোনেশিয়া থেকে অতিরিক্ত জ্বালানি আমদানির অনুমোদন দিয়েছে। একই সঙ্গে কাজাখস্তান ও নেদারল্যান্ডস থেকে সম্ভাব্য ক্রয়ের বিষয়ে আলোচনা চলছে। রাশিয়া থেকে জরুরি সরবরাহের জন্যও কূটনৈতিক তৎপরতা শুরু হয়েছে, যদিও ট্রানজিট জটিলতা এখনো সমাধান হয়নি। এর আগে সরকার সিঙ্গাপুর, চীন, মালয়েশিয়া ও ইন্দোনেশিয়া থেকে পরিশোধিত জ্বালানি আনার নীতি অনুসরণ করে আসছিল। এই সংকটে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশের এলপিজি আমদানির সবচেয়ে বড় উৎস হয়ে উঠেছে, ২০২৬ সালের প্রথম দুই মাসেই মোট এলপিজি আমদানির প্রায় ৬২ শতাংশ এসেছে যুক্তরাষ্ট্র থেকে। বাংলাদেশ পেট্রোল পাম্প মালিক সমিতির সভাপতি সৈয়দ সাজ্জাদুল করিম কাবুল জানিয়েছেন, ডিপো থেকে যে পরিমাণ জ্বালানি সরবরাহ করা হচ্ছে তা বাড়তি চাহিদার তুলনায় অপ্রতুল। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, নতুন শিপমেন্ট নির্ধারিত সময়ে না পৌঁছালে এপ্রিলে পরিস্থিতি আরও গুরুতর হতে পারে।

জনপ্রিয় সংবাদ

ডার্ক ম্যাটার : ব্রাউন ডোয়ার্ফের ভেতরে লুকিয়ে থাকা মহাবিশ্বের অদৃশ্য রহস্য

জ্বালানি সংকটে বাংলাদেশ: মাত্র ১৪ দিনের মজুদ, বিকল্প সরবরাহে কাজাখস্তান ও ইন্দোনেশিয়ার দিকে ঝুঁকছে সরকার

০৮:০০:৩৮ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৭ মার্চ ২০২৬

শিপমেন্ট বিপর্যয়ে মজুদ বিপজ্জনকভাবে কমছে

ইরান যুদ্ধের জেরে হরমুজ প্রণালির অবরোধ বাংলাদেশের জ্বালানি পরিস্থিতিকে গভীর সংকটে ফেলেছে। বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন বা বিপিসির তথ্য অনুযায়ী, মার্চের শেষ দিকে দেশে ডিজেলের মজুদ মাত্র ১৪ দিনের সমান। চলতি মাসে দেশে আসার কথা ছিল ১৭টি জ্বালানিবাহী জাহাজ। কিন্তু মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিরতা ও শিপিং বিঘ্নের কারণে মাত্র আটটি জাহাজ দেশে পৌঁছাতে পেরেছে, যেগুলো মোট প্রায় দুই লাখ টন জ্বালানি নিয়ে এসেছে। সারা দেশে বিভিন্ন স্থানে পেট্রোল ও অকটেনের ঘাটতি দেখা দিয়েছে এবং অনেক ফিলিং স্টেশনে “পেট্রোল বিক্রি শেষ” নোটিশ টাঙানো হয়েছে। ২৪ মার্চ ঢাকার বিজয় সরণিসহ বিভিন্ন এলাকায় দীর্ঘ মোটরসাইকেলের সারি দেখা গেছে। বিপিসির মার্কেটিং কোম্পানিগুলোর নজরদারি করা হচ্ছে, কারণ কিছু স্টেশন স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি জ্বালানি তুলে নিচ্ছে, যা সরবরাহ শৃঙ্খলে বাড়তি চাপ তৈরি করছে।

ইস্টার্ন রিফাইনারিতে এখন ৮০ হাজার টন অপরিশোধিত তেল মজুদ আছে। প্রতিদিনের পরিশোধন ক্ষমতা সাড়ে চার হাজার টন হিসেবে এই মজুদ আর মাত্র ১৭ থেকে ১৮ দিন চলবে। বার্ষিক হিসেবে বাংলাদেশ সাড়ে ছয় থেকে সাত মিলিয়ন টন জ্বালানি আমদানি করে। এর প্রায় ৮০ শতাংশ আসে পরিশোধিত অবস্থায়, বাকি ২০ শতাংশ অপরিশোধিত তেল আনা হয় মূলত সৌদি আরব ও আরব আমিরাত থেকে। এর বাইরে বাংলাদেশ বার্ষিক প্রায় ছয় মিলিয়ন টন তরল প্রাকৃতিক গ্যাস বা এলএনজি আমদানি করে, যার চার মিলিয়ন টনই আসে কাতার থেকে। সেই কাতারের জ্বালানি অবকাঠামো ইরানি হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, যা বাংলাদেশের গ্যাস সরবরাহকে আরও অনিশ্চিত করে তুলেছে।

বিকল্প সরবরাহের খোঁজে কূটনৈতিক তৎপরতা

সংকট মোকাবেলায় বিপিসি ইতোমধ্যে ইন্দোনেশিয়া থেকে অতিরিক্ত জ্বালানি আমদানির অনুমোদন দিয়েছে। একই সঙ্গে কাজাখস্তান ও নেদারল্যান্ডস থেকে সম্ভাব্য ক্রয়ের বিষয়ে আলোচনা চলছে। রাশিয়া থেকে জরুরি সরবরাহের জন্যও কূটনৈতিক তৎপরতা শুরু হয়েছে, যদিও ট্রানজিট জটিলতা এখনো সমাধান হয়নি। এর আগে সরকার সিঙ্গাপুর, চীন, মালয়েশিয়া ও ইন্দোনেশিয়া থেকে পরিশোধিত জ্বালানি আনার নীতি অনুসরণ করে আসছিল। এই সংকটে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশের এলপিজি আমদানির সবচেয়ে বড় উৎস হয়ে উঠেছে, ২০২৬ সালের প্রথম দুই মাসেই মোট এলপিজি আমদানির প্রায় ৬২ শতাংশ এসেছে যুক্তরাষ্ট্র থেকে। বাংলাদেশ পেট্রোল পাম্প মালিক সমিতির সভাপতি সৈয়দ সাজ্জাদুল করিম কাবুল জানিয়েছেন, ডিপো থেকে যে পরিমাণ জ্বালানি সরবরাহ করা হচ্ছে তা বাড়তি চাহিদার তুলনায় অপ্রতুল। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, নতুন শিপমেন্ট নির্ধারিত সময়ে না পৌঁছালে এপ্রিলে পরিস্থিতি আরও গুরুতর হতে পারে।