প্রবাসী আয়ের তিনটি বড় ঝুঁকি
মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হলে বাংলাদেশের রেমিট্যান্স আয়ে বড় ধাক্কা আসতে পারে বলে সতর্ক করছেন বিশেষজ্ঞরা। ভয়েস ফর রিফর্মসের সহ-সমন্বয়ক ফাহিম মাশরুর বলেছেন, বর্তমানে বাংলাদেশ প্রতি মাসে প্রায় তিন বিলিয়ন ডলার রেমিট্যান্স পাচ্ছে। যুদ্ধের প্রভাবে যদি এটি আড়াই বিলিয়নে নেমে আসে, তাহলে বার্ষিক ঘাটতি দাঁড়াবে পাঁচ থেকে ছয় বিলিয়ন ডলারে। পলিসি এক্সচেঞ্জ বাংলাদেশের চেয়ারম্যান ড. মাসরুর রেয়াজ বলেছেন, ঝুঁকি মূলত তিনটি চ্যানেলে আসছে। প্রথমত, গালফ কো-অপারেশন কাউন্সিল বা জিসিসি দেশগুলোর অর্থনীতি বিপর্যস্ত হলে সেখানে কর্মরত প্রবাসী বাংলাদেশিরা চাকরি ও আয় হারাবেন। বাংলাদেশের মোট রেমিট্যান্সের ৪৫ শতাংশই আসে জিসিসি দেশগুলো থেকে। দ্বিতীয়ত, আন্তর্জাতিক পেমেন্ট সিস্টেম বিঘ্নিত হলে অর্থ পাঠানোর প্রক্রিয়াও ব্যাহত হতে পারে। তৃতীয়ত, বিমান চলাচল বাধাগ্রস্ত হওয়ায় মধ্যপ্রাচ্যে নতুন কর্মী পাঠানোও কঠিন হয়ে পড়েছে। বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস ইতোমধ্যে বাহরাইন রুটে ফ্লাইট স্থগিত করেছে।
রেমিট্যান্সের পাশাপাশি রপ্তানিমুখী শিল্প খাতেও সংকট তীব্র হচ্ছে। পোশাক শিল্পের একটি গুরুত্বপূর্ণ কাঁচামাল পলিয়েস্টারের দাম ইতোমধ্যে ৩২ শতাংশ বেড়েছে। এর ফলে প্রতি ইউনিট পোশাক উৎপাদনের খরচ ১০ থেকে ১৫ সেন্ট বেড়ে যাচ্ছে। এই মূল্যবৃদ্ধি আন্তর্জাতিক ক্রেতাদের অর্ডার বাতিল বা অন্যত্র সরিয়ে নেওয়ার ঝুঁকি তৈরি করছে। বিজিএমইএর সভাপতি মাহমুদ হাসান খান বলেছেন, অনেক কারখানা বিদ্যুৎ বিভ্রাটের সময় ডিজেল চালিত জেনারেটরে চলে, কিন্তু এখন পর্যাপ্ত ডিজেল পাওয়াই কঠিন হয়ে পড়েছে। বিদ্যুৎ কাটা প্রতিদিন পাঁচ ঘণ্টা পর্যন্ত পৌঁছেছে, যা যুদ্ধ শুরুর আগের তুলনায় দ্বিগুণ।
বাংলাদেশের কৌশলগত সংস্কারের সুযোগ
প্রথম আলোতে প্রকাশিত একটি বিশ্লেষণে আন্তর্জাতিক বিশ্ববিদ্যালয় অব বিজনেস অ্যাগ্রিকালচার অ্যান্ড টেকনোলজির অর্থনীতির অধ্যাপক ড. গোলাম রাসুল লিখেছেন, ইরান যুদ্ধ হাজার মাইল দূরে হলেও তার অর্থনৈতিক আঘাত বাংলাদেশে পৌঁছে গেছে। তিনি বলেছেন, এই সংকট শুধু হুমকি নয়, সংস্কারের সুযোগও। করের ভিত্তি প্রসারিত করা, ভর্তুকি লক্ষ্যভিত্তিক করা, নবায়নযোগ্য শক্তিতে বিনিয়োগ বাড়ানো এবং শ্রমবাজার বৈচিত্র্যময় করার উদ্যোগ এখনই নিতে হবে। বাংলাদেশ নভেম্বর ২০২৬-এ স্বল্পোন্নত দেশের তালিকা থেকে বের হওয়ার কথা, যা এই মুহূর্তে আর্থিক শৃঙ্খলা ও অর্থনৈতিক স্থিতিস্থাপকতাকে আরও গুরুত্বপূর্ণ করে তুলেছে। বিশ্বব্যাংকের সাবেক প্রধান অর্থনীতিবিদ জাহিদ হোসেন বলেছেন, বাহ্যিক খাত, আর্থিক খাত ও জ্বালানি সরবরাহের সম্মিলিত প্রভাব শেষ পর্যন্ত প্রবৃদ্ধি, কর্মসংস্থান ও মজুরিতে গিয়ে পড়বে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















