১২:৪১ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৮ মার্চ ২০২৬
ভারতে পেট্রোল-ডিজেলে শুল্ক কমল, তবে ক্রেতাদের কিনতে হবে পুরোনো দামেই ইরান যুদ্ধের কারণে বাংলাদেশে সার সংকটের শঙ্কা কতটা? ব্রডওয়েতে বিতর্কিত লেখককে নতুন করে দেখা: মঞ্চে উঠে এল এক অস্বস্তিকর সত্য কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার চাহিদায় ইরান যুদ্ধের ধাক্কা সামলে চীনের বাণিজ্য এগিয়ে চলছে ৩ মাসে বিদেশি ঋণ বেড়ে ১৩০ কোটি ডলার, আবার চাপে অর্থনীতি যুক্তরাষ্ট্রে জনসংখ্যা কমছে: লস অ্যাঞ্জেলেস, মায়ামিতে পতন, অভিবাসন নীতির বড় প্রভাব ড্রোন যুদ্ধের নতুন বাস্তবতা: রাশিয়ার কৌশল শিখে ইরানের প্রস্তুতি, বদলে যাচ্ছে মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধচিত্র যুদ্ধের তিন সপ্তাহেই বিপুল ক্ষতি: মার্কিন সামরিক সম্পদ হারানোর হিসাব চমকে দিচ্ছে জ্বালানি দামের ধাক্কায় বিশ্ব অর্থনীতি চাপে, ঋণের বোঝায় সীমায় পৌঁছাচ্ছে সরকারগুলো মরুভূমিতে স্কি স্বপ্ন ভেঙে গেল: সৌদি আরবের ট্রোজেনা প্রকল্পে বড় ধাক্কা

ইরান থেকে পালানোর পথ তুরস্ক সীমান্ত: অন্তহীন যুদ্ধের ক্লান্তি আর মানুষের বেঁচে থাকার লড়াই

ইরানে চলমান যুদ্ধের ভয়াবহতা থেকে সাময়িক মুক্তির আশায় হাজারো মানুষ ভিড় করছেন তুরস্ক সীমান্তে। বোমা, আতঙ্ক আর অনিশ্চয়তার মধ্যেও তারা বেঁচে থাকার একটুখানি স্বস্তি খুঁজছেন সীমান্ত পেরিয়ে।

সীমান্ত যেন আরেকটি পৃথিবীর দরজা

তুরস্কের কাপিকয় সীমান্ত এখন ইরানিদের কাছে শুধু একটি প্রবেশপথ নয়, বরং এক ভিন্ন বাস্তবতার দরজা। যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে প্রতিদিন হাজার হাজার মানুষ এই পথ দিয়ে যাতায়াত করছেন। কেউ দেশ ছাড়ছেন, কেউ আবার ফিরে যাচ্ছেন পরিবার ও দেশের পাশে দাঁড়াতে।

সীমান্ত পেরিয়েই বদলে যায় পরিবেশ। ইরানের দিক থেকে আসা মানুষদের মুখে স্বস্তির নিঃশ্বাস, আর যারা ঢুকছেন, তাদের চোখে ভয় আর অনিশ্চয়তা স্পষ্ট।

Ground, Windows And Our Hearts Were Shaking': Tehran Residents Recall Night Of Heavy Bombing | World News - News18

বোমা আর আতঙ্কে ভরা প্রতিদিন

তেহরানে বসবাসকারী এক ব্যবসায়ী জানান, প্রতিরাতে ৫০ থেকে ১০০ বার পর্যন্ত বোমা হামলা হয়েছে। তিনি বলেন, ঘরে হাঁটাচলাও ছিল ঝুঁকিপূর্ণ, এমনকি ঘুমাতে গেলেও নিশ্চিত ছিলেন না যে সকালে বেঁচে উঠবেন কিনা।

এই বাস্তবতা থেকে পালিয়ে কেউ কেউ বিদেশে যাচ্ছেন, আবার অনেকেই পরিবারকে রেখে যেতে বাধ্য হচ্ছেন কঠিন সিদ্ধান্তে।

সাময়িক মুক্তির খোঁজে ভান শহর

তুরস্কের ভান শহর এখন ইরানিদের জন্য এক স্বস্তির জায়গা। এখানে এসে তারা কিছুটা সময়ের জন্য যুদ্ধ ভুলে থাকতে চান। রেস্তোরাঁ, ক্যাফে আর স্বাভাবিক জীবনের ছোঁয়া তাদের কাছে অমূল্য হয়ে উঠেছে।

তবে অনেকে দীর্ঘমেয়াদে দেশ ছাড়ার পরিকল্পনাও করছেন, পড়াশোনা বা কাজের সুযোগ নিয়ে বিদেশে স্থায়ী হওয়ার চেষ্টা চলছে।

বিভক্ত মতামত, অনিশ্চিত ভবিষ্যৎ

Rage. Grief. Anxiety. The New Mood in Iran. - The New York Times

ইরানের ভবিষ্যৎ নিয়ে মানুষের মধ্যে গভীর বিভাজন রয়েছে। কেউ বর্তমান শাসনব্যবস্থার পতন চান, কেউ আবার মনে করেন যুদ্ধ দেশকে আরও শক্তিশালী করবে।

একজন সফটওয়্যার প্রকৌশলী বলেন, যুদ্ধের পর ইরান আরও প্রভাবশালী হয়ে উঠবে। অন্যদিকে আরেকজন নারী মনে করেন, এই যুদ্ধের কোনো শেষ নেই।

যুদ্ধের মধ্যেও স্বাভাবিকতার চেষ্টা

দেশের ভেতরে দোকানপাট খোলা থাকলেও দ্রব্যমূল্য বাড়ছে এবং জ্বালানির সংকট শুরু হয়েছে। অনেকেই রাজধানী তেহরান ছেড়ে নিরাপদ জায়গায় চলে যাচ্ছেন।

শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ, অনলাইনে সীমিত ক্লাস চলছে। শিক্ষকরা শিক্ষার্থীদের মানসিকভাবে স্থির রাখার চেষ্টা করছেন, কিন্তু ভয় ও চাপ ক্রমেই বাড়ছে।

স্বাধীনতার আকাঙ্ক্ষা সবচেয়ে বড়

Iranians in Turkey watch unrest at home with fear, frustration - Turkish Minute

অনেক ইরানির কাছে রাজনৈতিক মতাদর্শ নয়, বরং ব্যক্তিগত স্বাধীনতাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। তারা চান স্বাভাবিক জীবন, মত প্রকাশের স্বাধীনতা এবং বৈশ্বিকভাবে সম্মানজনক অবস্থান।

একজন তরুণ ব্যবসায়ী বলেন, তিনি শুধু চান নিজের অধিকার, নারীদের স্বাধীনতা এবং এমন একটি দেশ যেখানে পাসপোর্টের মূল্য থাকবে।

যুদ্ধের মধ্যেও জীবন থেমে নেই

সবকিছুর পরও মানুষ জীবন চালিয়ে যাচ্ছেন। অফিস খোলা, কাজ চলছে, পরিবারগুলো নিজেদের মতো করে টিকে থাকার চেষ্টা করছে।

তবে এই চলমান বাস্তবতার ভেতরেই লুকিয়ে আছে গভীর ক্লান্তি, ভয় এবং এক অজানা ভবিষ্যতের আশঙ্কা।

Some celebration, deep uncertainty in Iran after strikes and leader's death | AP News

 

At Turkish border town, Iranians seek respite from 'endless' war at home | The Straits Times

 

 

 

 

জনপ্রিয় সংবাদ

ভারতে পেট্রোল-ডিজেলে শুল্ক কমল, তবে ক্রেতাদের কিনতে হবে পুরোনো দামেই

ইরান থেকে পালানোর পথ তুরস্ক সীমান্ত: অন্তহীন যুদ্ধের ক্লান্তি আর মানুষের বেঁচে থাকার লড়াই

১০:৫১:৩৭ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৮ মার্চ ২০২৬

ইরানে চলমান যুদ্ধের ভয়াবহতা থেকে সাময়িক মুক্তির আশায় হাজারো মানুষ ভিড় করছেন তুরস্ক সীমান্তে। বোমা, আতঙ্ক আর অনিশ্চয়তার মধ্যেও তারা বেঁচে থাকার একটুখানি স্বস্তি খুঁজছেন সীমান্ত পেরিয়ে।

সীমান্ত যেন আরেকটি পৃথিবীর দরজা

তুরস্কের কাপিকয় সীমান্ত এখন ইরানিদের কাছে শুধু একটি প্রবেশপথ নয়, বরং এক ভিন্ন বাস্তবতার দরজা। যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে প্রতিদিন হাজার হাজার মানুষ এই পথ দিয়ে যাতায়াত করছেন। কেউ দেশ ছাড়ছেন, কেউ আবার ফিরে যাচ্ছেন পরিবার ও দেশের পাশে দাঁড়াতে।

সীমান্ত পেরিয়েই বদলে যায় পরিবেশ। ইরানের দিক থেকে আসা মানুষদের মুখে স্বস্তির নিঃশ্বাস, আর যারা ঢুকছেন, তাদের চোখে ভয় আর অনিশ্চয়তা স্পষ্ট।

Ground, Windows And Our Hearts Were Shaking': Tehran Residents Recall Night Of Heavy Bombing | World News - News18

বোমা আর আতঙ্কে ভরা প্রতিদিন

তেহরানে বসবাসকারী এক ব্যবসায়ী জানান, প্রতিরাতে ৫০ থেকে ১০০ বার পর্যন্ত বোমা হামলা হয়েছে। তিনি বলেন, ঘরে হাঁটাচলাও ছিল ঝুঁকিপূর্ণ, এমনকি ঘুমাতে গেলেও নিশ্চিত ছিলেন না যে সকালে বেঁচে উঠবেন কিনা।

এই বাস্তবতা থেকে পালিয়ে কেউ কেউ বিদেশে যাচ্ছেন, আবার অনেকেই পরিবারকে রেখে যেতে বাধ্য হচ্ছেন কঠিন সিদ্ধান্তে।

সাময়িক মুক্তির খোঁজে ভান শহর

তুরস্কের ভান শহর এখন ইরানিদের জন্য এক স্বস্তির জায়গা। এখানে এসে তারা কিছুটা সময়ের জন্য যুদ্ধ ভুলে থাকতে চান। রেস্তোরাঁ, ক্যাফে আর স্বাভাবিক জীবনের ছোঁয়া তাদের কাছে অমূল্য হয়ে উঠেছে।

তবে অনেকে দীর্ঘমেয়াদে দেশ ছাড়ার পরিকল্পনাও করছেন, পড়াশোনা বা কাজের সুযোগ নিয়ে বিদেশে স্থায়ী হওয়ার চেষ্টা চলছে।

বিভক্ত মতামত, অনিশ্চিত ভবিষ্যৎ

Rage. Grief. Anxiety. The New Mood in Iran. - The New York Times

ইরানের ভবিষ্যৎ নিয়ে মানুষের মধ্যে গভীর বিভাজন রয়েছে। কেউ বর্তমান শাসনব্যবস্থার পতন চান, কেউ আবার মনে করেন যুদ্ধ দেশকে আরও শক্তিশালী করবে।

একজন সফটওয়্যার প্রকৌশলী বলেন, যুদ্ধের পর ইরান আরও প্রভাবশালী হয়ে উঠবে। অন্যদিকে আরেকজন নারী মনে করেন, এই যুদ্ধের কোনো শেষ নেই।

যুদ্ধের মধ্যেও স্বাভাবিকতার চেষ্টা

দেশের ভেতরে দোকানপাট খোলা থাকলেও দ্রব্যমূল্য বাড়ছে এবং জ্বালানির সংকট শুরু হয়েছে। অনেকেই রাজধানী তেহরান ছেড়ে নিরাপদ জায়গায় চলে যাচ্ছেন।

শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ, অনলাইনে সীমিত ক্লাস চলছে। শিক্ষকরা শিক্ষার্থীদের মানসিকভাবে স্থির রাখার চেষ্টা করছেন, কিন্তু ভয় ও চাপ ক্রমেই বাড়ছে।

স্বাধীনতার আকাঙ্ক্ষা সবচেয়ে বড়

Iranians in Turkey watch unrest at home with fear, frustration - Turkish Minute

অনেক ইরানির কাছে রাজনৈতিক মতাদর্শ নয়, বরং ব্যক্তিগত স্বাধীনতাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। তারা চান স্বাভাবিক জীবন, মত প্রকাশের স্বাধীনতা এবং বৈশ্বিকভাবে সম্মানজনক অবস্থান।

একজন তরুণ ব্যবসায়ী বলেন, তিনি শুধু চান নিজের অধিকার, নারীদের স্বাধীনতা এবং এমন একটি দেশ যেখানে পাসপোর্টের মূল্য থাকবে।

যুদ্ধের মধ্যেও জীবন থেমে নেই

সবকিছুর পরও মানুষ জীবন চালিয়ে যাচ্ছেন। অফিস খোলা, কাজ চলছে, পরিবারগুলো নিজেদের মতো করে টিকে থাকার চেষ্টা করছে।

তবে এই চলমান বাস্তবতার ভেতরেই লুকিয়ে আছে গভীর ক্লান্তি, ভয় এবং এক অজানা ভবিষ্যতের আশঙ্কা।

Some celebration, deep uncertainty in Iran after strikes and leader's death | AP News

 

At Turkish border town, Iranians seek respite from 'endless' war at home | The Straits Times