দেশের অর্থনীতিতে আবারও চাপের ইঙ্গিত দিচ্ছে বিদেশি ঋণের ঊর্ধ্বমুখী ধারা। মাত্র তিন মাসের ব্যবধানে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ ঋণ বেড়ে যাওয়ায় ভবিষ্যৎ অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।
তিন মাসে ঋণ বাড়ার হিসাব
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সর্বশেষ পরিসংখ্যান অনুযায়ী, বছরের শেষ নাগাদ সরকারি ও বেসরকারি খাত মিলিয়ে দেশের মোট বিদেশি ঋণ দাঁড়িয়েছে প্রায় ১১৩ দশমিক ৫২ বিলিয়ন ডলার। এর আগে সেপ্টেম্বর শেষে এই পরিমাণ ছিল প্রায় ১১২ দশমিক ২২ বিলিয়ন ডলার। ফলে তিন মাসেই প্রায় ১ দশমিক ৩০ বিলিয়ন ডলার বৃদ্ধি পেয়েছে, যা টাকায় প্রায় ১৩০ কোটি ডলারের সমপরিমাণ। এই দ্রুত বৃদ্ধি অর্থনীতির ওপর বাড়তি চাপ তৈরি করছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

ওঠানামার পর আবার ঊর্ধ্বমুখী ধারা
এর আগে জুন মাসে বিদেশি ঋণের পরিমাণ ছিল প্রায় ১১৩ দশমিক ৫৮ বিলিয়ন ডলার। সেপ্টেম্বরে সামান্য কমলেও বছরের শেষ নাগাদ আবারও ঋণ বাড়তে শুরু করেছে। এই প্রবণতা ইঙ্গিত করছে, সাময়িক কমতির পর আবার ঋণ বৃদ্ধির ধারাই ফিরে এসেছে।
ঋণ বাড়ার পেছনের কারণ
সংশ্লিষ্ট মহলের মতে, উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়ন, আমদানি ব্যয় বৃদ্ধি এবং আর্থিক ঘাটতি পূরণে সরকারি ও বেসরকারি খাতে বৈদেশিক ঋণ নেওয়ার প্রবণতা বেড়েছে। সরকারি খাতে ঋণ বৃদ্ধির হার তুলনামূলক কম হলেও বেসরকারি খাতের চাহিদা মিলিয়ে মোট ঋণের পরিমাণ দ্রুত বাড়ছে।

অর্থনীতিতে সম্ভাব্য প্রভাব
অর্থনীতিবিদরা বলছেন, বিদেশি ঋণ উন্নয়ন কার্যক্রমে গতি আনলেও দীর্ঘমেয়াদে এর পরিশোধের চাপ বাড়ায়। এতে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ, সুদের বোঝা এবং সামগ্রিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে। তাই ঋণ ব্যবস্থাপনায় সতর্কতা জরুরি হয়ে উঠেছে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















