০৩:০১ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৮ মার্চ ২০২৬
ইরানে মৃতের সংখ্যা ১,৯৩৭ ছাড়িয়েছে, আহত ২৪,৮০০ — নিহতদের মধ্যে হাজারের বেশি শিশু ও নারী সৌদি আরবে মার্কিন ঘাঁটিতে ইরানি হামলা: ১২ সেনা আহত, রিফুয়েলার বিমান ক্ষতিগ্রস্ত তেল আবিবে ইরানি ক্ষেপণাস্ত্রে একজন নিহত, ক্লাস্টার বোমা শহরের আকাশে বিস্ফোরিত হুথিরা যুদ্ধে যোগ দিল: ইসরায়েলে প্রথম ক্ষেপণাস্ত্র হামলা কেপপ ও কে-ড্রামার পর এবার বিশ্বমঞ্চে ঝড় তুলছে কে-গেমস, নতুন বাস্তবতায় দক্ষিণ কোরিয়ার গেম বিপ্লব ‘সাসের মৃত্যু’ নিয়ে সতর্কবার্তা—এআই যুগে বদলাতে না পারলে টিকে থাকা কঠিন উন্নত বাজারের অনিশ্চয়তা, উদীয়মান অর্থনীতির মতো আচরণ—বিনিয়োগকারীদের নতুন দুশ্চিন্তা মধ্যপ্রাচ্যের জ্বালানি সংকটে এশিয়ার মুদ্রা চাপে, বাড়ছে বৈশ্বিক অর্থনৈতিক ঝুঁকি  দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় ভিড় বাড়ায় নতুন বাজারে ঝুঁকছে চীনা মিল্ক টি ব্র্যান্ড কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই ইরানে মার্কিন অভিযান শেষ হতে পারে, তবুও চলছেই বিমান হামলা

ইউরোপের ২০ বিলিয়ন ইউরোর ‘ডিজিটাল বিচ্ছেদ’: মার্কিন প্রযুক্তি থেকে দূরত্ব নিচ্ছে ইইউ

নিরাপত্তা ও সার্বভৌমত্বের নামে নতুন ডিজিটাল নীতি

ইউরোপীয় ইউনিয়ন মার্কিন প্রযুক্তি নির্ভরতা থেকে সরে আসার একটি সুস্পষ্ট কৌশলগত পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে। এই পরিকল্পনার কেন্দ্রে রয়েছে ২০ বিলিয়ন ইউরোর একটি প্যাকেজ, যা দিয়ে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) গিগাফ্যাক্টরি স্থাপন, দেশীয় ক্লাউড পরিষেবা তৈরি, সেমিকন্ডাক্টর উৎপাদনে বিকল্প গড়ে তোলা এবং সাইবার নিরাপত্তায় কঠোর দায়বদ্ধতার বিধান চালু করা হবে। বিশ্লেষকরা এই উদ্যোগকে প্রযুক্তি খাতে ইউরোপের সবচেয়ে সাহসী পদক্ষেপ হিসেবে দেখছেন। প্রযুক্তি বিশ্বায়নের যুগে যে নির্বিঘ্নে মার্কিন প্ল্যাটফর্ম ও পরিষেবা ব্যবহার করা হতো, ইউরোপ এখন সেই ধারণাকে নিরাপত্তার ঝুঁকি হিসেবে বিবেচনা করছে।

A digital divide is threatening the transatlantic economy

ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ফন দার লায়েন এর আগেই বলেছিলেন যে ইউরোপ লাতিন আমেরিকা থেকে ইন্দো-প্যাসিফিক পর্যন্ত বিশ্বের অর্থনৈতিক কেন্দ্রগুলোর সঙ্গে সম্পর্ক গড়তে চায়। এই নতুন ডিজিটাল কৌশল সেই বৃহত্তর স্বায়ত্তশাসনের অংশ। ইইউর এআই মহাদেশ কর্মপরিকল্পনা এবং প্রস্তাবিত ক্লাউড ও এআই উন্নয়ন আইন এই পথেই এগোচ্ছে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এআই প্রযুক্তির সুযোগকে ভূ-রাজনৈতিক সারিবদ্ধতার সঙ্গে জুড়ে দিচ্ছে, চীন ডিজিটাল সিল্ক রোডের মাধ্যমে বৈশ্বিক দক্ষিণে প্রযুক্তি ছড়িয়ে দিচ্ছে আর ইউরোপ এখন তৃতীয় একটি পথ নির্মাণ করতে চাইছে।

এই পরিকল্পনার প্রভাব আন্তর্জাতিক প্রযুক্তি বাজারে সুদূরপ্রসারী হতে পারে। ইইউর নিয়মকানুন ইতোমধ্যে সাধারণ তথ্য সুরক্ষা বিধিমালার মাধ্যমে বৈশ্বিক কোম্পানিগুলোর আচরণ বদলে দিয়েছে। এবার এআই এবং ক্লাউড অবকাঠামোতেও একই ধরনের নিয়ন্ত্রণ আসলে মাইক্রোসফট, গুগল, আমাজন এবং অ্যাপলের মতো বড় মার্কিন প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানকে তাদের ইউরোপীয় কার্যক্রম নতুনভাবে সাজাতে হবে। আঞ্চলিক ক্লাউড ও এআই সেবাদাতাদের জন্য এটি একটি বড় সুযোগ হয়ে উঠতে পারে।

How to close Europe's digital divide? | Brookings

ইরান যুদ্ধের কারণে সরবরাহ শৃঙ্খলে যে বিঘ্ন ঘটছে, তা ইউরোপকে প্রযুক্তি স্বনির্ভরতার প্রয়োজনীয়তা আরও জোরালোভাবে অনুভব করিয়েছে। সেমিকন্ডাক্টর ও ডিজিটাল অবকাঠামোকে এখন নিরাপত্তার মতোই কৌশলগত সম্পদ হিসেবে গণ্য করা হচ্ছে। বিশ্লেষকরা বলছেন, ইউরোপ যদি এই পরিকল্পনা পুরোপুরি বাস্তবায়ন করে, তাহলে বৈশ্বিক প্রযুক্তি বাজার আরও বিভক্ত হয়ে পড়বে এবং প্রযুক্তি বিশ্বায়নের সোনালি যুগ আনুষ্ঠানিকভাবে শেষ হয়ে যাবে।

 

জনপ্রিয় সংবাদ

ইরানে মৃতের সংখ্যা ১,৯৩৭ ছাড়িয়েছে, আহত ২৪,৮০০ — নিহতদের মধ্যে হাজারের বেশি শিশু ও নারী

ইউরোপের ২০ বিলিয়ন ইউরোর ‘ডিজিটাল বিচ্ছেদ’: মার্কিন প্রযুক্তি থেকে দূরত্ব নিচ্ছে ইইউ

০১:২২:০৬ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৮ মার্চ ২০২৬

নিরাপত্তা ও সার্বভৌমত্বের নামে নতুন ডিজিটাল নীতি

ইউরোপীয় ইউনিয়ন মার্কিন প্রযুক্তি নির্ভরতা থেকে সরে আসার একটি সুস্পষ্ট কৌশলগত পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে। এই পরিকল্পনার কেন্দ্রে রয়েছে ২০ বিলিয়ন ইউরোর একটি প্যাকেজ, যা দিয়ে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) গিগাফ্যাক্টরি স্থাপন, দেশীয় ক্লাউড পরিষেবা তৈরি, সেমিকন্ডাক্টর উৎপাদনে বিকল্প গড়ে তোলা এবং সাইবার নিরাপত্তায় কঠোর দায়বদ্ধতার বিধান চালু করা হবে। বিশ্লেষকরা এই উদ্যোগকে প্রযুক্তি খাতে ইউরোপের সবচেয়ে সাহসী পদক্ষেপ হিসেবে দেখছেন। প্রযুক্তি বিশ্বায়নের যুগে যে নির্বিঘ্নে মার্কিন প্ল্যাটফর্ম ও পরিষেবা ব্যবহার করা হতো, ইউরোপ এখন সেই ধারণাকে নিরাপত্তার ঝুঁকি হিসেবে বিবেচনা করছে।

A digital divide is threatening the transatlantic economy

ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ফন দার লায়েন এর আগেই বলেছিলেন যে ইউরোপ লাতিন আমেরিকা থেকে ইন্দো-প্যাসিফিক পর্যন্ত বিশ্বের অর্থনৈতিক কেন্দ্রগুলোর সঙ্গে সম্পর্ক গড়তে চায়। এই নতুন ডিজিটাল কৌশল সেই বৃহত্তর স্বায়ত্তশাসনের অংশ। ইইউর এআই মহাদেশ কর্মপরিকল্পনা এবং প্রস্তাবিত ক্লাউড ও এআই উন্নয়ন আইন এই পথেই এগোচ্ছে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এআই প্রযুক্তির সুযোগকে ভূ-রাজনৈতিক সারিবদ্ধতার সঙ্গে জুড়ে দিচ্ছে, চীন ডিজিটাল সিল্ক রোডের মাধ্যমে বৈশ্বিক দক্ষিণে প্রযুক্তি ছড়িয়ে দিচ্ছে আর ইউরোপ এখন তৃতীয় একটি পথ নির্মাণ করতে চাইছে।

এই পরিকল্পনার প্রভাব আন্তর্জাতিক প্রযুক্তি বাজারে সুদূরপ্রসারী হতে পারে। ইইউর নিয়মকানুন ইতোমধ্যে সাধারণ তথ্য সুরক্ষা বিধিমালার মাধ্যমে বৈশ্বিক কোম্পানিগুলোর আচরণ বদলে দিয়েছে। এবার এআই এবং ক্লাউড অবকাঠামোতেও একই ধরনের নিয়ন্ত্রণ আসলে মাইক্রোসফট, গুগল, আমাজন এবং অ্যাপলের মতো বড় মার্কিন প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানকে তাদের ইউরোপীয় কার্যক্রম নতুনভাবে সাজাতে হবে। আঞ্চলিক ক্লাউড ও এআই সেবাদাতাদের জন্য এটি একটি বড় সুযোগ হয়ে উঠতে পারে।

How to close Europe's digital divide? | Brookings

ইরান যুদ্ধের কারণে সরবরাহ শৃঙ্খলে যে বিঘ্ন ঘটছে, তা ইউরোপকে প্রযুক্তি স্বনির্ভরতার প্রয়োজনীয়তা আরও জোরালোভাবে অনুভব করিয়েছে। সেমিকন্ডাক্টর ও ডিজিটাল অবকাঠামোকে এখন নিরাপত্তার মতোই কৌশলগত সম্পদ হিসেবে গণ্য করা হচ্ছে। বিশ্লেষকরা বলছেন, ইউরোপ যদি এই পরিকল্পনা পুরোপুরি বাস্তবায়ন করে, তাহলে বৈশ্বিক প্রযুক্তি বাজার আরও বিভক্ত হয়ে পড়বে এবং প্রযুক্তি বিশ্বায়নের সোনালি যুগ আনুষ্ঠানিকভাবে শেষ হয়ে যাবে।