মহাকাশ অনুসন্ধানে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার নতুন অধ্যায়
নাসার পার্সিভিয়ারেন্স রোভার মঙ্গল গ্রহে প্রথমবারের মতো সম্পূর্ণ কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার পরিকল্পনায় দুটি অভিযান সফলভাবে সম্পন্ন করেছে। অ্যান্থ্রপিকের ক্লড ভিশন-ল্যাঙ্গুয়েজ মডেল ব্যবহার করে রোভারটি কক্ষপথ থেকে তোলা ছবি ও ভূমির তথ্য বিশ্লেষণ করে নিজেই নিরাপদ পথ নির্ধারণ করেছে। দুটি অভিযানে মোট ৪৫৬ মিটার পথ অতিক্রম করা হয়েছে। এতদিন এই পথ পরিকল্পনার কাজটি মানব অপারেটররা ২৮ বছর ধরে হাতে করতেন। নাসা এই মাইলফলককে ভবিষ্যতের মঙ্গল অভিযানে কিলোমিটারব্যাপী স্বায়ত্তশাসিত পরিভ্রমণের দিকে একটি বড় পদক্ষেপ হিসেবে বর্ণনা করেছে।

মঙ্গলে রোভার পরিচালনার সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হলো পৃথিবী ও মঙ্গলের মধ্যে যোগাযোগে সময়ের ব্যবধান। একটি সংকেত পাঠাতে এবং উত্তর পেতে মিলিয়ে কমপক্ষে ৮ থেকে ৪৮ মিনিট লাগতে পারে, দূরত্বের ওপর নির্ভর করে। এই দেরির কারণে মানুষ সরাসরি রোভার নিয়ন্ত্রণ করতে পারেন না। তাই প্রতিটি গতিবিধি পৃথিবীতে বসে পরিকল্পনা করে পাঠাতে হয়। এআই এই সীমাবদ্ধতা অনেকটা দূর করতে পারে। রোভার নিজেই পরিস্থিতি বিশ্লেষণ করে সিদ্ধান্ত নিতে পারলে মানব দলের ওপর নির্ভরতা কমে এবং অভিযানের গতি বহুগুণ বাড়ে।
ক্লড মডেলটি কক্ষপথ থেকে তোলা উপগ্রহ চিত্র এবং মাঠের ভূমিরূপের তথ্য একসঙ্গে বিশ্লেষণ করে রোভারের জন্য নিরাপদ যাত্রাপথ তৈরি করে। এই প্রক্রিয়াটি এতদিন বিশেষজ্ঞ দলের বহু ঘণ্টার কাজের সমতুল্য ছিল। এআই সেটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে করতে পারায় অভিযানের সময় ও সম্পদ দুটোই সাশ্রয় হচ্ছে। নাসার বিজ্ঞানীরা বলছেন, ভবিষ্যতে আরও উন্নত মডেল ব্যবহার করে রোভারকে দীর্ঘ পথে পাঠানো সম্ভব হবে, যেখানে মানব হস্তক্ষেপ ন্যূনতম থাকবে।
মহাকাশ গবেষণায় এআইয়ের এই প্রয়োগ একটি বৃহত্তর প্রবণতার অংশ। সরকার ও বেসরকারি সংস্থাগুলো এআইকে এখন কেবল অফিসের কাজ নয়, মহাকাশ অন্বেষণের মতো চরম পরিবেশের জন্যও উপযুক্ত মনে করছে। নাসার এই সাফল্য প্রমাণ করে যে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা শুধু তাত্ত্বিক পর্যায়ে নেই, এটি এখন বাস্তব অভিযানে নির্ভরযোগ্যভাবে কাজ করছে। ভবিষ্যতে চাঁদ ও মঙ্গলে মানব অভিযানের আগে রোবোটিক স্কাউটিংয়ে এআইয়ের ভূমিকা আরও কেন্দ্রীয় হয়ে উঠবে বলে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন।

সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















